মেইন ম্যেনু

রাজনীতিবিদরা এখন সবচেয়ে ঘৃণিত

দেশে বর্তমানে রাজনীতি নেই বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান, সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মাদ এরশাদ।

রাজনীতিকদের তীব্র সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত এরশাদ বলেন, ‘আগে মানুষ রাজনীতিবিদদের সম্মান করতো। আর এখন, ট্যারা চোখে দেখে। বলে লোকটা রাজনীতি করে। এখন দেশে রাজনীতি বলতে আর কিছুই নেই। সবচেয়ে ঘৃণিত এখন রাজনীতিবিদরা।’

মঙ্গলবার সন্ধায় লালমনিরহাটে জাপার দ্বি-বার্ষিক কাউন্সিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাপা চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন।

চলমান ইউপি নির্বাচন প্রসঙ্গে এরশাদ বলেন, ‘দেশে এখন ভোট বলতে কিছু নেই। টাকা আর ক্ষমতার কাছেই পরাজিত হচ্ছি আমরা। তবে আমাদের ভরাডুবি নেই। এখনও সারাদেশে জাতীয় পার্টি সুসংগঠিত আছে। সুষ্ঠ নিবার্চন হলে জনগণ আবারো জাতীয় পার্টিকে ক্ষমতায় বসাবে।’

নির্বাচনের সমালোচনা করে জাপা চেয়ারম্যান বলেন, ‘এ পর্যন্ত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সহিংসতার ঘটনায় ২৪ জন প্রাণ হারিয়েছে। বর্তমানে দেশ মহাসঙ্কটময় সময় পার করছে। নেই আইনের শাসন। প্রতিটি দিনই পেপার পত্রিকা পড়লে গুম খুনের খবর আমরা দেখতে পাই। দেশের এই ক্রান্তিকাল থেকে উত্তরণে জাতীয় পার্টির বিকল্প নেই।’

সাম্প্রতিক দেশে সবচেয়ে আলোচিত তনু হত্যাকাণ্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করে এরশাদ বলেন, ‘দেশে বর্তমানে শিশু ও নারীধর্ষণ ও হত্যা বেড়ে গেছে। যদি এসবের বিচার হতো, সাজা হতো ও দোষীদের আদালতে যেতে হতো তাহলে এসব হতো না।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে টাকা চুরির প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত বলেন, ‘ব্যাংক থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকা লুট হয়েছে। কিন্তু এজন্য কারও বিচার বা সাজা হয়নি বা হবে না । নজিরবিহীনভাবে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে টাকা লুট হচ্ছে। এসব টাকা আমার দেশের মানুষের। কিন্তু এর কোনো বিচার হবে না। পৃথিবীর ইতিহাসে এটি বিরল ঘটনা। একটি দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক থেকে টাকা লুট কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না।’

পার্টির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে এরশাদ বলেন, ‘জেল-জুলুম, অত্যাচার করে জাতীয় পার্টিকে দমিয়ে রাখা যাবে না। কারও চোখ রাঙানিকে আমরা ভয় পাই না।’ তিনি আরো বলেন, ‘জিএম কাদেরকে দলের কো-চেয়ারম্যান নির্বাচিত করায় পার্টির তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে জাতীয় পার্টি আগামীতে আবারো ক্ষমতায় আসবে।’

সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘দেশের উন্নয়ন থমকে গেছে। মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছে। আল্লাহর মেহেরবানি ছাড়া এ জাতি আর শান্তি পাবে না। কারণ দুটি দল এদেশের মানুষের সাথে প্রতিনিয়তই প্রতারণা করে আসছে। তারা জাতির ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবে না। মানুষ চায় নিরাপত্তা, আর এ নিরাপত্তার প্রতীকই হচ্ছে জাতীয় পার্টি।’

দীর্ঘ ৬ বছর পর মঙ্গলবার জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে লালমনিরহাট জেলা জাতীয় পার্টির দ্বি-বার্ষিক কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। জেলা জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব অধ্যক্ষ এ কে এম মাহবুবুল আলম মিঠুর সভাপতিত্বে সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে পার্টির চেয়ারম্যান ছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্টির কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের ও মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার।

অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন- জাপার কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুল, রংপুর মহানগর কমিটির আহ্বায়ক গেলাম মোস্তফা, জেলা জাপার যুগ্ম আহ্বায়ক এসকে খাজা মঈনুদ্দিনসহ জেলার সব কাউন্সিলর। পরে কাউন্সিলে পার্টির কো-চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদেরকে সভাপতি ও এ কে এম মাহাবুবুল আলম মিঠুকে সাধারণ সম্পাদক করে লালমনিরহাট জেলা জাপার কমিটি ঘোষণা করেন।