মেইন ম্যেনু

যে ৭ নায়িকা সালমানের কারণে আজ বলিউডে জনপ্রিয়

তিনি বলিউডের ভাইজান। আজ ৫১ বছরে পড়লেন তিনি।

বয়স হয়েছে ঠিকই। কিন্তু, তার ক্রেজ এ কোনো ঘাটতি পড়েনি।

জানেন কি, বি টাউনে নাকি অনেকেরই ‘গড ফাদার’ তিনি। সে সোমি আলি হন বা হালফিলের আথিয়া শেঠি। বলিউডের বেশ কিছু অভিনেত্রীর জীবনে সালমান খান মানেই তাদের ‘মেন্টর’। এদের মধ্যে কাউকে বলিউডে হাত ধরে টেনে এনেছেন সালমান খান আবার কাউকে সিনেমায় নিজের বিপরীতে অভিনয়ের সুযোগ করে দিয়েছেন।

এইসব অভিনেত্রীদের অনেকেই আবার সালমানের সঙ্গে সম্পর্কেও জড়িয়ে পড়েছেন। কারও সম্পর্ক টিকেছে বেশিদিন, আবার কারও সম্পর্ক অচিরেই ভেঙে গিয়েছে। আর তাদের ‘মেন্টর’ হয়েও সালমান কিন্তু রয়ে গিয়েছেন সেই আগের চেহারাতেই। কিন্তু, হালফিলে রোমানিয়ান মডেল লুলিয়ার সঙ্গে বেশ ঘনিষ্ঠতা বেড়েছে সালমানের। এখন দেখা যাক, লুলিয়ার সঙ্গে সালমানের সম্পর্কটা শেষ পর্যন্ত টেকে কি না?

তবে, বি টাউনে যাদের জীবন সালমান গড়ে দিয়েছেন, তাদের বেশ কয়েকজনের নাম শুনলে চমকে যাবেন আপনি। যেমন..

১. ক্যাটরিনা কাইফ : এই তালিকায় সবার ওপরে যার নাম রয়েছে, তিনি হলেন ক্যাটরিনা কাইফ। ব্রিটিশ এবং ভারতীয় বাবা-মায়ের সন্তান ক্যাটরিনা এ দেশে মায়ের সঙ্গে এসেছিলেন। আর এখানে এসে মডেলিং শুরু করে দেন তিনি। হিন্দি না জেনেও ভারতীয় মডেল দুনিয়ায় নাম লিখিয়ে ফেলেন ক্যাটরিনা। আর তারপরই পরিচয় হয় সালমানের সঙ্গে। ক্যাটের প্রথম সিনেমা বুম বি টাউনে মুখ থুবড়ে পড়ে। এরপর সালমানের হাত ধরেই ম্যায়নে পয়ার কিউ কিয়া-তে সুযোগ পেয়ে যান ক্যাটরিনা।

এরপর আর তাকে পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। কিন্তু, আজব প্রেম কী গজব কাহানি করার সময় রণবীর কাপুরের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন ক্যাটরিনা। কিন্তু, সেই সম্পর্কও অবশেষে ভেঙে যায়। বর্তমানে ফের সালমান-ক্যাটরিনাকে একসঙ্গে দেখা যাচ্ছে। যা নিয়ে সংবাদমাধ্যমে তুমুল জল্পনা শুরু হয়েছে।

২. সোনাক্ষী সিনহা : সালমান খানের বিপরীতে দাবাং করেই বি টাউনে নিজের জায়গা পাকাপোক্ত করে নেন শত্রুঘ্ন সিনহার কন্যা। শোনা যায়, দাবাং এর আগে সালমানের বিপরীতে অভিনয় করতে গিয়ে, ভাইজানের নির্দেশ মতই সমস্ত কিছু অনুসরণ করে চলেন সোনাক্ষী। এমনকি ‘ফ্যাট গার্ল’ সোনাক্ষী কে কী করে বলিউডে পাকা জায়গা করে দিতে হয়, সেই পন্থাও বাতলে দেন সালমান। সম্প্রতি, সালমানের বিং হিউমান এর প্রমোশনে বিগ বস এর সেটেও হাজির হন সোনাক্ষী।

