মেইন ম্যেনু

যৌন সহিংসতার শিকার হন নারী বিজ্ঞানীরাও

এসটিইএম (STEM) অর্থাৎ সাইন্স টেকনোলজি, ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ম্যাথমেটিক্স এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নারীদের পুরুষদের হয়রানির শিকার হতে হয়। যুক্তরাষ্ট্রে বিজ্ঞান, তথ্য-প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিদের সংক্ষেপে স্টেম বলা হয়। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা যায় এসব ক্ষেত্রে কাজ করা নারীরাও পুরুষদের যৌন হয়রানির শিকার হন।

তবে এখানে তাদের শরীরের রঙ দেখেও হয়রানিই করা হয়। অর্থাৎ এখানেও বর্ণবাদ বিদ্যমান। হার্ভাড বিজনেস রিভিউ এ প্রকাশিত ‘দ্য ফাইভ বায়াসেস পুশিং উইমেন আউট অফ স্টেম’ নামে একটি গবেষণা প্রকাশ করা হয়। ৫৫৭ নারী বিজ্ঞানীদের উপর এ গবেষণা চালানো হয়েছে বলে জানায় গবেষকরা।

গবেষণাটির নামই বলে দেয় নারীদের পাঁচটি প্রতিবন্ধকতার উপরই এ গবেষণাটি চালানো হয়। নারীরা জানায়, তাদেরকে একটি দোলাচলের সুক্ষ্ম দড়ির উপর থাকতে হয়। খুব বেশি নারীসুলভ আচরণ করলে তাকে কেউ যোগ্য মনে করেনা। অপরদিকে নারীসুলভ আচরণ কম থাকলে তাকে কেউ পছন্দও করেনা। এই দুই’য়ের মাঝে সামঞ্জস্য করেই তাদের চলতে হয়।

গবেষণায় একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা চিহিৃত হয়েছে আর তা হলো বর্ণবাদ। দেখা যায়, ৪১ শতাংশ এশিয়ান নারীকে নানা রকম হয়রানির শিকার হতে হয়। অপরদিকে ৮ শতাংশ কালো নারীদেরকেও এই সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।

অন্যান্য নারী যারা এই গবেষণায় অংশ নিয়েছিলেন তারাও লিঙ্গ ও বর্ণ বৈষম্যের শিকার। তারা জানায়, প্রতিনিয়তই যোগ্যতা প্রমাণের জন্য পুরুষ সহকর্মীদের সঙ্গে তাদের যুদ্ধ করতে হয়। তারা বলেন, মানুষ ধরেই নেয় যে নারীরা কাজ করতে পারবে না।

৭৭ শতাংশ কালো নারী জানায় কাজ করার সময় কোনো না কোনোভাবে তাদের পুরুষ সহকর্মী তাদের উপর হয়রানি করার চেষ্টা করে কিংবা অন্যভাবে তাকায়।

তবে কর্নেলস ডিপার্টমেন্ট অফ সাইকোলোজি’র ড্যানিয়েল এন.লি জানান, নারী হলেও তিনি কখনো এমন বিড়ম্বনার মুখামুখি হননি। তার কোনো সহকর্মী হয়তো তার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। কিন্তু বর্ণবাদের ব্যাপারটি তিনি উড়িয়ে দিয়েছেন।

কালো এবং ল্যাটিন নারীরা গবেষকদের জানায় যে সহকর্মীরা তাদের কোনো সামাজিক অনুষ্ঠানে নিমন্ত্রণ জানায় না। তারা সবসময়ই তাদের কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করে।