মেইন ম্যেনু

রাজাপুরের বিষখালি নদী: জোয়ারে পানিবন্দি, ভাটায় ভাঙন

রহিম রেজা, রাজাপুর (ঝালকাঠি) থেকে: ঝালকাঠির রাজাপুরের বড়ইয়া ও মঠবাড়ি ইউনিয়নের বিষখালি নদী তীরবর্তী প্রায় ১০ টি গ্রামের সহ¯্রাধিক পরিবার পূর্ণিমার জোয়ারের প্রভাবে পানিবন্দি হয়ে পড়েন এবং ভাটার সময় ওইসব এলাকায় ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে।

বিভিন্ন স্থানের বাঁধ ভেঙে অসংখ্য গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানি বৃদ্ধিতে বড়ইয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ বড়ইয়া, বড়ইয়া, পালট, নিজামিয়া ও চল্লিশ কাহনিয়া এবং মঠবাড়ি ইউনিয়নের নাপিতেরহাট, মানকি, ডহরশঙ্কর ও বাদুরতলা বাজার, পুখরিজানাসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানের সহ¯্রাধিক পরিবার পানি বন্দি হয়ে পড়েন। নদী তীরবর্তী দক্ষিণ বড়ইয়া নাসিমা খাতুন নি¤œ মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ অনেকগুলো বিদ্যালয় পানিতে তলিয়ে যায়।

ফলে পানির মধ্যে চলে পাঠদান, দেয়া হয় ছুটি। ভাটায় পানি কমায় বড়ইয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ বড়ইয়া, বড়ইয়া, পালট, নিজামিয়া ও চল্লিশ কাহনিয়া এবং মঠবাড়ি ইউনিয়নের নাপিতেরহাট, মানকি, ডহরশঙ্কর ও বাদুরতলা বাজার, পুখরিজানাসহ বিষখালি তীরবর্তী বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে সাইক্লোন সেন্টার, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাজার ও সরকারি স্থাপনা হুমকির মুখে পড়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে এসব এলাকায় বসবাসকৃত পরিবারগুলোকে পানি বন্দি দেখা গেছে। রোপা আমন ও বীজতলার ব্যাপক ক্ষতি আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। বুধবার রাতে দক্ষিণ বড়ইয়া, মানকি ও চল্লিশ কাহনিয়া ও বাদুরতলায় ভাঙনে ফসলি ও বাগানের গাছপালাসহ কয়েক একর জমি বিষখালি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।

এ পর্যন্ত বিষখালী নদীর তীরবর্তী মঠবাড়ি ও বড়ইয়া ইউনিয়নের বহু গ্রাম, শিক্ষা-ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে দেড় হাজার একর আবাদি জমি। ভাঙ্গনরোধে সরকারি প্রতিশ্রুতি আজও বান্তবায়ন হয়নি। উপজেলার দক্ষিন বড়ইয়া ও দক্ষিণ পালট গ্রামের বাঁধ ভেঙে রোপা আমন ও আমনের বাজীতলাসহ নিমজ্জিত রয়েছে। কৃষকরা আমন বীজতলা রক্ষার জন্য নিজ উদ্যোগে ফসলি জমির মাটি কেটেই বাঁধ রক্ষার জন্য সংস্কারের চেষ্টা করলেও পানির স্রোতে তা রক্ষা করা যাচ্ছে না।

ক্ষতিগ্রস্থরা জানান, ভাঙ্গনরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড এখন পর্যন্ত কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। বর্তমানে বন্যা পরিস্থিতি দেখা দেওয়ায় আতঙ্ক রয়েছে। উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্র জানান, বিষখালি নদীতে স্থায়ী বেড়িবাঁধ না থাকায় তীরবর্তী এলাকায় প্রতিবছরই মাছ ভেসে যায়। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ রিয়াজ উল্লাহ বাহাদুর জানান, বিভিন্ন ফসল ও ধান চাষে ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। বড়ইয়া ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের (পালট) ইউপি সদস্য শাহাদাৎ হোসেন কাজল জানান, জোয়ারের সময় পানি বৃদ্ধিতে মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে।

এছাড়া নদীও ভাঙন দেখা দিয়েছে ভয়াবহ ভাবে। এ বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মনিরউজ্জামান জানান, জরুরি ভিত্তিতে বিষখালি নদীতে বেরিবাধ ও ভাঙ্গনরোধ প্রয়োজন। এ জন্য পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ে লিখিতভাবে আবেদন করা হয়েছে। দ্রুত বেড়িবাঁধ নির্মাণ করে ভাঙনরোধ করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, শিল্পমন্ত্রী ও পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়সহ সংশ্লিষ্ট সকলের আশুহস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।