মেইন ম্যেনু

রাণীনগরে জামালগঞ্জ-মিঠাপুর বিশ্ববাঁধ সড়ক যেন মরণ ফাঁদ

কাজী আনিছুর রহমান, রাণীনগর(নওগাঁ) থেকে : নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার মিরাট ইউনিয়নের প্রত্যন্ত জনপদের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া খড়শ্রোতা আত্রাই নদীর তাঁর সংরক্ষন বিশ্ব বাঁধের সড়কটি খানা-খন্দ আর ভাঙ্গাচুরার কারণে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। জামালগঞ্জের মোড় হতে মিঠাপুর বাজার পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার সড়কটি পানি উন্নয়ন বোর্ড ও এলজিইডি’র রশি টানাটানির কারণে অভিভাবকহীনতায় ১৪ বছর ধরে চরম বেহাল দশায় পরিণত হয়ে আছে। অবশেষে সড়কটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্বাবধানে যাওয়ায় খুব শীঘ্রই নতুন ভাবে পাকা করণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানা গেছে। জানা গেছে, উপজেলা সদর খেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার পশ্চিমে প্রত্যন্ত এক জনবসতি ইউনিয়নের নাম মিরাট। আয়তনের দিক দিয়ে প্রায় ২২ হাজার জনসাধারণের বাস। স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, মাদ্রাসা ও বাজার থাকলেও ভুংগুর যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে কোন প্রতিষ্ঠানেই যখাযথভাবে জনসেবা দিতে পারছেনা। নদী আর বিল বেষ্ঠিত এলাকা হওয়ায় উপজেলা সদরের সাথে সরাসরি চলাচলের কোন সড়ক না থাকায় নওগাঁর পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক নির্মিত বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ কাম পাকা সড়কেই এই ইউনিয়ন বাসীর একমাত্র ভরসা। তবে বর্ষা মৌসুমে নৌকা চলাচলের কারণে তারা কিছুটা উপকৃত হয়। জীবন-জীবিকার তাগিদে এখান থেকে বেশ কিছু লোকজন নওগাঁর মান্দা উপজেলার পাশ্ববর্তী হওয়ায় জামালগঞ্জ-মিঠাপুর বাজার হয়ে উঁচুু-নিচু গর্ত আর খানা-খন্দে ভরা ইট বিছানো সড়ক দিয়ে মান্দা ও রাণীনগর উপজেলা সদরে যাতাযাত করে। উপযুক্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় ওই এলাকার কৃষি পণ্য বিশেষ করে উৎপাদিত ধার ও ভুট্রা নিয়ে মৌসুমের শুরুতেই মিরাটের কৃষকরা নায্য মূল্য পাওয়া নিয়ে মারাতœক পিকাকে পড়ে। মহাজনদের পাওনা ও পারিবারিক খরচ মিটাতে পানির দামে ধান, ভুট্রা ও অন্যান্য শাক-সবজি ফরিয়াদের কাছে বিক্রয় করতে বাধ্য হয়। পাকা আর ভাঙ্গাচুরা সড়ক বলতে জামালগঞ্জ ও মিঠাপুর বাজার পর্যন্ত সড়ক দিয়েই প্রতিদিন এলাকার হাজার হাজার মানুষ পারিবারিক প্রয়োজনের জন্য চরম ভোকান্তি স্বর্তেও বাধ্য হয়েই চলাচলের কারণেই প্রতিদিনই ঘটেই চলেছে ছোট-বড় দূর্ঘটনা। এউ সড়ক দিয়ে প্রতিনিয়ত মিরাট, ধনপাড়া, হামিদপুর , বৈঠাখালী , আতাইকুলা , হরিশপুর , আত্রাই উপজেলার কালিকাপুর , বান্দাইখাড়া , নন্দলালী, শুটকিগাছাসহ অনেক গ্রামের মানুষ যাতাযাত করে । সড়কের মাঝে মাঝে ইট , মাটি উঠে গিয়ে প্রায় ১ থেকে ২ ফুট পর্যন্ত গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে এই সব গর্তে পানি জমে কাঁদা-পানিতে একাকার হয়ে তৈরি হয় ছোট ছোট বিপদজনক গর্ত। যা চলাচলের সময় কোনটা সড়কের ভাল অংশ আর কোনটা গর্ত দিনে-দুপুরেও বোঝে উঠা মসকিল। রাতে তো এই বিপদ লেগেই থাকে। প্রতিদিনই এই সব এলাকার মানুষদের নিত্যদিনের প্রয়োজন মিটাতে মরণ ফাঁদ নামক এই সড়কটিই ব্যবহার করতে হচ্ছে। এই সড়ক দিয়ে প্রতিনিয়ত ব্যাটারী চালিত অটো রিক্্রা, ভটভটি ও মোটর সাইকেল সহ মাঝারি আকারের যানবাহন চলাচল করার সময এই সব গর্তে উল্টে গিয়ে হতাহতের ঘটনা প্রায়ই ঘটেই চলছে। বর্ষা মৌসুমের আগেই যদি সড়কটি সংস্কার কিংবা পুন:নির্মাণ কাজ করা না হলে চলাচলের জন্য অনুপযোগি হয়ে পড়া সড়কটি আরও বিপদজনক হয়ে পড়বে বলে স্থানীয়রা জানান। সরকারের নানা উন্নয়ন মুখি প্রকল্প আসে প্রকল্প যায় কিন্তু এই সড়কটি উন্নয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোন নজরদারি নেই।

এব্যাপারে মিরাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো: জামাল উদ্দিন জানান, আমার ইউনিয়ন নদী আর বিল বেষ্টিত হওয়ার কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থা একেবারেই অবহেলিত। পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধ কাম পাকা সড়কটিই আমার ইউনিয়ন বাসীর যোগাযোগের একমাত্র ভরসা। জামালগঞ্জ- মিঠাপুর বাজার পর্যন্ত এই বাঁধ কাম সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে ভাঙ্গাচুরার কারণে এলাকাবাসীর চরম দূর্ভোগ পোহাতে হয়। জনস্বার্থে আমি সড়কটি কয়েকদফা মেরামতের উদ্যোগ নিয়ে নানা কারণে তা করতে পারিনি। সড়কটি পূন:নির্মাণ একান্ত জরুরী। রাণীনগর উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো: সাইদুর রহমান মিঞা জানান, জামালগঞ্জ-মিঠাপুর সড়কটি সংস্কার কাজের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর চাহিদাপত্র দেওয়া আছে। বরাদ্দ পাওয়া মাত্রই সংস্কার কাজ শুরু করা হবে বলে তিনি জানান।