মেইন ম্যেনু

রাজ্জাকের ওপর নির্যাতনের লোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন লালমোহন

টেকনাফের নাফ নদীতে বাংলাদেশের জলসীমায় অনুপ্রবেশ করে গোলাগুলির পর বিজিবির নায়েক রাজ্জাককে ধরে নিয়ে যায় মিয়ানমারের বিজিপি সদস্যরা। এতে বিপ্লব নামে একজন বিজিবি সদস্য গুলিবিদ্ধ হন। আহত হন অপর এক বিজিবি সদস্য।

এদিকে অপহৃত বিজিবি সদস্য রাজ্জাককে ফেরত আনার ব্যাপারে নানা ঘটনা শোনা যাচ্ছে। যে বিষয়টি সকলেই জানেন। কিন্তু ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে আরো দুজন। যে দুজনকে রাজ্জাকের সঙ্গে ধরে নিয়ে গিয়েছিল মিয়ানমারের বিজিপি। যাদের কথা সেভাবে গণমাধ্যমে উঠে আসেনি।

এর দুজন হলেন- টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের জলদাস পাড়ার নিলা কান্তি দাসের ছেলে লালমোহন দাস ও রামপদ দাসের ছেলে জীবন দাস। তাদেরকে পরে ছেড়ে দেয় বিজিপি।

বিজিবি নায়েক রাজ্জাকের ওপর মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপির নির্যাতনের লোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন বিজিপির হাত থেকে বেঁচে ফেরা জেলে লালমোহন দাস। দিনভর নির্যাতনের পর ছেড়ে দেওয়া হয় লালমোহন ও তার ভাগ্নে জীবনকে। পরে ওই দিনই জীবন বাজি রেখে চার কিলোমিটার নদী সাঁতরে ভাগ্নেসহ ফেরত আসা এই জেলে জানান বিজিপির নির্মমতার খবর।

লালমোহন বলেন, “প্রতিদিনের মতো নাফ নদীর লালদিয়া পয়েন্টে মাছ ধরার জাল বসিয়ে মাছ ধরছিলাম। প্রতিদিনই এই পয়েন্টে বিজিবি সদস্যরা টহল দেয়। ওইদিনও বিজিবি দুটি ট্রলারে করে টহল দিচ্ছিল। এ সময় বিজিবির একটি ট্রলার আমার নৌকার সামনে ছিল, অপরটি নৌকার পিছনে। বিজিবির সামনের ট্রলার এসে আমাদের নৌকা তল্লাশী চালায়। কিন্তু হঠাৎ মিয়ানমার থেকে একটি ট্রলার এসে আমাদের ওপর আচমকা গুলিবর্ষণ শুরু করে।

‘এক পর্যায়ে আমি এবং আমার ভাগ্নে পানিতে নেমে নৌকার একটি প্রান্ত ধরে পানিতে ভেসে থাকি। সেখান থেকে দেখি মিয়ানমারের বিজিপি বাহিনী বিজিবির এক সদস্যকে গুলি করে পানিতে ফেলে দেয় এবং আরেকজনকে মারধর করে পানিতে ফেলে দেয়। এরপর বিজিবি নায়েক রাজ্জাক ট্রলারের ভেতর থেকে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মিয়ানমারের সদস্যরা তাকে জাপটে ধরে বেঁধে ফেলে এবং মারধর করে।

‘ক্যাম্পে নিয়ে বিজিবি নায়েককে নগ্ন করে লাঞ্ছিত করে বিজিপি। শুধু তাই নয়, ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়ার পথে পুরো সময় তার ওপর নির্যাতন চলতে থাকে। সে সময় বিজিবির নায়েক রাজ্জাকের সঙ্গে আমাকে ও আমার ভাগ্নে জীবন দাসকেও ধরে নিয়ে যায় বিজিপি। সেখানে নায়েক রাজ্জাকের সঙ্গে আমরাও বিজিপির নিষ্ঠুর নির্যাতনের শিকার হই। পরে ওই দিন সন্ধ্যায় বিজিপি আমাদের ছেড়ে দিলে বহু কষ্টে নদী সাঁতরে দেশে ফিরে আসি।”

লালমোহন দাস আরো বলেন, ‘দুটি আলাদা নৌকায় আমাদের মারধর করতে করতে ধরে নিয়ে যাচ্ছিল তারা। নেওয়ার সময় তারা আমাদের বলে- সেখানে তোমাদের জিজ্ঞেস করলে বলবে যে, তোমরা মিয়ানমারের সীমানায় এসে জাল ফেলেছিলে। আমি মিথ্যা বলতে অস্বীকৃতি জানাই। সেজন্য আরো মারধর করা হয় আমাকে।’

লুৎফর নামে বিজিবির এক সদস্যকে সেদিন ধরতে এসে রাজ্জাককে ধরে নিয়ে যায় বিজিপি এমনটাই দাবি করেন লালমোহন।

তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারের সদস্যরা রাজ্জাকসহ আমাদের নিয়ে যাওয়ার পর বলে, বিজিবির লুৎফরকে ধরে এনেছি। আমাকেও জিজ্ঞেস করে এ লুৎফর কি না।’

কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) এর প্রাক্তন সংসদ সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী জানান, মারধর করে থাকলে সেটা অত্যন্ত অমানবিক। এটা কূটনৈতিক পর্যায়ে সমাধান হওয়া দরকার।

প্রসঙ্গত, গত ১৭ জুন বিজিবি ও বিজিপির গোলাগুলির ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হন বিজিবি সদস্য বিপ্লব। এতে আহত হন অপর এক বিজিবি সদস্য। সে সময় ধরে নিয়ে যাওয়ার এক দিন পর গত ১৮ জুন গণমাধ্যমে নির্যাতিত নায়েক রাজ্জাকের ছবি প্রকাশ করে বিজিপি।