মেইন ম্যেনু

রাজপ্রাসাদের নিচে মিলল ব্রিটিশ আমলের গুপ্ত বাঙ্কার

ব্রিটিশরা এ দেশ ছেড়ে চলে গিয়েছে ৬৯ বছর আগে। কিন্তু এতদিন পর তাদের আর এক কীর্তির খোঁজ মিলল ভারতের মহারাষ্ট্রে। রাজভবনের নীচে প্রায় ১৫০ মিটার লম্বা বাঙ্কার আবিষ্কার করলেন মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল স্বয়ং।

রাজভবনের পুরনো কর্মচারীদের মুখে এই বাঙ্কারের কথা মাস তিনেক আগে শুনেছিলেন রাজ্যপাল বিদ্যাসাগর রাও। এককালে এই মালাবার হিল ছিল ব্রিটিশ গভর্নরদের ছুটি কাটানোর ঠিকানা। গরমের দেশে গরমের ছুটি কাটাতে এই এলাকাকেই বেছে নিতেন সাহেব-সুবোরা৷ পরে লর্ড রে এখানে পাকাপাকিভাবে বাসও শুরু করেন। তাই রাজভবনের নিচে বাঙ্কারের অস্তিত্ব আছে শুনেই তা নিয়ে খোঁজখবর করার নির্দেশ দেন মহারাষ্ট্রের বর্তমান রাজ্যপাল৷ শেষমেশ দীর্ঘ কয়েক দশক পর দরজা খুলল এ বাঙ্কারের। একটি দেওয়াল দিয়ে আটকানো ছিল গুপ্ত বাঙ্কারের প্রবেশমুখ। তা ভাঙতেই ভিতরে খোঁজ যেন খোঁজ মিলল আর এক দুনিয়ার।

প্রথমে মনে করা হয়েছিল হয়তো একটি সুড়ঙ্গ আছে। কিন্তু তা নয়। রীতিমতো ব্যারাকই ছিল রাজভবনের নিচে। মোট ১৩ খানা ঘর রয়েছে এই বাঙ্কারে। বন্দুক, কার্তুজ ইত্যাদি রাখার আলাদা আলাদা ঘর সমেত প্রায় ৫০০০ স্কোয়ার ফুট জায়গা জুড়ে রয়েছে এই বাঙ্কার। তিন মিটার চওড়া আর ১২ ফুট উচ্চতার বাঙ্কারটিতে অস্ত্র রাখার পাশাপাশি মানুষের বাসের জন্য ঘরও আছে।

জানা যাচ্ছে, স্বাধীনতার পর থেকে আর এর দরজা কেউই খোলেননি৷ সত্তর বছরের মাথায় খুলল বিশাল দরজাটি৷ তবে সকলেই দেখে আশ্চর্য হলেন যে, বাঙ্কারে এত দশক পরেও কোনও ক্ষয় ক্ষতি হয়নি৷ যেমনটি ছিল তেমনই আছে৷ বাঙ্কারে নিকাশী ব্যবস্থাও আছে, এমনকী আলো-হাওয়া খেলার ব্যবস্থাও আছে। রাজ্যপাল নিজে বাঙ্কার ঘুরে দেখেছেন৷ তাঁর ইচ্ছে, ভবিষ্যতের জন্য এটি সংরক্ষণ করে রাখা হোক। বাঙ্কারের ইতিহাস খুঁজে বের করতে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথাও বলেছেন তিনি৷ রাষ্ট্রপতিকেও এই গুপ্ত বাঙ্কারের কথা জানানোর ইচ্ছে আছে তাঁর। -সংবাদ প্রতিদিন