মেইন ম্যেনু

“রাজভবনে” থেকেও সুখী নন রাষ্ট্রপতি!

৫৫ বছর ধরে রাজনীতি করেছেন। সাত বার নির্বাচিত হয়েছিলেন সংসদ সদস্য। বর্তমানে রাষ্ট্রের অভিভাবকের দায়িত্বে আছেন। বিশাল এলাকা জুড়ে বাড়ি। নিরাপত্তা থেকে শুরু করে তার সেবায় নিয়োজিত আছে অনেক কর্মকর্তা কর্মচারী। অফিস করতে বাইরে যেতে হয় না। এক কথায় কোন কিছুর কমতি নেই। এতকিছুর পরও নাকি স্তস্তিতে নেই বাংলাদেশের অভিভাবক রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ।

বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে এমনই মনোভাব প্রকাশ করেন তিনি, যার জীবনের বেশিরভাগ সময় কেটেছে কিশোরগঞ্জের হাওর অঞ্চলে।

দ্বায়িত্ব নেওয়ার তিন বছর পার হলো। কেমন লাগছে বঙ্গভবনের জীবন এমন প্রশ্নের জবাবে আবদুল হামিদ বলেন, “খারাপ সময় কাটছে এটা বলা মুশকিল। তবে আমার কাছে মনে হয়- আই ডোন্ট ফিল সো মাচ কমফোর্ট (খুব একটা ভালো অনুভব করিনা)। কারণটা হলো, এখানে মনে হয় স্বাধীনতা বিহীন একটা অবস্থায় আছি।”

রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনে যে আরামে থাকেন সে কথা তিনি অস্বীকার করছেন না। তবে আরাম থাকলেও আগের মতো স্বাধীনভাবে চলাফেরার সুযোগ তিনি হারিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, “এতো বড় বাড়িতে থাকি। বঙ্গভবন বাইরে থেকে মনে হয় রাজভবনের মত। রাজা-বাদশারা যে অবস্থায় থাকত তেমন মনে হয়। খুব আরাম আয়েশে থাকি, এটাই স্বাভাবিক।”

কোন বিষয়টিকে সমস্যা মনে হয় এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মনে চাইলেই চট করে যে কোন জায়গায় যাওয়া যায় না।

তিনি বলেন, “আমার কাছে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, সারা জীবন চলার যে একটা স্টাইল ছিল, এটার মধ্যে একটা বিরাট ছন্দপতন হয়ে গেছে। অর্থাৎ আমি আমার মন যখন যেটা চায় যে আমি এটা করব বা আমি ওখানে যাবো-এ ধরনের কত কাজই তো থাকে-মনে মনে। চিন্তা করি যে এটা করা দরকার, ওইখানে যাইতে হবে, তার সঙ্গে দেখা করতে হবে- দেখা গেলো এগুলো আমি পারি না- কারণ আমার যাওয়া খুবই কঠিন।”

তিনি মনে করেন, লোকজনকে বঙ্গভবনে নিয়ে আসা আর নিজে ইচ্ছে করে কোথাও যাওয়ার মধ্যে বিরাট পার্থক্য আছে।

রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তার জন্য রাস্তায় বের হলেই যে রাস্তা বন্ধ করে দেয়া হয়। এ বিষয়টি রাষ্ট্রপতির মধ্যে এক ধরনের অস্বস্তি তৈরি করে। তিনি বলেন, কোথাও যাবার জন্য মনস্থির করলেও নিরাপত্তার ব্যাপক আয়োজনের কথা মনে হলে সে ইচ্ছা ‘দমে যায়’।

আবদুল হামিদ আক্ষেপ করে বলেন, তিনি রাস্তায় বের হলে যতক্ষণ রাস্তা বন্ধ থাকে ততক্ষণে অ্যাম্বুলেন্সে থাকা কোন রোগীর মৃত্যুও হতে পারে।

হতাশা প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, “কারণ রাস্তা যেভাবে থাকে, সেভাবে আমাকে যেতে দিবে না। বিশেষ করে অন্য লক্ষ লক্ষ মানুষের যে সমস্যা সৃষ্টি হয় এটাই আমাকে সবচেয়ে ব্যথিত করে।”