মেইন ম্যেনু

রাণীনগর ও আত্রাইয়ে ধানে চিটা ॥ দিশেহারা কৃষক

কাজী আনিছুর রহমান, রাণীনগর (নওগাঁ) সংবাদদাতা : নওগাঁর রাণীনগর ও আত্রাইয়ে শত শত বিঘা জমির ইরি-বোরো ধান চিটা হয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। এতে কৃষক দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। অধিকাংশ কৃষক তাদের খরচের টাকাও ঘরে তুলতে না পারায় পরিবার পরিজন নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন। কৃষকরা অভিযোগ করেন, ধানের চিটা দেখা দেয়ার পর কৃষি কর্মকর্তাদের কোন সহযোগীতা না পাওয়ায় তারা এ ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।

রাণীনগর উপজেলায় চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে ১৯ হাজার ১শত হেক্টর জমিতে ও আত্রাই উপজেলায় ১৮ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে ধান চাষ করা হয়েছে। এর অধিকাংশ জিরাশাইল। ধানও ভালো হয়। কিন্তু হঠাৎ করে দেড় সপ্তাহ আগে রাণীনগর উপজেলার সদর ইউনিয়নের সিম্বা ও খাগড়া,বড়গাছা ইউনিয়নে বড়গাছা, আকনা, বাঁশবাড়িয়া, দেউলিয়া, খাসগড়,নলদীঘি, গোনা ইউনিয়নের গোনা, বহলা ও পিরপাড়া এবং আত্রাই উপজেলার মনোয়ারী ইউনিয়নের নওদূলি, বাঁকা, নইদিঘী ভোঁপাড়ার ইউনিয়নের জামগ্রাম, তিলাবাদুড়ী , জালুপোঁয়াতা, শাহাগোলা ইউনিয়নের কয়সা,চাপড়া, লহিপুরসহ আরো ১০/১২ টি গ্রামের মাঠে ধানের শীষের গোড়ায় কালো দাগ দেখা দেয়। এ ঘটনায় কৃষকরা প্রাথমিকভাবে স্থানীয় কীটনাশক ব্যবসায়ীদের পরামর্শে জমিতে কীটনাশক  ধার রক্ষা করতে পারেনি।

রাণীনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এসএম গোলাম সারোয়ার জানান, গত বছর বন্যা হওয়ায় জমির মাটিতে পলি পড়ে উর্বর ছিল। এরপর কৃষক বেশি সার দিয়েছেন তাদের জমিতে ধান চিটা হয়ে গেছে। কৃষকদের অভিযোগ সত্য নয় বলে দাবি করেন। তিনি আরো বলেন, ঘটনাটি জানান পর কৃষকদের সার্বক্ষণিক পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

আত্রাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কেএম কাওছার হোসেন জানান, গত দেড় সপ্তাহ আগে এলাকায় ঝড় বৃষ্টি হয়েছে। এ কারনে আত্রাই উপজেলার মনোয়ারি এলাকায় ২শত হেক্টর জমিতে ধানের চিটা দেখা দিয়েছে। এ ব্যাপারে কৃষকদের ব্যাপক পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই ধান কাটা- মাড়াই পুরোদমে শুরু হবে। এতে তেমন কোনো ক্ষতি হবে না বলে দাবি করেন তিনি।