৩. জ্যাকলিন ফার্নান্ডেজ : আলাদিন সিনেমায় অভিনয় করে বলিউডে প্রথম অভিষেক হয়েছিল শ্রীলঙ্কান সুন্দরীর। এরপর হাউজফুল ২, মার্ডার ২ করেছেন। সাফল্যও পেয়েছেন। কিন্তু, তার কেরিয়ার গ্রাফ উর্ধমুখী হতে শুরু করে সালমানের সঙ্গে কিক এ অভিনয় করার পর থেকেই। এরপর ‘রয়’ এবং ‘ব্রাদার’ এ অনেক পরিপক্ক জ্যাকলিনকে দেখতে পান দর্শক। সম্প্রতি, জ্যাকলিন জানিয়েছেন, বি টাউনে সালমান খানের মতো কেউ নেই। তাই, যেকোনো অভিনেতার আগে তার কাছে সালমানের জায়গা।

৪. ডেইজি শা : বিখ্যাত কোরিওগ্রাফার গণেশ আচার্যের সহকারী হিসেবে কাজ করতেন ডেইজি শা। এরপর সালমান খান-ই তাকে হাত ধরে বলিউডে প্রথম ডেবিউ করান। সালমান খানের বিপরীতে জয় হো সিনেমায় দেখা যায় ডেইজিকে। ওই সিনেমার পর থেকেই ডেইজি বি টাউনে প্রতিষ্ঠা পেয়ে যান। এরপর ডেইজিকে দক্ষিণের বেশ কিছু সিনেমায় অভিনয় করতে দেখা গিয়েছে। পাশপাশি, হেট স্টোরি থ্রি-তেও বেশ ভালো অভিনয় করেছেন ডেইজি।

৫. জারিন খান : অনেকে বলেন, ক্যাটরিনা কাইফের সঙ্গে ব্রেকআপের পর জারিন খানের সঙ্গে সালমান খানের সঙ্গে বেশ ভালো সম্পর্ক হয়। ভীর এ সালমানের বিপরীতে দেখা যায় জারিনকে। সালমানই জারিন খানকে বি টাউনের অন্যতম নায়িকা করে তোলেন। এরপর হাউজফুল টু এবং হেট স্টোরি থ্রি তেও দেখা যায় জারিনকে। সে যাই হোক না কেন, সালমানকে জারিনের জীবনের গড ফাদার বলা হয়।

৬. আথিয়া শেঠি : তারকা বাবার মেয়ে আথিয়াকে কিন্তু সালমান খানই প্রথম বি টাউনে নিয়ে আসেন। সুরজ পাঞ্চলির বিপরীতে সালমানের হোম প্রোডাশন হিরোতে অভিনয় করেন আথিয়া। এ ক্ষেত্রে শুধু আথিয়া নন, আদিত্য পাঞ্চোলি পুত্র সুরজ পাঞ্চোলিকেও হাত ধরে বি টাউনে নিয়ে আসেন সালমান।

৭. ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন : শেষের এই নামটা শুনে একটু অবাক হচ্ছেন, তাইতো? ভাবছেন তো, যে অভিনেত্রী নিজের সৌন্দর্যে সারা বিশ্বকে মাত করেছেন আর যিনি এখন নিজের জীবন থেকে সালমানকে মুছে ফেলেছেন, তার ক্ষেত্রেও কী করে এই এক সংজ্ঞা প্রযোজ্য?

শুনলে অবাক হবেন, বিশ্ব সুন্দরী ঐশ্বরিয়া বলিউডে অভিনয় শুরু করেন অনেক আগে থেকেই। খেতাব জয় করার পর থেকেই বি টাউনে নিজের পসার জমাতে শুরু করেন। কিন্তু, হাম দিল দে চুকে সনাম-ই ছিল তার জীবনের টার্নিং পয়েন্ট। এরপর থেকে সালমানের সঙ্গে সম্পর্কে যেভাবে জড়িয়েছেন তিনি, তাতে তার টিআরপি আরও উর্ধ্বমুখী হতে শুরু করে। তেমনই, সালমানের সঙ্গে ব্রেকআপও ঐশ্বরিয়াকে কিন্তু আকেবারে লাইম লাইটে নিয়ে আসে। তাই, ঐশ্বরিয়ার জীবনে সালমান কিন্তু ছিলেন টার্নিং পয়েন্ট।