মেইন ম্যেনু

যে ৮টি ভুল এড়িয়ে চলা উচিত তরুণ পেশাজীবীদের

সবে পড়াশোনা শেষ করে কাজে যোগ দিয়েছেন এমন পেশাদারদের জন্য কাজটি একইসঙ্গে যেমন উৎসাহের তেমনি আবার উদ্বেগেরও। তাদের জন্য কর্মক্ষেত্রে যেমন সুযোগ-সুবিধা থাকে তেমনি থাকে হুমকিও। আর অনভিজ্ঞতা এক্ষেত্রে প্রধান অন্তরায়।

তবে মানুষের পক্ষে কী সহজেই পূর্ণাঙ্গ পেশাদার হওয়া সম্ভব? তা নিশ্চয় নয়। খুব তাড়াতাড়ি কর্মজীবনে সত্যিকার অর্থে সফল হওয়ার জন্য কোন সহজ পথ নেই। কর্মজীবন গড়ার পথে নানা উঁচু-নিচু পথ পাড়ি দিতে হয় মানুষকে। তবে তরুণ পেশাদাররা চাইলে সহজেই খুব সাধারণ কয়েকটি ভুল এড়িয়ে চলতে পারে। জেনে নেয়া যাক কীভাবে-

সিদ্ধান্ত গঠনের ক্ষেত্রে বয়সকে অন্তরায় না ভাবা
পেশায় যারা নতুন নিজের সিদ্ধান্ত জানাতে তারা ইতস্তত বোধ করেন। ভাবতে থাকেন তার সিদ্ধান্তটা বিবেচনা করা হবে না। কিন্তু তা না করার মানে হল কর্মক্ষেত্রে নিজের পজিশনকে বড় করে না দেখা। বলা যায়, সিদ্ধান্ত গঠন প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়া কর্মজীবনের দীর্ঘ পথ পাড়ি দেয়ার পথে একটি বড় অর্জন। কর্মজীবনের শুরুতেই ভবিষ্যতের কর্মপন্থা ঠিক করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গঠন
বাণিজ্যিক দুনিয়ায় সফলতা পেতে পেশাগত নেটওয়ার্কিং খুব গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য যতটা সম্ভব বিভিন্ন নেটওয়ার্কিং ইভেন্টে যোগ দেয়ার পাশাপাশি নতুন নতুন মানুষের সঙ্গে মেশা শুরু করতে পারেন তরুণ পেশাদাররা।

অন্যকে সুবিধা দেয়াই হোক জীবনের লক্ষ্য
“দেশ তোমাকে কী দিচ্ছে তা নয়, বরং তুমি দেশকে কী দিচ্ছ তাই হোক তোমার ভাবনা”-এমনটা বলেছিলেন জন.এফ কেনেডি। একইভাবে নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান কী করছে তা না ভেবে ওই প্রতিষ্ঠানের জন্য কী করতে হবে তাই নিয়েই ভাবা উচিত তরুণ পেশাদারদের। একটি বড় প্রতিষ্ঠানে তরুণ পেশাদারদেও অবস্থা হয় বিশাল পুকুরে ছোট মাছের উপস্থিতির মত। তাই সব কর্মীদের তদারকি করা কোম্পানির পক্ষে সম্ভব হয় না। আর তাই চাকরির রিজিউমে কিংবা কাভার লেটারে অন্যকে সুযোগ সুবিধা দেয়ার বিষয়টিই বেশি প্রাধান্য পাওয়া জরুরি।

দ্রুত চাকরি ছেড়ে দেয়া
কেউ যদি মনে করে কর্মক্ষেত্রে যথেষ্ট সুযোগ সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে না, তাহলে চাইলেই সে চাকরি করা ছেড়ে দিতে পারে। এটাই স্বাভাবিক। তবে কাজের ক্ষেত্রে নানা সংকট মোকাবেলার চেয়ে হুটহাট চাকরি ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন অনেকে। যা করা একেবারেই ঠিক নয়।
যেমন অনেক বেশি কঠিন কিংবা বিরক্তিকর কাজ দেখে কেউ হঠাৎ চাকরি ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তা না করে সংকট মোকাবেলা করা অনেক বেশি জরুরি।

নিজেকে সমৃদ্ধ করা
পেশাগত ক্ষেত্রে অর্থ উপার্জন আর মর্যাদা বৃদ্ধির বিষয়টি গোটা দুনিয়াজুড়েই প্রাধান্য পেয়ে থাকে। তবে কর্মজীবনে এগুলোর চেয়ে অনেক বেশি জরুরি কাজ হলো নিজেকে সমৃদ্ধ করা। নতুন নতুন জ্ঞান আরোহণ আর দক্ষতা বাড়ানোর মধ্য দিয়ে নিজেকে সমৃদ্ধ করা সম্ভব। আর যত বেশি জ্ঞানগত সমৃদ্ধি বাড়বে, পরবর্তী সময়ে অনেক ভালো ভালো কাজের সুযোগ পাওয়া সম্ভব হবে।

সব জানি এমনটা না ভাবা
অনেক স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে পাশ করে এসে কর্মজীবন শুরুর পরও সব জেনে ফেলার দাবি করার কোন কারণ নেই। মনে রাখতে হবে পেশাগত দুনিয়ায় না জানা অনেক কিছুই আছে। আর এক্ষেত্রে অন্যের পরামর্শ নেয়া এবং সবার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থাকা খুব দরকার।

পেশাগত লক্ষ্য না থাকা
নিজের বর্তমান পেশাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে পেশাগত লক্ষ্য থাকা খুবই জরুরি। আর তা হতে হবে একেবারে কর্মজীবনের শুরু থেকেই। পাঁচ বছর পরের লক্ষ্য কী কিংবা ১০ বছর পরের লক্ষ্য কী তা তখনই ঠিক করে ফেলতে হবে।

প্রতিযোগিতা
স্কুল কিংবা খেলাধুলার ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা মানুষকে ভালো করার প্রেরণা যোগালেও পেশাগত দুনিয়ায় তা একেবারেই উল্টো। প্রত্যেক ব্যক্তিসত্ত্বারই আলাদা লক্ষ্য, আদর্শ এবং মূল্যবোধ থাকে। অর্থাৎ সবার কর্মজীবন একই হবে এমনটা কথা নেই। নিজের পজিশন, বেতন এসব নিয়ে আশপাশের সবার সঙ্গে নিজের তুলনা করার মানেই হলো আত্মতৃপ্তি না থাকা। যা ক্যারিয়ার গঠনের ক্ষেত্রে খুব জরুরি।

উপরের ভুলগুলো শুধরানোর মাধ্যমে কর্মজীবন একেবারে নিষ্কন্টক হবে এমন কোন ভরসা নেই। তবে হয়তো চলার পথে অনেক বাধাকে দূর করা সম্ভব হতে পারে এর মধ্য দিয়ে।