মেইন ম্যেনু

রাণীনগরে হাজার বছরের প্রাচীন নিদর্শন আবিষ্কারের খনন কাজ শুরু

কাজী আনিছুর রহমান, রাণীনগর (নওগাঁ) সংবাদদাতা : নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার উজালপুর গ্রামে প্রায় হাজার বছরের প্রাচীন চারটি বৌদ্ধ বিহারের সন্ধান পাওয়া গেছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন গবেষক বিহার ৪টি আবিষ্কার করেছেন। প্রত্নতত্ব অধিদপ্তরের অনুমতি নিয়ে ব্যাক্তি উদ্যোগে এই প্রথম এগুলোর একটিতে ইতিমধ্যে খনন কাজও শুরু করা হয়েছে। আর এগুলো আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে জেলার ইতিহাসে নতুন মাত্রা যোগ হবে বলে মনে করছেন ইতিহাসবিদরা।

রাণীনগর উপজেলার একডালা ইউনিয়নের উজালপুর গ্রামে অনুসন্ধানী টিম মনোযোগ দিয়ে বিহার আবিস্কারের কাজ করে যাচ্ছেন। প্রত্নতত্ত্ববিদ বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা যাদুঘরের সহকারী পরিচালক পিএইচডি গবেষক মোহাম্মদ আবু আল হাসান এর নেতৃত্বে ৬ সদস্যের একটি টিম এই খনন কাজ করছেন।

জানা গেছে গত প্রায় দেড় বছর ধরে প্রত্নতত্ব গবেষক মোহাম্মদ আবু আল হাসান পুরাকির্তী নিদর্শন আবিষ্কারে ব্যাপক গবেষনা কাজ সম্পন্ন করেন। তার গবেষনায় রাণীনগর উপজেলার একডালা ইউনিয়নে রাজাপুর ঢিবি, দিঘীর পাড় দীপ, ঘোড়া পাতা ও উজালপুর এই চারটি স্থানে পাল বংশেরও আগের প্রায় হাজার বছরের প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন থাকার সম্ভনা তথ্য উঠে আসে। এর পরই তথ্য অধিদপ্তরের অনুমতি নিয়ে ব্যাক্তিগত অর্থায়নে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগীতায় গত রোববার থেকে শুরু করেন খনন কাজ।

মোহাম্মদ আবু আল হাসান জানান, নওগাঁ জেলার বদলগাছি, ধামইরহাট, সাপাহার, নিয়ামতপুরসহ অন্য উপজেলাগুলোতে ঐতিহাসিক নিদর্শন রয়েছে। তবে জেলার দক্ষিন নিম্নাঞ্চলের রাণীনগর ও আত্রাই এলাকায় অনেক উচু ঢিবি থাকলেও সেখানে কোন অনুসন্ধান চালানো হয়নি। এমন চিন্তাধারা থেকে ওইসব এলাকা থেকে গত প্রায় দেড় বছর ধরে অনুসন্ধান চালিয়ে রাণীনগর উপজেলার ওই চারটি স্থানে পাল বংশ এবং তার আগের সময়ের প্রাচীন পুরাকির্তীর অস্তিত্তের সন্ধান পাওয়া যায়।

এরপর ২০১৫ সালের জুলাই মাস থেকে উজালপুর গ্রামের ঈদগাহ মাঠের ঢিবি’র পরীক্ষা নিরীক্ষা প্রাথমিকভাবে এখানে ঐতিহাসিক নিদর্শন রয়েছে নিশ্চিত হয়ে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অনুমতি নিয়ে চলতি বছর ১৭ এপ্রিল থেকে একান্ত ব্যক্তিগত উদ্যোগে খনন কাজ শুরু করেছি। প্রত্নতত্ববিদ আবু আল হাসান বলেন খননকালে পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারের আকৃতিতেই অবকাঠামো পাওয়া গেছে। পুরোপুরি নিশ্চিত না হলেও প্রাথমিকভাবে এটি বৌদ্ধদের কোন জ্ঞান ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান বলেই প্রতীয়মান হয়েছে। খনন কাজ করতে গিয়ে মাটির নিচে বিহারের অবকাঠামোই বলছে এটি বৌদ্ধদের ধর্মচর্চার একটি বিদ্যাপিঠ ছিল। কারন এই বিহারের সাথে জেলার পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারের অবকাঠামোর যথেষ্ট মিল রয়েছে। তবে পুরো খনন কাজ শেষ না করা পর্যন্ত বিহারটি সম্পর্কে সঠিকভাবে কিছু বলা যাবেনা। তিনি আরো জানান,খনন কাজ দেখতে ছুটে আসেন দেশ বরেন্য ইতিহাস গবেষক ড. পিনাকী ভট্রাচার্যসহ বেশ কিছু প্রত্নতথ্য গবেষক। এ ধরনের আরও অনেক বিহার ছড়িয়ে আছে। তাই আরও ব্যাপক গবেষনার প্রয়োজন আছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে এমন ঐতিহাসিক বিহার আবিষ্কারের খবরে খুশি এলাবাসীও। উজালপুর গ্রামের নজরুল ইসলাম,স্থানীয় মাদ্রাসা শিক্ষক নাছির উদ্দীন বলেন শত শত বছর ধরে এই উঁচু ঢিবি এখানে অবস্থান করছিল। এটি কোন ইতহাস ঐতিহ্যের নিদর্শন হতে পারে তা তাঁদের ভাবনায় ছিলনা। প্রাথমিক ভাবে এই ঢিবির উচ্চতা ছিল ১৫ থেকে ১৭ ফুট পর্যন্ত। পরবর্তীতে সরকারের ৪০ দিনের কর্মসৃজন কর্মসূচীর আওতায় এখান থেকে মাটি কেটে ঈদগাহ হিসেবে ব্যবহার শুরু হয়। বছরে দু’টি ঈদের জামাত পড়্ াশুরু হয়। বর্তমানে এটি কোন প্রত্নত্বিক নিদর্শন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে জেনে আমরা আনন্দিত। এজন্য তারা আবিস্কারক প্রত্নত্ববিদ আবু আল হাসানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।