মেইন ম্যেনু

রজমান মাসকে সামনে রেখে বাড়ছে দ্রব্যমূল্যের দাম

পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে বাড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের দাম। যেসব পণ্যের চাহিদা বেশি যেমন- বিভিন্ন রকমের ডাল,চিনি, ছোলা, পেঁয়াজ, রসুন- এসবের দাম গত এক মাসে ধরে ধীরে ধীরে বেড়েছে।

ঢাকার বাজারের খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, রোজাকে সামনে রেখে ডাল, ছোলা, চিনিসহ কয়েকটি পণ্যের দাম আমদানিকারক ওপাইকারি বিক্রেতারা ‘বাড়িয়ে দিয়েছেন’। দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজের দামও গত দুই মাসে ধাপে ধাপে বাড়ছে।

সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাব অনুযায়ী, গত এক মাসে চিনির দাম বেড়েছে ১১ দশমিক ৫৪ শতাংশ এবং ছোলার দাম বেড়েছে ১৪ দশমিক ২০ শতাংশ।

তবে ভোজ্য তেলের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বাজারে প্রতিকেজি খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা থেকে ৮৫ টাকায়। পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ টাকা থেকে ৪৫৫ টাকায়। এছাড়া, বাজারে দু’একটি ছাড়া বেশিরভাগ কাঁচাপণ্যের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

এদিকে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন বৃহস্পতিবার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় আসন্ন রমজানে গরু, মহিষ ও ছাগলের গোশতের দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রমজানে কেজি প্রতি দেশি গরুর গোশত ৪২০ টাকা, খাসির গোশত ৫৭০ টাকা, ভেড়া ও ছাগীর গোশত ৪৭০ টাকা এবং মহিষের গোশত ৪০০ টাকা দরে বিক্রি করতে রাজি হয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

নির্ধারিত দরের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে দেয়া হয়।

এদিকে, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে শোরগোলের মধ্যেই রোজাকে সামনে রেখে সারাদেশে ন্যায্য মূল্যে নিত্যপণ্য বিক্রির পরিকল্পনা নিয়েছে টিসিবি। ২৯ মে থেকে সারাদেশের ১৭৯টি স্থানে ট্রাকে করে ৫টি নিত্যপণ্য বিক্রি শুরু হবে বলে টিসিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান হয়।

ঘোষণা অনুযায়ী, ঢাকায় ৩২টি ব্যস্ততম স্থানে, চট্টগ্রামের ১০টি স্থানে, অন্যান্য বিভাগীয় শহরের ৫টি স্থানে এবং জেলা শহরগুলোতে ২টি করে স্থানে টিসিবির খোলা বাজার বসবে।

টিসিবি’র ট্রাকগুলোতে দেশীয় চিনি প্রতি কেজি ৪৮ টাকা, মসুর ডাল প্রতি কেজি ৮৯ টাকা ৯৫ পয়সা, সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ৮০ টাকা, ছোলা প্রতি কেজি ৭০ টাকা এবং খেজুর প্রতি কেজি ৯০ টাকায় বিক্রি হবে বলে জানান হয় সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে।

একজন ক্রেতা সর্বোচ্চ ৪ কেজি চিনি, ২ কেজি মসুর ডাল, ৫ কেজি ছোলা, ৫ লিটার সয়াবিন তেল ও ১ কেজি খেজুর সংগ্রহ করতে পারবেন।

রোজা উপলক্ষ ছাড়াও নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রে মজুদদারী, অতিরিক্ত মুনাফা আদায় এগুলো ইসলামের দৃষ্টিতে অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেন ইসলামী আন্দোলন, ঢাকা মহানগর সভাপতি এটিএম হেমায়েতউদ্দিন।

তিনি বলেন, রোজাদারদেরও উচিত এ সময় ভোগ নয়, ত্যাগের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হওয়া এবং বেশি বেশি মালপত্র কিনতে গিয়ে বাজারে চাহিদা বাড়িয়ে দেয়ার মত অবস্থা সৃষ্টি না করা।

পাইকারী মালপত্র কেনা-বেচার অন্যতম মোকাম জয়পুরহাট জেলার ভোক্তা অধিকার কমিটির সদস্য নিলুফা জহুর লিলি বলেন, ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট ও মজুতদারীর কারণে দাম বাড়ছে। তবে বাজার মনিটরিং কমিটির মাধ্যমে তদারকি হচ্ছে। মোবাইল কোট দিয়ে গুদাম তল্লাশি করা হচ্ছে যাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখা যায়।

এদিকে, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ দু’দিন আগে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, দেশে কোনো পণ্যের ঘাটতি নেই। সব পণ্যের মজুদ পর্যাপ্ত রয়েছে। অযৌক্তিক মূল্য বৃদ্ধি করা হলে বা সরবরাহ সংকটের গুজব ছড়ালে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।