মেইন ম্যেনু

রাজধানীতে গ্যাস সংকট অব্যাহত

প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে রাজধানীর আবাসিক এলাকায় গ্যাস সংকট অব্যাহত রয়েছে। ভোর ৬টায় গ্যাস চলে গিয়ে তা আসে রাত ১১টায়। এ অবস্থায় অনেকে রান্নাবান্না করতে না পেরে হোটেল-রেস্তোরাঁর দিকে ছুটছেন।

গ্যাস সংকট নিয়ে প্রশ্ন করলে গত মঙ্গলবার বিদ্যুৎ ভবনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু বলেন, আবাসিক খাতে গ্যাসের সাময়িক সংকট হচ্ছে। তবে দুই-একদিন মধ্যে তা কেটে যাবে।

প্রতিমন্ত্রীর আশ্বাসের পর চারদিন পার হলেও গ্যাসের সরবরাহে তেমন কোনো পরিবর্তন নেই বলে দাবি করেছেন ইস্কাটন ও মিরপুর এলাকার বাসিন্দারা।

মিরপুরের বাসিন্দা বেলাল হোসেন বলেন, গ্যাস ছাড়া আমরা প্রায় অচল। রান্নার জন্য বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নেই। কয়েকদিনের মধ্যে সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে মনে করে এলপিজি কিনছি না। দেখছি সমস্যা সমাধানের খুব একটা নজির নেই। যার কারণে খাবার দাবার সব হচ্ছে হোটেলে।

গেন্ডারিয়া এলাকার উজ্জল জিসান জানান, গত দুই সপ্তাহ ধরে গ্যাস সংকট চরমে। একদিকে গ্যাস নেই। মাস শেষে এর জন্য টাকা পরিশোধ করতে হবে। আবার গ্যাসের বিকল্প হিসেবে এলপিজি কিনতে গেলে সেটির জন্য বাড়তি খরচ, যা সবার পক্ষে সম্ভব নয়।

এদিকে সিএনজি স্টেশনগুলোতেও একই সমস্যা। রাজধানীর বকশিবাজার এলাকার সোনার বাংলা সিএনজি ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার ইঞ্জিনিয়ার মোস্তাফিজ রহমান জানান, খুব খারাপ অবস্থা। সারাদিন কোনো গ্যাস নেই। বিকেল ৩টা সাড়ে ৩টার দিকে গ্যাস আসে। সরকারের নির্দেশে আবার বিকেল ৫টায় বন্ধ করে ফেলতে হয়।

তিনি আরো বলেন, প্রতিদিন সাতশ থেকে আটশ সিএনজিচালিত যান আসলেও আমরা দিতে পারছি সর্বোচ্চ তিনশ গাড়িকে।

তিনি বলেন, এর আগেও শীতকালে গ্যাসের চাপ কমে যেত। কিন্তু এবার যেভাবে গ্যাসের সরবরাহ শূন্যে নেমে এসেছে, তা আগে কখনও দেখা যায়নি। গ্যাস কর্তৃপক্ষকে জানালে তারা বলেন শীত শেষ হলে এ সংকট কেটে যাবে। এখন কীভাবে চাপ সামলাবো তা বুঝতে পারছি না। |

মোস্তাফিজ জানান, কমপক্ষে পাঁচ পিএসআই গ্যাস এলে তাদের আটটি লিভারের মধ্যে অন্তত দুটি চালু রাখতে পারেন। কিন্তু এখন তাও সম্ভব হচ্ছে না।

কয়েকটি সিএনজি স্টেশনের ব্যবস্থাপকরা জানান, গত ১০ দিন ধরে রাত সাড়ে ১১টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত সামান্য পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। দিনে মাত্র এক ঘণ্টা স্টেশন চালু রাখা যাচ্ছে, বাকি সময়টা বন্ধ থাকছে।