মেইন ম্যেনু

রক্তসহ ডিমের কুসুম খাওয়া কী নিরাপদ?

অধিকাংশ মানুষের সকালের নাশতায় ডিম থাকে এবং অনেক ধরণের খাবার তৈরিতে ব্যবহার করা হয় ডিম। ডিম ভাঙার পর এর মধ্যে খোসা পড়েছে কিনা বা এর রঙের কোন পরিবর্তন হয়েছে কিনা এটি লক্ষ্য করে দেখলে সংক্রমণ জনিত অসুস্থতা থেকে আপনি রক্ষা পেতে পারেন। ডিমের স্বচ্ছ সাদা অংশ এবং উজ্জ্বল হলুদ কুসুমের মধ্যে হালকা ব্লাড স্পট দেখা গেলে তা অস্বস্তির সৃষ্টি করে এবং চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। মনে প্রশ্ন জাগে এটি খাওয়া নিরাপদ কিনা? বা কীভাবে এর মধ্যে রক্ত এলো? আসুন তাহলে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর জেনে নিই।

কখনো কখনো ডিমের কুসুমের মধ্যে সামান্য রক্তের বা মাংসের চিহ্ন দেখা যায়। কুসুমের মধ্যে দেখা যাওয়া এমন পাতলা রক্তের দাগ ক্ষতিকর নয়। ডিমের গঠনের সময় মুরগীর ডিম্বাশয়ে বা কুসুম থলিতে কৈশিকনালী ফেটে গেলে এমন হতে পারে। এটি নিষিক্ত ডিমকে বুঝায় না।

ডিমের সাদা অংশ বা অ্যালবুমিন যদি গোলাপি বা লাল হয় তাহলে তা নষ্ট হয়ে গেছে ধরে নিতে হবে। সিউডোমোনাস ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের ফলে এমন হয় বলে এ ধরণের ডিম খাওয়া উচিৎ নয়। এছাড়া সবুজ ডিমেও সিউডোমোনাস ব্যাকটেরিয়ার থাকে বলে এই ধরণের ডিম খাওয়াও উচিৎ নয়। কিছু জীবাণু সবুজাভ, উজ্জ্বল এবং পানিতে দ্রবণীয় রঞ্জক উৎপন্ন করে যা মানুষের জন্য ক্ষতিকর।

ডিমের ভেতরের গঠন ও বৃদ্ধি নিয়ে গবেষণার কাজে “ক্যান্ডলিং” নামক পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। এই পদ্ধতিতে ডিমের পেছনের দিকে উজ্জ্বল আলো ফেলা হয় যাতে খোলসের ভেতর দিয়েও ডিমের ভেতরের সব কিছু দেখা যায়। এখানে আলোর উৎস হিসেবে মোমবাতি ব্যবহার করা হয়। ডিম শিল্পে ডিমের মান নির্ণয়ের জন্য এই কৌশল ব্যবহার করা হয়। Mass candling methods বা electronic spotters বেশীরভাগ রক্তের দাগ শনাক্ত করতে পারে। প্যাকেটজাত করার পূর্বেই এই ধরণের ডিমগুলো আলাদা করা হয় এবং USDA এগুলোকে বি গ্রেডে রাখে। কিন্তু এভাবে সবকিছু নির্ণয় করা অসম্ভব।

ডিমের মধ্যে ব্লাড স্পট বা অন্যকোন অস্বাভাবিকতা নির্ণয়ের জন্য কোন খাবার তৈরির সময় এর সাথে ডিম যোগ করার আগে একটি আলাদা পাত্রে একটি একটি করে ডিম ভাঙ্গা উচিৎ। এতে আপনার পুরো রেসিপিটি নষ্ট হবার ভয় থাকেনা এবং ডিমের খোসা মিশে যাওয়ারও ভয় থাকেনা। ইচ্ছে করলে পরিষ্কার একটি ছুরি দিয়ে ডিমের কুসুমের রক্তের চিহ্নটি সরিয়ে তারপর রান্না করতে পারেন। এটিসহ রান্না করলেও কোন সমস্যা নেই। ডিম কেনার পর পরিষ্কার করে ধুয়ে তারপর ফ্রিজে রাখুন এবং আপনার হাত ভালো করে ধুয়ে নিন।