মেইন ম্যেনু

রক্তাক্ত ২ নভেম্বরঃ বিচার চায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ

গত ২রা নভেম্বর পুলিশ কর্তৃক নিরাপরাধ শিক্ষার্থীদের উপর হামলা এবং প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে,চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে নজিরবিহীন ও নিন্দাজনক এ ঘটনার সাথে জড়িতদের শাস্তি দাবি করেছে চবি ছাত্রলীগ। গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে এ দাবি জানানো হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি আলমগীর টিপু ও সাধারণ সম্পাদক এইচ এম ফজলে রাব্বী সুজন সাক্ষরিত এ বিবৃতিতে বলা হয়, ”বিশ্ববিদ্যালয় একটি জাতির মুক্ত বুদ্ধি চর্চার প্রাণ কেন্দ্র, জাতির মেধাবী সন্তানদের শিক্ষাস্থল। কিন্তু দুর্ভাগ্য হলেও সত্যি সবুজ ঘেরা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এর ব্যতিক্রম। গত ০২/১১/২০১৫ ইং তারিখে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসন পুলিশ বাহিনীকে লেলিয়ে দিয়ে হলে হলে নির্বিচারে যেভাবে ছাত্রদেরকে নির্যাতন করল তার বিচার আমরা জাতির বিবেকের কাছে চাই। কি দোষ ছিল একজন পরীক্ষার্থীর? তার অভিভাবকের? কেন তাদের এভাবে নির্যাতনের স্বীকার হতে হল? বিশ্ববিদ্যালয় মুক্ত বুদ্ধির চর্চার প্রাণকেন্দ্র, পুলিশি ব্যারাক নয়।”

ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে বলা হয়,”২০ শে জুলাই চবি ছাত্রলীগের নবগঠিত কমিটির সভাপতি মোঃ আলমগীর টিপু ও সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বী সুজনের নেতৃত্বে যখন পরিচ্ছন্ন ভাবে ছাত্রলীগকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, তখনই কায়েমী স্বার্থের বাহক ও প্রশাসনে ঘাপটি মেরে থাকা জামাত-শিবিরের এজেন্ডা বাস্তবায়নকারী কিছু লোক তাদের চির স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের মধ্যে সংঘর্ষ তৈরির পায়তারায় লিপ্ত রয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় গত ২ নভেম্বর তুচ্ছ ঘটনাকে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ যখন সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছিলো ঠিক তখনই বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের নির্দেশে পুলিশ শাহ্‌ আমানত ও শাহ্‌জালাল হলে নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে এবং টিয়ারশেল নিক্ষেপ করতে থাকে,।”

আরো বলা হয়, ”২ নভেম্বরের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের লেলিয়ে দেওয়া পুলিশ বাহিনী শুধু মারধোরে সীমাবদ্ধ থাকেনি তারা ব্যাপক লুটপাটও চালিয়েছে। পুলিশ রুমে রুমে ঢুকে ছাত্র, ভর্তি পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকের মোবাইল, টাকা পয়সা ছিনতাই, শুধু অবাকই করে নাই, কল্পনাকেও হার মানিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশের নির্লিপ্ত ভূমিকায় এদের মানবিকতাকে নিয়ে প্রশ্ন উঠে।”

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়,ছাত্রলীগের জ্যেষ্ঠ নেতাকর্মীসহ হলে অবস্থান করা সাধারণ শিক্ষার্থী ও ভর্তিচ্ছুদের উপর লাঠিচার্জ করা হয়। হাটহাজারী থানার ওসি মো. ইসমাইল হোসেন আহত হওয়ার পর পরই বেপরোয়া হয়ে উঠে পুলিশ সদস্যরা।বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলমগীর টিপু ও সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বি সুজনকে লাঞ্ছিত করা হয় বলে ।ছাত্রলীগ সভাপতির মোটরসাইকেল ভাংচুরেরও অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে।

উল্লেখ্য ০২/১১/২০১৫ ইং তারিখে সংঘর্ষের ঘটনায় প্রায় ৩০-৪০ জন আহত হন, আটক করা হয় প্রায় ৩৮ জনকে। মোট ২৯৫ জন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীকে আসামী করে পৃথক তিনটি মামলা করেছে পুলিশ,সংঘর্ষের ঘটনা তদন্তের জন্যে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।