মেইন ম্যেনু

যৌতুকের টাকা না দেওয়ায় বিয়ে ভেঙে গেল কলেজ ছাত্রীর

লক্ষ্মীপুর: কলেজ ছাত্রী ফাতেমা আক্তার শাহানাজ (১৮) এর হাতে বিয়ের মেহেদিসহ সকল আয়োজন সম্পন্ন করেন পরিবারের লোকজন। চারদিক থেকে দাওয়াতী মেহমানরা বাড়িতে উপস্থিত হয়ে আনন্দে ফেটে পড়ে। কেউ ব্যস্ত কনের হাতে মেহেদী নিয়ে, কেউ ব্যস্ত আনন্দ উৎসবে ও ডেকোরেটরের লোকজন ব্যস্ত ফেন্ডেল ও রান্না-বান্না নিয়ে। সকল আয়োজনও প্রায় শেষ মুহুর্তে। সবাই চাতক পাখির মত তাকিয়ে আছে বর যাত্রীর দিকে। কিন্তু দুপুর ১২টার দিকে বরের পক্ষের একটি ফোনে যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়ে সবার মাথার উপর। আনন্দোময় বাড়িতে কান্নার আহাজারি আর হাতাশা নেমে আশে সকলের মাঝে।

ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার দুপুরে উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নের মাছিমপুর গ্রামের থানা বাড়িতে। শাহানাজ একই এলাকার মুনছুর আহম্মেদের মেয়ে ও গৃদকালিন্দিয়া হাজেরা হাশমত ডিগ্রী কলেজের এইচএসসি ২য় বর্ষের ছাত্রী।

সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নের মাছিমপুর গ্রামের থানা বাড়ির মুনছুর আহাম্মেদের কলেজ পড়ুয়া মেয়ে শাহানাজের সাথে ফরিদগঞ্জ উপজেলার কাওনিয়া এলাকার মোহাম্মদ আলী ব্যপারী বাড়ির মুকবুল আহম্মদের প্রবাস ফেরত ছেলে মহসীন (২৬) এর সাথে প্রায় সপ্তাহ আগে শুক্রবার বিয়ের দিন নির্ধারণ করা হয়। এতে বৃহস্পতিবার রাত থেকে মেয়ে পক্ষ বাড়িতে ২শতাধিক মেহমান থেকে শুরু করে বিয়ের সকল আয়োজন সম্পন্ন করেন। এ সময় সকালে ফোনের মাধ্যমে বিয়ের কনে সাজানো ও লেনদেন নিয়ে বরের বাবার সাথে কনের বাবার কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায় বরের বাবা জানান আমার দাবি না মানলে এ বিয়ে হবেনা। এ খবরে কনের পরিবারে সকলের আনন্দময় মুহুর্তে কান্নার রোল নেমে আসে। এ ঘটনায় বিকাল ৩টা পর্যন্ত স্থানীয় লোকজন বরের বাড়িতে গিয়ে একাধিকবার বৈঠক করেও এ বিয়ের কাজ সম্পন্ন করতে পারেননি। পরে ডেকোরেটরের লোকজন ফেন্ডেল খুলে রান্না-বান্না কার হাড়ি পাতিল নিয়ে যায়। এতে ওই পরিবারের প্রায় ২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানা যায়।

যোগাযোগ করা হলে এ ব্যপারে কনে শাহানাজ বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে বিয়ের জন্য সকল আয়োজন করে নিজ হাতে মেহেদী পরেও বরের দেখা পেলামনা। একন আমার কী হবে। কীভাবে সমাজে আমি ও আমার পরিবার মুখ দেখাবে। তারতো কোন জায়গা রইলোনা ভাই। ভবিষ্যতে আমার কি হবে আমি জানিয়া। এ ঘটনায় বর ও বরের বাবার সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও এ বিষয়ে তারা কোন মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তবে ওই এলাকার স্থানীয় চেয়ারম্যান বিল্লাল হোসেন বিষয়টি শুনের পর ছেলে এবং ছেরের বাবাকে একাধিকরবার বুঝানোর চেষ্টাও তারা না বুঝার কারনে বিয়ের কাজ সম্পন্ন করা যায়নি।

যোগাযোগ করা হলে রামগঞ্জ উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নিবার্হী কর্মকর্তা জনাব মোহাম্মদ রফিকুল হক বলেন যৌতুকের দাবিতে বিয়ে ভাঙ্গার বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। মেয়েটি কলেজ ছাত্রী হওয়ায় তার বয়স আইনগত ভাবে ১৮ বছর সম্পূর্ণ না হওয়ায় আমাদের পক্ষ থেকে তেমন কিছুই করতে পারছিনা। তার পরেও কোন সুযোগ থাকলে সেভাবেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।