মেইন ম্যেনু

রবি-এয়ারটেল এক হওয়ার গণশুনানি চলছে

দেশের দুই মোবাইল ফোন অপারেটর রবি এবং এয়ারটেল একীভূত হওয়ার গণশুনানি শুরু হয়েছে।

আজ বুধবার সকাল পৌনে ১১টায় বিটিআরসির প্রধান কার্যালয়ে গণশুনানি শুরু হয়। ইতোমধ্যে গণশুনানিতে অংশগ্রহণে আগ্রহী ২৮০ জনের মধ্যে নির্বাচিত ১৬৮ জনকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও উপস্থিত আছেন শতাধিক বিভিন্ন খাতের পেশাজীবী প্রতিনিধি।

বিটিআরসির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী শাহজাহান মাহমুদ এর সভাপতিত্বে বিটিআরসির অন্যান্য কমিশনাররা উপস্থিত রয়েছেন। গণশুনানিতে বিটিআরসির চেয়ারম্যানসহ সকল কমিশনারগন উপস্থিত থাকবেন। কমিশনের বিদ্যমান আইন ২০০১-এর ৮৭ ধারা অনুসারে এ শুনানির আয়োজন করা হয়েছে।

শুরুতে বাংলাদেশ কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন (ক্যাব) এর প্রতিনিধি অধ্যাপক শামসুল আলমকে মতামত দিতে বলা হলে তিনি মতমতের জন্য পর্যাপ্ত সময় নেই বলে লিখিতভাবে মতামত দিতে তিন সপ্তাহ সময় চান। এ বিষয়ে গণশুনানি পরিচালনাকারী বিটিআরসির মহাপরিচালক একে এম শহিদুজ্জামান বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুসারে এতদিন সময় দেয়া সম্ভব না। এরপর শামসুল আলম মতামত দেয়া থেকে বিরত থাকেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত গণশুনানি চলছে।

এর আগে অপারেটর দুটি এক হতে বিটিআরসিতে আবেদন করে। বিটিআরসি প্রাথমিক সম্মতি দিলেও একিভূত হওয়ার সামাজিক ও কারিগরি প্রভাব নিয়ে সমীক্ষার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের দুই শিক্ষককে পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে জানান বিটিআরসির চেয়ারম্যান।

রবির মূল প্রতিষ্ঠান আজিয়াটা গ্রুপ বারহাদ ও এয়ারটেলের মালিক ভারতি এয়ারটেল। বাংলাদেশে নিজেদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম একীভূত করতে গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর আলোচনা শুরু করে বারহাদ ও ভারতী কর্তৃপক্ষ। ২৮ জানুয়ারি মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে তারা একটি চুক্তিতে সই করে। ব্যবসা এক করার বিষয়ে দুই কোম্পানি বিটিআরসি ও আদালতে আবেদন করে।

বিটিআরসি সেই আবেদনে প্রাথমিক সম্মতি দিলেও এখন আবেদনটির বিভিন্ন দিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। রবি ও এয়ারটেলের একীভূত হওয়ার আর্থসামাজিক প্রভাব নিয়ে সমীক্ষার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের দুই শিক্ষককে পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে রবি ও এয়ারটেলের একীভূত হওয়ার বিষয়ে গত ৮ ফেব্রুয়ারি বিটিআরসিতে এক বৈঠকে অপর চার অপারেটর ইতিবাচক মত দেয়।

এক হওয়া হলে শেয়ার আজিয়াটা ৬৮ দশমিক ৭ শতাংশ ও ভারতী ২৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করবে। বাকি ৬ দশমিক ৩ শতাংশ বর্তমানের রবির অপর শেয়ারহোল্ডার জাপানের এনটিটি ডকোমোর কাছে থাকবে। দুই কোম্পানি এক হলে তাদের গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় চার কোটি, যা বাংলাদেশের মোট মোবাইল ফোন গ্রাহকের এক-চতুর্থাংশ। বর্তমানে পাঁচ কোটির বেশি গ্রাহক নিয়ে গ্রামীণফোন সবার শীর্ষে রয়েছে।

বিটিআরসি’র হিসাবে ডিসেম্বর নাগাদ বাংলাদেশে মোট মোবাইল ফোন গ্রাহক সংখ্যা ১৩ কোটি ৩৭ লাখ। এ সময়ে অপারেটর রবির গ্রাহক সংখ্যা দুই কোটি ৮৩ লাখ এবং এয়ারটেলের এক কোটি ৭১ হাজার।