মেইন ম্যেনু

রাজন হত্যা মামলার আসামি ইন্টারপোলের মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে

পুলিশের আইজি একেএম শহিদুল ইসলাম সিলেটের রাজন হত্যার ঘটনা বলতে গিয়ে জানান, শিশুটি যতই অপরাধ করুক, তাকে কোন রকমের টর্চার করা কোন বিবেকবান মানুষের কাজ নয়। এ ব্যাপারে আমরা অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছি। রাজন হত্যা মামলার মূল আসামি মুহিত এবং তার ভাই কামরুল ইসলাম ও আলী । এ ছাড়াও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী যারা রাজনকে বাঁচাতে বাধা দেননি। মূল আসামি মুহিতকে আমরা গ্রেপ্তার করেছি। আসামি কামরুল ইসলামকে জেদ্দায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে ইন্টার পোলের মাধ্যমে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। অপর ভাই আলীকেও আমরা খুঁজছি। ওই ঘটনায় দুই প্রত্যক্ষদর্শীও মঙ্গলবার গ্রেপ্তার হয়েছে। এ যাবৎ ছয়জন গ্রেপ্তার হয়েছে। আমরা আশা করি সুষ্ঠু তদন্ত করে এদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেব। আমি জনসাধারণকে বলবো, যে কোন অপরাধ হউক, যে কোন দুর্ঘটনা হউক সেগুলো যেন স্থানীয় পুলিশকে জানায়। এজন্য তিনি ফায়ার ব্রিগেড ও অ্যামুলেন্সের ন্যায় স্থানীয় থানার ওসি, ডিউটি অফিসারের নম্বর সকলকে সংগ্রহে রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন আইজিপি।

মঙ্গলবার দুপুরে কালিয়াকৈর চন্দ্রা এলাকায় মহাসড়ক পরিদর্শনে এসে আইজিপি ওইসব কথা বলেন। এসময় তার সাথে পুলিশের ডিআইজি (ঢাকা রেঞ্জ) এসএম মাহফুজুল হক নুরুজ্জামান, ডিআইজি হাইওয়ে মল্লিক ফখরুল ইসলাম, এডিশনাল ডিআইজি (অপরাধ) শফিকুল ইসলাম প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

আইজিপি আরো বলেন, অনেকসময় দেখবেন গণপিটুনীতে ডাকাত মারা যায়। জনগণের আইন হাতে তুলে নেয়া উচিত নয়। ডাকাত যদি ধরা পড়ে তবে পুলিশে খবর দেবেন। কিন্ত তাকে পিটিয়ে মেরে ফেলা উচিত নয়।দেশবাসী যেন আইন হাতে তুলে না নেন। কোন অপরাধ সংঘটিত হলে তা তাদের নজরে আসলে তারা যেন অপরাধকারীদের আটকিয়ে পুলিশে খবর দেন। এ ব্যাপারে পুলিশের গাফিলতি থাকলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আইজিপি বলেন, ঈদ পরবর্তী সময়ে আবাসিক এলাকাসহ অনেক এলাকা ফাঁকা হয়ে যায়, মার্কেট বন্ধ থাকে। এগুলো মাথায় রেখে আমাদের নিজস্ব সিকিউরিটি অ্যারেঞ্জমেন্ট আছে। ওইসব এলাকায় যে ব্যবসায়িক কমিউনিটি আছে, আবাসিক এলাকায় যারা আছে তাদের সাথে যোগাযোগ করে আমরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেব। তবে জনগণের কাছে আমাদের আবেদন থাকবে তাদের নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা যেন তারা নিজেরাই করে। লোকজন গ্রামের বাড়ি চলে যাওয়ার সময়।
আইজি বলেছেন, ঈদ উপলক্ষে পঞ্চাশ লক্ষের বেশি লোক ঢাকা শহর থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেগ্রামের বাড়িতে যাবে আত্মীয় স্বজনের জন্য ঈদ উদযাপন করতে। এজন্য এ সময় গুলোতে মহাসড়ক গুলোতে প্রচন্ড চাপ পড়ে। মহাসড়কে যাতে গাড়ির চাপ না হয় এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় সে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। চন্দ্রা থেকে টাঙ্গাইল পর্যন্ত গাড়ির চাপ বেশি হয়। তাই এখানে বেশি জোড় দিয়েছি। হাইওয়ে পুলিশ, জেলা পুলিশ, শিল্পপুলিশ সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এখানে প্রতিবারের মতো ক্েট্রাল রুম করা হয়েছে, আইপি ক্যামেরার মাধ্যমে মনিটরিং করা হচ্ছে। যাতে রাস্তায় কোন রকম প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি না হয়, যানজট না হয়। যাতে কোন অপরাধ, চাঁদাবাজি না হয়। সেটা মনিটরিং করব। যারা গ্রামের গ্রামের বাড়িতে ঈদ উদযাপন করতে যাবেন, তারা যাতে নির্বিঘেœ যেতে পারেন তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করে যাব।

তিনি বলেন, বাস্তবতা মানতে হবে। লক্ষ লক্ষ লোক যখন যাবে তখন যানবাহন সামস্য থাকতে পারে। সেটা মাথায় রেখেও আমারা ব্যবস্থা নিয়েছি। আশাকরি বড় ধরণের কোন সমস্য হবে না। অন্যান্য বারের তুলনায় আরো ভাল প্রস্তুতি থাকবে। অজ্ঞাতপার্টি, মলমপার্টি, পকেটমার, ছিনতাইকারী এগুলের বিরুদ্ধে সাদা পোষাকে আমাদের লোক কাজ করছে।