মেইন ম্যেনু

রাণীনগরের ত্রিমোহনী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিত্যাক্ত ভবন ভেঙ্গে পড়ার আশঙ্কা!

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার প্রায় ৮৮বছরের পুরাতন ঐতিহ্যবাহী ৮নং ত্রিমোহনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিত্যাক্ত ভবন ভেঙ্গে পড়ে যে কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে ।

দীর্ঘ দিনের এই পরিত্যাক্ত ভবন অপসারনরে দাবি জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী, অবিভাবক ও সচেতন মহল। এছাড়াও ওই ভবনের খুলে পড়া জানালা, টিন , পাঠদানের কক্ষে রাখায় শিক্ষার্থীদের বসা ও পাঠদানের সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগকে বার বার অবগত করেও কোন কাজ না হওয়ায় বর্তমানে এই বিদ্যালয়ে প্রায় ৪শত ৪জন শিক্ষার্থী প্রতিদিন গাদা-গাদি করে পাঠ গ্রহন করছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহসিন আলী জানান, ১৯২৫ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করার সময় মাটির তৈরি ভবন দিয়ে যাত্রা শুরু হলেও দেশ স্বাধীন হওয়ার পূর্বে প্রতিষ্ঠানটি নানা সমস্যায় জর্জড়িত থাকলেও স্বাধীনতা অর্জনের পর বিদ্যালয়টিকে সরকারি করন করা হয়।

সেই সময় মাটির কয়েকটি কক্ষ নির্মাণ করে পাঠদান করা হতো। এরপর ১৯৮২ সালে টিন শেটের চার কক্ষ বিশিষ্ট একটি ভবন নির্মাণ করা হয়। দীর্ঘদিন ব্যবহার ও সংস্কার না করার ফলে ওই ভবনের শ্রেণি কক্ষগুলো পাঠদানের অনুপযোগী হলে ২০০০ সালে নতুন ৫কক্ষ বিশিষ্ট আর একটি দ্বিতল ভবন নির্মাণ করে ওই কক্ষগুলো পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়।

এর পর ভবনগুলো পরিত্যক্ত ঘোষণা করার দীর্ঘ ১২বছর পার হলেও সরকারি ভাবে ভেঙ্গে ফেলার কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। ফলে বিদ্যালয় চলাকালে কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীরা সবার অজানতেই ওই কক্ষে খেলাধুলা করে। কারণে যে কোন বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে বলে আশংকা করছেন ছাত্র/ছাত্রী অভিভাবকবৃন্দু।

একাধিকবার ঝড়ে এই ভবনের টিনগুলো উড়ে যাওয়ায় শত শত টাকার সম্পদ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কক্ষগুলোর লোহার জানালা-দরজা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় রাতের আধারে এই সব পরিত্যাক্ত কক্ষগুলোতে মাদকের আসর বসে এলাকার দুর্বৃত্তদের। এর মধ্যে কয়েকটি জানালা, দরজা , টিন খুলে পড়লে পাঠদানের শ্রেণি কক্ষে রাখতে বাধ্য হয়েছেন। যার কারণে শিক্ষার্থীদের একই কক্ষে গাদাগাদি করে পাঠ গ্রহণ ও বসার সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।

বিদ্যালয়টি বর্তমানে ২নং কাশিমপুর ইউপি’র পিএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। কিন্তু পিএসসি পরীক্ষার সময় কক্ষের স্বল্পতার কারণে অনেক সমস্যায় পড়তে হয় স্কুল কর্তৃপক্ষকে। এই সমস্যার কারণে পাশের ত্রিমোহনী উচ্চ বিদ্যালয়ের কিছু কক্ষ নিয়ে কেন্দ্র চালাতে হয় বলে প্রধান শিক্ষক জানান। তিনি আরও বলেন যদি এই পরিত্যাক্ত ভবন ভেঙ্গে নতুন করে কিছু ভবন তৈরি করা হয় তাহলে একটি সুন্দর পরিবেশে শিক্ষার্থীরা পাঠ গ্রহণ করতে পারবে এবং এই কক্ষের স্বল্পতার সমস্যা দূর হবে।

বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী রেশমা জানায়, শ্রেনি কক্ষগুলো ছোট ও কক্ষে জানালা, টিনসহ ভাঙ্গা ব্রেঞ্চ রাখা ও কক্ষে অর্ধেক বদ্ধ হয়ে থাকায় তাদের বসার অসুবিধা হচ্ছে।

চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র রিয়াদ হোসেন জানায়, বিদ্যালয়ের ৫টি কক্ষেও মধ্য একটি কক্ষ শিক্ষকদের হওয়ায় বাকি চারটি কক্ষে আমাদেরকে গাদাগাদি করে পাঠ নিতে হচ্ছে এতে একই কক্ষে এক সাথে অনেক শিক্ষার্থীদের বসার কারণে পরিপূর্ণ ভাবে আমরা সুষ্ঠু ও শান্ত পরিবেশে পাঠ গ্রহণ করতে পারি না।

কমিটির সভাপতি আফজাল হোসেন জানান, গত কয়েক বছর থেকে সমাপনি পরীক্ষায় শতভাগ পাশ থাকলেও প্রায় ৪শত ৪জন শিক্ষার্থীর জন্য পর্যাপ্ত বেঞ্চ, শ্রেণি কক্ষ, লাইব্রেরী নেই। যার কারণে ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশুনা করার ক্ষতি হচ্ছে। পরিত্যাক্ত ভবনের দেয়াল ফেটে গেছে। ঝড়ে টিন খুলে উড়ে যে কোন সময় বড় ক্ষতি ও দেওয়াল ভেঙ্গে পড়তে পারে। তিনি আরো বলেন, ২০১১সালের শেষ দিকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করা কালে বিষয়টি জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।

এব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মজনুর রহমান জানান, এই বিদ্যালয়ের সমস্যা চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জানানো হয়েছে ।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোনিয়া বিনতে তাবিব জানান, দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।