মেইন ম্যেনু

রাজধানীতে এসিড সারভাইভারদের ব্যতিক্রমধর্মী মেলা

বাংলাদেশ শিশু একাডেমি মিলনায়তনের বাইরের লম্বা করিডোরে লম্বা টেবিল বিছিয়ে বেডকভার, কুশন, পুতুল, মাটির তৈরি ফুলদানি ও চুলের ক্লিপসহ নানা রং-বেরংয়ের পসরা সাজিয়ে বসেছিল ওরা কয়েকজন। আর দশজন সাধারণ ব্যবসায়ী নন তারা। ওরা এসিড সন্ত্রাসের শিকার হয়েও জীবনযুদ্ধে বিজয়ী নারী।

সন্ত্রাসীদের ছুঁড়ে মারা এসিডে ওদের নাক, মুখ ও শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ঝলসে গেলেও তারা পরাজয় মেনে না নেয়ে নতুন করে বাঁচতে শিখেছেন। এসিড সারভাইভার্স ফাউন্ডেশন (এএসএফ) এর সার্বিক সহযোগিতায় চিকিৎসা পেয়ে সুস্থ হয়ে নানা হাতের কাজ শিখে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছেন। শনিবার শিশু একাডেমিতে এসিড সারভাইভার্সদের জাতীয় সম্মেলন উদ্বোধন শেষে সেই সব সাবলম্বী এসিডদগ্ধ নারী বিভিন্ন পসরা বিক্রি করছিলেন।

দুপুর পৌনে ১২টায় সেখান থেকে একটি বেডকভার ও একটি কুশন কিনলেন জাকিয়া কে এ হাসান নামে একজন ভদ্রমহিলা। এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, তিনি একজন উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ ও উইম্যান ফর উইম্যান নামে একটি সংগঠনের বর্তমান সভাপতি ও দীর্ঘদিন যাবত এসএফের ট্রাস্টি বোর্ড সদস্য পদে আসিন রয়েছেন। অস্ট্রেলিয়াতে রিয়ানা নিশমা হাসান নামে তার ১২ বছরের নাতনির কাছে কুশন ও পুতুলটি পাঠাবেন। তিনি জানান, এসিড সন্ত্রাসের শিকার এ সকল মেয়েদের তৈরি প্রতিটি পণ্য নিখুঁত ও সুন্দর এবং দামেও সস্তা। তিনি প্রায়ই এ সব সামগ্রী কিনে থাকেন।

সারভাইভারদের জাতীয় ও কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন:
এএসএফের প্রোগ্রাম ইউনিটের ম্যানেজার মৌসুমী শারমিন জানান, এসিড সন্ত্রাসের শিকার নারী ও শিশুদের পাশে এতদিন এএসএফ থাকলেও আজ জাতীয় সম্মেলনে ৩৪টি জেলার এসিড সারভাইভারদের ৪০ সদস্য বিশিষ্ট জাতীয় কমিটি ও ১১ সদস্য বিশিষ্ট কার্যনির্বাহী কমিটি গঠিত হয়। নিজস্ব একটি প্লাটফর্মের মাধ্যমে বিভিন্ন দাবি দাওয়া- অধিকার, বঞ্চনা, বৈষ্যম্য ইত্যাদি সম্পর্কে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার পাশাশাশি সুখদুঃখ ভাগাভাগি করে নিতে এ জাতীয় ও কার্যনির্বাহী কমিটি গঠিত হয়েছে। জাতীয় কমিটি বছরে একবার ও কার্যনির্বাহী কমিটি বছরে তিনবার সভা করবেন।

১১ সদস্য বিশিষ্ট কার্যনির্বাহী কমিটিতে আহ্বায়ক হয়েছেন সিরাজগঞ্জের রুনা লায়লা ও সদস্যসচিব নোয়াখালীর তাহমিনা ইসলাম এবং এ কে আজাদ হয়েছেন কোষাধ্যক্ষ। এছাড়া কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে রয়েছেন বগুড়ার কোহিনুর আক্তার, নওগার হালিমা বেগম, টাঙ্গাইলের দুলাল হাসান, গাজিপুরের পেয়ারা বেগম, পিরোজপুরের লুলুমান সুরা, দিনাজপুরের রেজওয়ানুল হক, নরসিংদীর জাকিয়া সুলতানা ও ঝিনাহদহ রত্না বিশ্বাস।