মেইন ম্যেনু

রাজশাহীর উন্নয়নে সর্বাত্মক প্রচেষ্টার আশ্বাস বিভাগীয় কমিশনারের

সরকার দুলাল মাহবুব, রাজশাহী থেকে : গঙ্গা ব্যারেজ নির্মাণ, উত্তর রাজশাহী সেচ প্রকল্প বাস্তবায়ন ও সিএনজি স্টেশন স্থাপনসহ রাজশাহীর উন্নয়নে রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের ১৪ দফা দাবি বাস্তবায়নে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার আবদুল হান্নান।

তিনি বলেন, রাজশাহীবাসীর উন্নয়নে তিনি আগেও কাজ করেছেন। এখনো কাজ করে যাচ্ছেন। এ অঞ্চলের উন্নয়নে তিনি তার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। সোমবার রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের আয়োজনে বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলন কক্ষে রাজশাহীর উন্নয়ন শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, রাজশাহী নিয়ে তাঁর অনেক ভাবনা রয়েছে। এগুলো নিয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগ করছেন। প্রধানমন্ত্রীর কাছেও তিনি রাজশাহীর উন্নয়ন নিয়ে অনেক প্রস্তাব দিয়েছেন। রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের উত্থাপিত ১৪ দফা দাবি রাজশাহীর সার্বিক উন্নয়নে প্রতিফলন ঘটাবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তিনি আগেও ( জেলা প্রশাসক) থাকাকালে রাজশাহীর উন্নয়নে কাজ করেছেন। এখন আরো কাজ করবেন। ইতিমধ্যে নানা উন্নয়ন প্রকল্পও গ্রহণ করা হয়েছে।

রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি লিয়াকত আলীর সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় রাজশাহীর উন্নয়নে ১৪ দফা দাবি তুলে ধরেন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান। মতবিনিময় সভায় রাজশাহীর অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মনির হোসেনও মতামত ব্যক্ত করেন। মতবিনিময় সভায় রাজশাহী ছাড়াও চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

শুরুতেই রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের দাবিসমুহ উপস্থাপন করা হয়। এরপর এসব দাবি বাস্তবায়নের সম্ভাব্যতা তুলে ধরে মতবিনিময় করেন পরিষদের নেতারা। অন্যদের মধ্যে রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক দেবাশিষ প্রামানিক দেবু, ভাষা সৈনিক মোশাররফ হোসেন আখুঞ্জি, রাজশাহী চেম্বারের সাবেক সভাপতি আবু বকর আলী, নগর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ডা. আবদুল মান্নান, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সামাজিক সংগঠক শফিকুল ইসলাম ভোতা, জেলা লোকমোর্চার সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন আল আজাদ, বরেন্দ্র উন্নয়ন প্রচেষ্টার নির্বাহী পরিচালক ফয়েজুল্লাহ চৌধুরী, রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মামুন-অর-রশিদ, নাচোল উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আবু তাহের খোকন, নওগাঁর প্রতিনিধি রেজাউল ইসলাম সেলিম, রেঁস্তোরা মালিক সমিতির সভাপতি রিয়াজ আহমেদ খান, লেখক শাহ জিয়া উদ্দিন, ওয়েব সভাপতি আঞ্জুমান আরা পারভীন, নারী নেত্রী সেলিনা খাতুন, শাহনাজ পারভীন, জিএম হারুন, মিজানুর রহমান প্রমুখ।

বক্তারা রাজশাহীর উন্নয়নে ১৪ দফা বাস্তবায়নের দাবি করে বলেন, রাজশাহী জেলার দক্ষিন-পূর্ব পাশ ঘেঁষে পদ্মানদী প্রায় ৭০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যে বিস্তৃত। কৃষিভিত্তিক উত্তরাঞ্চলের মানুষ পানির বড়ই কষ্টে আছে। ভূ-উপরিস্থিত পানির ব্যবহার ছাড়া বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষি বিপ্লব ও এ অঞ্চলের মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন সম্ভব নয়। অতিমাত্রায় ভূ-গর্ভস্থ পানি ব্যবহারের ফলে ভূমিধ্বস ও জলবায়ূ বিরূপ প্রভাবসহ পরিবেশ মারাত্মক ভাবে ঝুঁকিপূর্ন হয়ে পড়েছে। ফলে এর মাশুল দিতে হবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে। এ প্রেক্ষিতে গঙ্গা ব্যারেজ প্রকল্প জরুরী ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।

এছাড়া উত্তর রাজশাহী সেচ প্রকল্প, বন্ধ গ্যাস লাইন সংযোগ চালুকরণ, সিএনজি পাম্প স্টেশন স্থাপন, রাজশাহী থেকে চট্রগ্রাম সরাসরি ট্রেন সার্ভিস চালু করন, আব্দুলপুর-রাজশাহী-রহনপুর ডুয়েল গেজ রেল লাইন নির্মাণ, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সেবার মানোন্নয়ন, ভুখন্ড রক্ষায় স্থায়ী নদী তীর প্রতিরক্ষা, কৃষিভিত্তিক ইপিজেড প্রতিষ্ঠা, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, ক্রিকেট টেষ্ট ভেন্যু স্থাপন, পদ্মা নদীর চরে সরকারি ভাবে অর্থনৈতিক জোন স্থাপন, আম, টমেটোসহ অন্যান্য ফল সংরক্ষণে কোল্ড ষ্টোরেজ স্থাপন এবং নারী শিল্পোদ্যোক্তাদের বিশেষ ঋণ সহায়তার দাবি জানান। এছাড়া চাঁপাইনবাগঞ্জের সঙ্গে রাজশাহীর নিবিড় যোগাযোগ স্থাপনের জন্য একটি সাটল ট্রেনেরও দাবি করেন বক্তারা।

সভায় রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান বলেন, এসব দাবিতে রাজশাহীর মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দীর্ঘদিন আন্দোলন সংগ্রাম চলছে। প্রধানমন্ত্রীকে একাধিকবার স্মারকলিপির মাধ্যমে অবগত করা হয়েছে। তবে বছরের পর বছর ধরে নানা আশ্বাস থাকলেও দাবিগুলো পূরণ হচ্ছে না। একারণে রাজশাহীবাসী অনেকটায় হতাশ। তিনি বিভাগীয় কমিশনারের মাধ্যমে জনবান্ধব সরকারের প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবারো দাবি করে বলেন, রাজশাহীবাসীর দাবি অনেক। এগুলো বাস্তবায়নের এখন সময় এসেছে। আঞ্চলিক বৈষম্য নয়, সমবন্টনের মাধ্যমে রাজশাহীর উন্নয়নের জন্য তিনি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।