মেইন ম্যেনু

রক্ত দেয়ার আগে ও পরে এইগুলো অবশ্যই মনে রাখা প্রয়োজন

এক ব্যাগ রক্ত আপনকে কারো কাছে সুপার হিরো বানাতে পারে। কারণ কখনো কখনো এক ব্যাগ রক্তই পারে একজন মানুষের জীবন বাঁচাতে। এটাতো হল শুধু পরোপকারের কথা। কিন্তু যারা অন্যের কথা ভাবেন না তাঁদেরও রক্ত দেওয়া অনেক জরুরী।

কারণ রক্ত দানে রয়েছে অনেক স্বাস্থ উপকারিতা।একজন রোগীর সুস্থতার জন্য মানসম্পন্ন রক্তসঞ্চালন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রক্ত কৃত্রিমভাবে প্রস্তুত করা যায়না।দেশের হাজার হাজার মানুষ প্রতিবছর রক্তের অভাবে মৃত্যুবরণ করছে। রক্তদাতার এক ব্যাগ মূল্যবান রক্তদানের মাধ্যমেই মৃত্যুপথযাত্রী অন্য মানুষের জীবন বাঁচানো যেতে পারে।

কেউ য দিস্বেচ্ছায় রক্ত দান করেন, তাহলে এতে একজন বিপদগ্রস্ত মানুষের বা মুমূর্ষু রোগীর জীবন যেমন বাঁচবে, তেমনি রক্তদাতা ও রক্তগ্রহীতার মধ্যে গড়ে উঠবে রক্তের বন্ধন। তাই রক্তের প্রয়োজন হলে স্বেচ্ছাসেবক দাতার ছকা থেকে তা সংইগ্রহ করতে হয়।

অনেক ব্যথা ও সংক্রমণের ভয়ে রক্ত দিতে ভয় পামানুষইরোগ ন। রক্ত দানের সময় কিছু বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে যেমন- মাথাঘোরা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া ও বিবর্ণ হয়ে যাওয়া। রক্ত দেয়ার পূর্বে, রক্ত দেয়ার সময় ও রক্তদানের পরে

কিছু সাবধানতা অবলম্বন করলে এই ঝুঁকিগুলো এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব। আপনার রক্তদানের অভিজ্ঞতাকে নিরাপদ, সফল ও আনন্দময় করার জন্য যা করা প্রয়োজন তাই জেনে নেয়া যাক চলুন।

রক্ত দানের পূর্বে করণীয় :

১-আপনাকে আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে যেমন- লাল মাংস, মাছ, মুরগী, শিম ও শাক বিশেষ করে পালং শাক।

২-রক্ত দেয়ার আগের রাতে পরিপূর্ণ ঘুম প্রয়োজন।

৩-রক্ত দানের পূর্বে অতিরিক্ত ১৬ আউন্স পানি বা তরল খাবার গ্রহণ করতে হবে।

৪-রক্ত দানের পূর্বে স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে। চর্বিযুক্ত খাবার, ভাঁজাপোড়া খাবার ও আইসক্রিম এড়িয়ে যেতে হবে। কারণ চর্বি জাতীয় খাবার খেলে ব্লাড টেস্ট প্রভাবিত হয়। রক্তে চর্বির পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে সংক্রামক ব্যাধির টেস্ট করা সম্ভব হয়না। ফলে সেই রক্ত সঞ্চালন করা হয়না।

৫-যদি আপনি প্লাটিলেট ডোনার হয়ে থাকেন তাহলে রক্তদানের অন্তত ২ দিন আগে থেকেই অ্যাসপিরিন গ্রহণ বন্ধ করতে হবে আপনাকে।

৬-রক্তদানের ১২ ঘন্টা পূর্বে লবণাক্ত খাবার যেমন- সল্টেড বিস্কুট বা চিপস খান। কারণ রক্তদান করলে দেহ থেকে ৩ গ্রাম লবণ বের হয়ে যায়।

রক্ত দানের সময় করণীয় :

৭-ঢিলেঢালা পোশাক পরুন যার হাতা কনুই এর উপরে উঠানো যাবে।

৮-আপনার যে হাত থেকে রক্ত নিলে আপনি পছন্দ করবেন তা যিনি রক্ত নিবেন অর্থাৎ টেকনিশিয়ান বা নার্সকে জানান।

৯-রক্তদান প্রক্রিয়াটির সময় রিলেক্স থাকুন, গান শুনুন অথবা অন্য রক্ত দাতাদের সাথে কথা বলুন।

রক্ত দানের পড়ে করণীয় :

১০-রক্তদানের পর অতিরিক্ত ৪ গ্লাস বা ৮ আউন্স পানি পান করুন এবং পরবর্তী ২৪ ঘন্টা অ্যালকোহল গ্রহণ করা ঠিক নয়।

১১-রক্তদানের ১ ঘন্টার মধ্যেই আক্রান্ত স্থানের মোড়ানো ব্যান্ডেজ খুলে ফেলুন। এর পরিবর্তে ছোট স্ট্রাইপ ব্যান্ডেজ ব্যবহার করুন।

১২-স্কিন র‍্যাশ এড়িয়ে যাওয়ার জন্য স্ট্রাইপ ব্যান্ডেজের চারপাশ সাবান ও পানি দিয়ে পরিষ্কার রাখুন।

১৩-রক্ত দেয়ার পড়ে ভারীকিছু উঠানো বা ভারী ব্যায়াম না করাই উচিৎ।

১৪-সুঁই ফোটানোর স্থান দিয়ে যদি রক্ত পরে তাহলে সেখানে চাপ দিন এবং হাত উপরের দিকে উঠিয়ে রাখুন ৫-১০ মিনিট অথবা যতক্ষণ পর্যন্ত না রক্তপাত বন্ধ হয়।

১৫-যদি রক্ত দেয়ার পরে আপনার মাথা ঘোরায় তাহলে আপনি যে কাজ করছিলেন তা করা থেকে বিরত থাকুন। মাথাঘোরানো বন্ধ করার জন্য শুয়ে থাকুন।