মেইন ম্যেনু

সিটি করপোরেশনের নিয়ম মানা হয়নি

রাজধানীতে যেখানে সেখানেই পশু কোরবানী

ঢাকা সিটি করপোরেশনের (উত্তর-দক্ষিণ) বেঁধে দেওয়া নিয়মে নির্দিষ্ট ৫৩২ স্থানে পশু কোরবানী হয়নি রাজধানীতে। প্রতিবারের মতো এবারও রাজধানীর রাস্তা-ঘাট, অলি-গলি, বাসার সামনে এমনকি বাসার গ্যারেজের মধ্যেই পশু কোরবানী দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাজধানীর খিলগাঁও, গোড়ান, বনশ্রী,মালিবাগ, মগবাজার,বেইলিরোড ও এর আশেপাশের এলাকা শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত ঘুরে এসব চিত্র দেখা গেছে।

রাজধানীর খিলগাঁও রেলগেট থেকে গোড়ান টেম্পোস্ট্যান্ড হয়ে ৮ নম্বরের মাথা পর্যন্ত ‍পুরো সড়কে গরু ও ছাগল-খাসি কোরবানী করতে দেখা গেছে। সকালে ঈদুল আজহার নামাজ স্থানীয় মসজিদে আদায় করেই সবাই যার যার মতো করে বাসার সামনের রাস্তায় পশু কোরবানী করেন। এরপর রাস্তাতেই পশু বিশেষ করে গরুর চামড়া ছাড়ানো, গোশত-হাড় কাটা এমনকি নাড়ি-ভুড়ি পর্যন্ত রাস্তাতেই পরিষ্কার করতে থাকেন।

গোড়ান টেম্পোস্ট্যান্ড থেকে ৮ নম্বরের মাথা পর্যন্ত এবং দক্ষিণ বনশ্রী প্রজেক্টের ভেতরের রাস্তা জুড়ে এমনভাবে পশু কোরবানী হয়েছে যে, ওই রাস্তাগুলো দিয়ে রিকশা বা সিএনজি এমনকি মানুষের পায়ে হেঁটে চলারও অবস্থা নেই। পশুর রক্তে ভেসে গেছে পুরো রাস্তা। কোরবানীর পশুর বর্জ্য ফেলা হচ্ছে রাস্তায় কিংবা পাশের ড্রেনেই।

উত্তর গোড়ানের ৮ নম্বর রাস্তার উপর গরু কোরবানী দিয়েছেন আনিসুর রহমান। তিনি বলেন, আমাদের এই এলাকা হিজিবিজি। কোনো ফাঁকা জায়গা নেই যেখানে সবাই মিলে কোরবানী দিতে পারি। তাই রাস্তাতেই গরু জবাই করেছি। অন্যরাও তাই করেছে।

রাজধানীর সেগুন বাগিচায় শিল্পকলা একাডেমির সামনে পশু কোরবানীর জন্য সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে তাবু টানিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেখানে তিন চারটি গরু জবাই হলেও পাশেই সারি সারিভাবে যার যার বাসার সামনে গরু জবাই করেছেন সংশ্লিষ্টরা। শুধু তাই নয়, সেগুন বাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সামনে সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত পশু কোরবানীর স্থানে কোনো পশুই জবাই হয়নি। অথচ আশপাশেই জবাই করা হয়েছে গরু বা ছাগল। আর রাস্তাতেই ছাড়ানো হয় পশুর চামড়া। কাটা হয় গোশত। রক্তে ভেসে যায় পুরো রাস্তা।

পবিত্র ঈদুল আজহার সময়ে যত্রতত্র পশু কোরবানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। এ জন্য ৫৩২ স্থান নির্ধারণ করে দেওয়া হয়।

সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ বলেছিল- গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি প্রতিরোধের জন্য প্রতিটি ওয়ার্ডের চারটি স্থানে শামিয়ানা টাঙিয়ে দেওয়া হবে। অন্য স্থানগুলো রঙ দিয়ে সীমানা চিহ্নিত করে দেওয়া হবে। সিটি করপোরেশনের মনিটরিং টিম ও স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলররা জনগণের সুবিধামতো স্থান পরিবর্তন করে দিতে পারবেন।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আনিসুল হক গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, একটা নতুন বিষয় চালু হচ্ছে। কিছু ভুলত্রুটি থাকতে পারে। পরবর্তী বছরে সেটা সংশোধন করে নেওয়া যাবে।

এ ব্যাপারে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র সাঈদ খোকন বলেছিলেন, নির্দিষ্ট স্থানে পশু কোরবানিতে অভ্যস্ত হয়ে গেলে বর্জ্য অপসারণ সহজ হবে। বাড়ির ভেতরে জায়গা না থাকলে তাদের নির্দিষ্ট স্থানেই পশু কোরবানি দিতে হবে।



« (পূর্বের সংবাদ)