মেইন ম্যেনু

রাজশাহীতে দেশের প্রথম সবজি ও মসলার হিমাগার নির্মিত

সরকার দুলাল মাহবুব: আমদানি নির্ভরতা কমাতে বাংলাদেশে এই প্রথম বাণিজ্যিক ভিত্তিতে মসলা, সবজি ও ফল জাতীয় সামগ্রী রাখার কোল্ডস্টোরেজ নির্মিত হয়েছে রাজশাহীর পবা উপজেলায়। রহমান স্পেশালাইজড কোল্ড ষ্টোরেজ (প্রাঃ) লিমিটেড নামের এই হিমাগারে সংরক্ষণ করা হচ্ছে আপাতত: গাজর, পিঁয়াজ, রসুন, কমলা, আদা, মালটা, শুকনা মরিচ ও আম। পরীক্ষাধীন আছে টমেটো সংরক্ষনের। প্রেক্ষিতে এ অঞ্চলে সবজি, মসলা ও ফলচাষে নীরব বিপ্লব ঘটবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

ঢাক-ঢোল না পিটিয়ে অনেক আঁধারেই নির্মিত হচ্ছে দেশের প্রথম এই কোল্ডস্টোরেজ। প্রতিটি ৫০ কেজির ৮০ হাজার বস্তা অর্থাৎ ৪০ লাখ কেজি ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন এই স্টোরে পিঁয়াজ ও রসুন সংরক্ষণে আছে। আগামীতে আম, টমেটো, আদা, আঙ্গুর, আপেল, মালটা সংরক্ষণ করা হবে।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক বানেশ্বর এলাকার এক মজুতকারি বলেন, নাটোর এলাকা থেকে উঠতিকালে রসুন কিনে এই স্টোরে রেখেছি। তখন প্রতিকেজি রসুনের পড়ন পড়েছিল ৩০ টাকা। বর্তমানে বাজারে প্রতিকেজি রসুনের পাইকারি দাম ১৪০ টাকা। প্রতিকেজিতে লাভ হবে নুন্যতম ১শ’ টাকার বেশী। তিনি বলেন, কৃষিপ্রধান এই দেশে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে এরকম হিমাগার ব্যবসায়ী ও প্রান্তিক কৃষক-চাষির আশীর্বাদস্বরুপ।

পিঁয়াজ, রসুন, আদা-প্রতিকেজি স্টোর ভাড়া ১০ টাকা। ভাড়া বেশী হচ্ছে না এমন প্রশ্নের জবাবে কর্তৃপক্ষ জানান, স্বাভাবিকভাবে বাড়িতে পিঁয়াজ-রসুন রাখলে শুকিয়ে ৫০ কেজিতে ৩০ কেজি পাওয়া যায়। আবার পচন ধরলে থামানো যায় না। স্টোরে রাখলে ওজন পচন সবই ঠিক থাকবে। উৎপাদিত ফসল নিয়ে কৃষকের দুঃশ্চিন্তা অনেকটা লাঘব হবে।

এ বিষয়ে মৌগাছি উচ্চ বিদ্যালয়ের কৃষি শিক্ষক নুরুল ইসলাম বলেন, শুধুমাত্র সংরক্ষণের অভাবেই উৎপাদিত অনেক ফসল ও ফল নষ্ট হয়ে যায়। এরকম একটি হিমাগার নির্মাণ সত্যিকার অর্থেই ভাল উদ্যোগ। এই এলাকার মানুষের ভাগ্য বদলে দিতে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, আমি কৃষকের ছেলে। পিঁয়াজ, রসুন বাড়িতে রাখলে বিভিন্ন সমস্যায় পড়তে হয়। এসব উৎপাদিত ফসল এখন বাড়িতে রাখলে একদিকে যেমন পচে যায় এবং অন্যদিকে তেমনি ওজন কমে যায়। এরপরও আছে ইঁদুরের অত্যাচার। যা প্রান্তিক কৃষকের অবাঞ্চিত দুর্যোগ। যদি সত্যিই হিমাগারটি রান করে তবে কৃষকের জন্য এটা সুখবর।

পবা উপজেলার আলাইবিদিরপুরে নির্মিত এই কোল্ড স্টোরের মহাব্যবস্থাপক আব্দুল হালিম বলেন, কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের সঠিক ওজন ও পচনরক্ষাসহ ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করণে স্টোরটি বড় ভুমিকা রাখবে। বর্তমানে ব্যবসায়ীরা স্টোরে পিঁয়াজ ও রসুন সংরক্ষন করেছেন। রসুনে ভাল লাভ হবে। তিনি আরো বলেন, একদিকে কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ভাল দাম পাবে এবং অন্যদিকে এসব পণ্যের দাম অনেকটা স্থিতিশীল থাকবে। কৃষক থেকে ভোক্তা পর্যন্ত এর সুফল পাবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।