মেইন ম্যেনু

রাক্ষুসি পদ্মার থাবায় আতঙ্কে মানুষ

বর্ষা না আসতেই মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার পদ্মা তীরবর্তী মানুষের মনে আতঙ্ক বিরাজ করছে। পদ্মার থাবা বিস্তৃত হচ্ছে দিন দিন। এরই মধ্যে ভাঙন দেখা দিয়েছে উপজেলার বেঁজগাঁও, গাঁওদিয়া, কলমা, ডহুরী, যশলদিয়া, কুমারভোগ গ্রিমে। এসব গ্রামের ৩০ থেকে ৩৫টি বসতবাড়ি পদ্মার গর্ভে চলে গেছে।

পদ্মার ভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন অনেকেই। কেউ কেউ দুই থেকে চারবার পদ্মার রাক্ষুসি থাবার মুখে ভিটেমাটি হারা হয়েছেন। বুধবার দুপুরে সরেজমিনে কয়েকটি গ্রাম ঘুরে পদ্মার ভাঙনের এ চিত্র পাওয়া গেছে।

দেখা গেছে, গাঁওদিয়া কারিমিয়া কওমি হাফেজিয়া মাদ্রাসাটি রয়েছে ভাঙনের হুমকির মুখে। ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে গাওদিয়া বাজার, কলমা বাজারের সামনে শতাধিক বাড়িঘর, মাদ্রাসা, যশলদিয়া গ্রামের একটি হাই স্কুল, হাড়িদিয়া খেলার মাঠসহ অসংখ্য স্থাপনা।

উজান থেকে ধেয়ে আসা প্রবল স্রোত ও প্রচণ্ড ঢেউয়ের তোড়ে পদ্মার এ ভাঙন দ্রুত গতিতে বাড়ছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা।

মেদেনীমণ্ডল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফ হোসেন খান জানিয়েছেন, এখনো ভাঙনের তীব্রতা দেখা যায়নি। তবে ভাঙন কবলিতদের সাহায্যে মেদেনীমণ্ডল ও কুমারভোগ ইউনিয়নে আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হবে। এরই মধ্যে লৌহজং উপজেলা চেয়ারম্যান ও কয়েকটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা হয়েছে।

লৌহজং উপজেলা চেয়ারম্যান ওসমান গনি তালুকদার বলেন, ‘পদ্মায় এখনো পর্যন্ত ভাঙনের ভয়াবহতা দেখা মিলেনি। তবে ভাঙনের তীব্রতা দেখা দিলে ভাঙন কবলিতদের সাহায্যার্থে আমাদের সব রকমের প্রস্তুতি রয়েছে।’

লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ খালেকুজ্জামান বলেন, প্রতি বছরই পদ্মা পাড়ে ভাঙন দেখা যায়। এ বছর গাঁওদিয়া, সামুর বাড়ি, কলমা-ডহুরীসহ কয়েকটি গ্রামে অল্প-স্বল্প ভেঙেছে। বড় ধরনের কোনো ভাঙনের চিত্র চোখে পড়েনি।