মেইন ম্যেনু

রাকিব হত্যা মামলায় ৩ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট

বহুল আলোচিত শিশু রাকিব (১২) হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত তিন আসামি শরীফ, তার মা বিউটি বেগম এবং চাচা মিন্টু মিয়াকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) আদালতে দাখিল করা হয়েছে।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের অধীনে এই প্রথম দ্রুত সময় (২২দিনে) রাকিব হত্যা মামলার চার্জশিট মঙ্গলবার দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে খুলনার মুখ্য মহানগর হাকিম এমএলবি মেছবাহ উদ্দিনের আদালতে এ চার্জশিট দাখিল করা হয়।

বেলা ১১টায় খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ সদর দপ্তরে চার্জশিট দাখিল সম্পর্কে প্রেস ব্রিফিং করেন পুলিশ কমিশনার নিবাস চন্দ্র মাঝি। ব্রিফিংকালে নিহত শিশু রাকিবের বাবা নূরুল আলম, মা লাকি বেগম এবং বোন রিমি আক্তার পারভীন উপস্থিত ছিলেন। কেএমপির পক্ষ থেকে তাদের হাতে ২৫ হাজার টাকা তুলে দেয়া হয়।

পুলিশ কমিশনার নিবাস চন্দ্র মাঝি জানান, মামলাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করা হয়। এমনকি মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে অন্য মামলায় সাক্ষ্য দেয়া, রাজনৈতিক ডিউটি এমনকি তার ছুটিও বন্ধ রাখা হয়েছিল। তিন সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করে মামলাটি মনিটরিং করা হয়। যে কারণে ঘটনার মাত্র ২১ দিনের মাথায় চার্জশিট দাখিল করা সম্ভব হয়েছে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে চার্জশিটে থাকা সাক্ষীদের নাম পরিচয় প্রকাশ না করতে তিনি গণমাধ্যম কর্মীদের অনুরোধ করেন।

রাকিবের বাবা নূরুল আলম ও মা লাকি বেগম জানান, দ্রুত মামলার চার্জশিট দাখিলে তারা সন্তুষ্ট। এছাড়া এ ঘটনার পর থেকে যারা তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তারা। একই সঙ্গে তারা মামলায় অভিযুক্ত তিন আসামির ফাঁসি দাবি করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কাজী মোস্তাক আহমেদ জানান, এজাহারভুক্ত তিন আসামি শরীফ মটরসের মালিক শরীফ, মিন্টু খান ও বিউটি বেগমকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র আদালতে (চার্জশিট) দাখিল করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, অন্য গ্যারেজে কাজ নেয়ায় ক্ষিপ্ত হয়েই শিশু রাকিবকে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে ইতোমধ্যে আদালতে মামলার প্রধান আসামি শরীফ, মিন্টু খান ও শরীফের মা বিউটি বেগম জবানবন্দী দিয়েছেন। এছাড়াও ঘটনাস্থলে শিশু রাকিবের ওপরে নির্যাতনের প্রত্যক্ষদর্শীদের মধ্যে মোট ৪০ জনের সাক্ষ্য নেয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ০৩ আগস্ট বিকেলে মোটরসাইকেলের হাওয়া দেয়া কমপ্রেসার মেশিনের পাইপ রাকিবের পায়ুপথে ঢুকিয়ে পেটে হাওয়া দিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে নগরীর টুটপাড়া সেন্ট্রাল রোডের মোটরসাইকেল গ্যারেজ শরীফ মোটর্সের মালিক শরীফ, তার মা বিউটি বেগম ও সহযোগী মিন্টু মিয়াকে ক্ষুব্ধ জনতা গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। আসামিরা সবাই ১৬৪ ধারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বর্তমানে তারা খুলনা কারাগারে রয়েছেন।