মেইন ম্যেনু

রাজধানীতে বিপুল পরিমাণ মানব খুলি ও হাড়গোড় উদ্ধার, আটক ১

রাজধানীর কাফরুলের একটি ফ্ল্যাট থেকে শনিবার বিপুল পরিমাণ মানব খুলি ও হাড়গোড় উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ বাড়িটিতে অভিযান চালাচ্ছে। শনিবার বিকালে কাফরুল থানার ইটখোলার ১৮৩/১ নম্বর বাড়ির দ্বিতীয় তলায় বাড়িওয়ালার তথ্যের ভিত্তিতে এ অভিযান চালায় পুলিশ। এ ঘটনায় নুরুজ্জামান ওরফে কামরুজ্জামান নামে ওই ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়াকে আটক করেছে পুলিশ।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মাসুদ আহমেদ এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বহুতল ওই ভবনের দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাটটি থেকে কার্টনভর্তি মানব কঙ্কাল পাওয়া গেছে।

বাড়িটির মালিক ইলিয়াস সাইফুল্লা জানান, ‘ভবনের দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাটটি গতমাসে নুরুজ্জামান (৩৮) নামে এক ব্যক্তি চিকিৎসক পরিচয় ভাড়া নেন। শনিবার দুপুরের আগে বাড়ির তৃতীয় তলার ফ্ল্যাটের বাসিন্দা একজন ব্যাংক কর্মকর্তা বিকট গন্ধ পেয়ে দ্বিতীয় তলার দরজায় নক করেন। তবে ভাড়াটিয়া নুরুজ্জামান দরজা খুলতে দেরি করেন। কিছুক্ষণ পর দরজা খুললে ওই ব্যাংক কর্মকর্তা সেখানে কার্টনভর্তি কঙ্কাল দেখতে পান। এরপর তিনি ঘটনাটি আমাকে (বাড়িওয়ালা) জানান। সঙ্গে সঙ্গে আমি বিষয়টি থানায় জানাই। এরপর পুলিশ অভিযান চালায়।’

বাড়িওয়ালা আরও বলেন, নুরুজ্জামানের বাড়ি নারায়ণগঞ্জ। তিনি মিডফোর্টের চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে বাসাটি ভাড়া নিয়েছিলেন। তার সঙ্গে আরও দুজন কর্মচারীও ছিল। তবে তাদের এখন পাওয়া যাচ্ছে না। পুলিশের ভাড়াটিয়া তথ্য ফরমে তার সব তথ্য দেওয়া আছে।

এদিকে বাড়িওয়ালার বক্তব্যের সঙ্গে পুলিশের বক্তব্যের অমিল পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে কাফরুল থানার উপপরিদর্শক আব্দুস সালাম জানান, ওই ব্যক্তির নাম কামরুজ্জামান। তার বয়স ২৫/২৬ হবে। ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী সে। আমরা বিষয়টি যাচাই বাছাই করছি। কাজ করছি।

এসব কঙ্কাল বাসায় নিয়ে আসার সময় আপনার চোখে পড়েনি কখনও? এমন প্রশ্নের জবাবে বাড়িওয়ালা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা দেখতাম উনি ও তার লোকেরা কার্টন নিয়ে আসে, তবে সন্দেহ করতাম না কখনও। কারণ, রাজধানীর শ্যামলীতে তার একটা খাবার হোটেল আছে। সেই খাবার হোটেলের জিনিসপাতি হবে বলে ধারণা করেছি।’

ভাড়াটিয়া কেমিক্যাল ব্যবসা করতো বলেও শুনেছেন তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শী আজিজুর রহমান প্রান্ত জানান, ওই ভবনের পাশে তার থাইগ্লাস ও অ্যালুমিনিয়ামের দোকান আছে। খবর পেয়ে আমিও ওই বাসায় যাই। ফ্ল্যাটের ভেতরে আমি চার/পাঁচটি কার্টনের কঙ্কাল দেখেছি। এছাড়াও ব্যাগের ভেতরেও কঙ্কাল দেখেছি।