মেইন ম্যেনু

রাউজান বেরুলিয়া খাল ভাঙ্গায় ঝুঁকিতে আমন চাষ

সম্প্রতি প্রবল বর্ষণে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে সৃষ্ট বন্যায় চট্টগ্রামের রাউজানের বেরুলিয়া খালের দুটি অংশে ভেঙে যাওয়ায় ঝুঁকিতে পৌর এলাকার অর্ধ শতাধিক কৃষকের আমন চাষ। সম্প্রতি প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলে সৃষ্ট বন্যায় রাউজান বেরুলিয়া খালের পাড় সুলতানপুর রাউজান পৌর এলাকার ৬নং ওয়ার্ড এলাকার দুটি অংশে ভেঙে নিয়ে যায়।

বৃষ্টি হলেই ভাঙা দুটি অংশ দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় আমন চাষ পানির নিচে তলিয়ে যায়। খালের ভাঙা অংশের পাশে চাষীরা আমনের চারা রোপন করলেও পর পর দিন দফা বন্যার পানিতে ভেস্তে গেছে। এর পরও হাল ছাড়েনি এখানকার কৃষকরা। যতবার ভেস্তে গেছে ততবার আমনের চারা রোপন করেছিল।

বৃষ্টি হওয়া মাত্র বেরুলিয়া খালের ভাঙা অংশ দুটি দিয়ে পানি চলাচল করার ফলে এই মৌসুমে আদৌ চাষ করে ফসল ঘরে তোলতে পাবে কিনা এই নিয়ে চাষীদের মধ্যে বিরোপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। রাউজান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামীম হোসেন জানান, আমান ধানের বা¤পার ফলনে তারা বিশেষ বিশেষ কিছু কর্মসূচী ও পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।

কিন্তু সাম্প্রতি টানা বৃষ্টির ফলে জমিতে কোমন পানি হওয়ায় আমন চাষে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়া সম্ভাবনা রয়েছে। তবে জমিতে থেকে দ্রুত পানি নেমে আসলে ক্ষতির পরিমাণ কমে আসবে বলেন কৃষি কর্মকর্তা। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সম্প্রতি বন্যায় বেরুলিয়া খালের দুটি অংশ ভেঙে যায়। খালের পূর্ব পাড়ের ভাঙন দুটির মধ্যে একটি আনুমানিক ৩০ ফুট ভাঙন, আরেকটি আনুমানিক ১০ ফুট ভাঙন লক্ষ্য করা গেছে। থেমে থেমে হওয়া বৃষ্টিতে বেরুলিয়া খালের পানি বৃদ্ধি পেলে খালের ভাঙা দুটি অংশ দিয়ে আমনের চাষ করা ধানী জমির উপর দিয়ে পানি চলাচল করে।

এতে কিছু কিছু স্থানে বোঝাই যাচ্ছে না আমনের চারা রোপন করা হয়েছে। পানির নিচে তলিয়ে থাকা আমনের চারাগুলো পঁচন ধরার সম্ভাবনা রয়েছে। এখানকার চাষীরা চাষ করলেও হালকা বৃষ্টিতে পাহাড়ী ঢলে আসা পানি ওই খালের ভাঙা অংশ দিয়ে পানি প্রবেশ করে ফসলি জমিতে গিয়ে জমে থাকে। এতে ফসলের ক্ষতি সাধিত হচ্ছে। বেরুলিয়া খালের ভাঙা অংশ মেরামত না করলে সুলতানপুর পৌর এলাকার বিপুল সংখ্যক জমির আমন চাষাবাদ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, বন্যায় আমনের চারা ক্ষতি হওয়ার পর চওড়া দামে আমানের চারা কিনে রোপন করেও ব্যর্থ হচ্ছি, বৃষ্টির কারণে খালের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ভাঙা অংশ দিয়ে পানি প্রবেশ করায় এখন আমনের চারা পানির নিচে তলিয়ে আছে।

তারা আরো বলেন, এখনো সময় আছে খালের ভাঙা দুটি অংশ মেরামত করলেই ঝুঁকিমুক্ত হবে এবারের আমন চাষ। দ্রুত রাউজান বেরুলিয়া খালের ভাঙা অংশ মেরামতের জোর দাবি জানান তারা। সংশ্লিষ্ট বিভাগ দ্রুত প্রদক্ষেপ নিয়ে ঝুঁকিতে থাকা আমন চাষ ঝুঁকিমুক্ত করে তোলবে এমনটাই প্রত্যাশা ভোক্তভোগীদের।