মেইন ম্যেনু

রাণীশংকৈল ডিগ্রি কলেজের ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকদের স্মারকলিপি প্রদান

সফিকুল ইসলাম শিল্পী, রাণীশংকৈল, ঠাকুরগাঁও: ঠাকুরগাঁও রাণীশংকৈল উপজেলার সর্ববৃহৎ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত “রাণীশংকৈল ডিগ্রি কলেজটি জাতীয়করণ না হওয়ায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে ১৮ জুলাই, সোমবার দুপুরে ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকদের বিক্ষোভ ও স্মারকলিপি প্রদান করেন রাণীশংকৈল ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ তাজুল ইসলাম।

এই বৃহৎ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি জাতীয়করণ না হয়ে একটি পার্শ্ববর্তী মহিলা কলেজকে জাতীয়করন করা হয়েছে। এতে রাণীশংকৈল এর সর্ব স্তরের মানুষ নিরাশ হয়েছে, এমনটি বললেন ঐ কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও রাণীশংকৈল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সইদুল হক। এ সময় ইউএনও খন্দকার মোঃ নাহিদ হাসান কে স্মারকলিপি প্রদান করেন অধ্যক্ষ মোঃ তাজুল ইসলাম।

সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন, প্রভাষক ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি শফিকুল আলম, প্রশান্ত কুমার বসাক । অত্র কলেজের সকল সাধারণ শিক্ষক, কর্মচারী ও প্রায় চার সহ¯্রাধিক ছাত্র-ছাত্রী উপস্থিত হয়ে উপজেলা পরিষদ চত্বরে স্মারকলিপি প্রদানের মাধ্যমে শোক র‌্যালিতে অংশ নেয়।

জানা গেছে, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সরকারের আনুকুল্যে যুদ্ধবিদ্ধস্ত সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশকে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধুর আর্দশ সৈনিক ও মুক্তিযুদ্ধ সংগঠকদের প্রচেষ্টায় এবং তৎকালীন আওয়ামীলীগ এমপি মরহুম আলী আকবর যার সুযোগ্য কণ্যা সেলিনা জাহান লিটা এর বাবা কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন। অধ্যক্ষ তাজুল ইসলাম বলেন- বর্তমানে ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল উপজেলাধীন, রাণীশংকৈল পৌরসভার প্রাণকেন্দ্রে প্রধান সড়ক সংলগ্ন উপজেলা প্রশাসনের নিকটবর্তী কুলিক নদী বিধৌত মনোরম পরিবেশে ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে স্থাপিত হয় রাণীশংকৈল মহাবিদ্যালয়। সময়ের সাথে সাথে উচ্চ মাধ্যমিক স্তর পেরিয়ে ¯œাতক শ্রেণীতে সকল বিভাগ সহ অতঃপর ৭টি বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু সহকারে বর্তমানে “রাণীশংকৈল ডিগ্রি কলেজ” নামে অত্র কলেজটি ঠাকুরগাঁও জেলার সর্ববৃহৎ ও সমৃদ্ধশালী বেসরকারী কলেজের স্থান অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। বর্তমানে এ প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ৪৮৪০ জন। সুদক্ষ গভর্ণিং বডি ও অভিজ্ঞ শিক্ষক মন্ডলী দ্বারা অত্যন্ত সুনামের সাথে অত্র কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। বিগত পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল অত্যন্ত সন্তোষজনক। কলেজটির নিজস্ব বিশাল খেলার মাঠ, ৫.০৬ একর জমির উপর বৃহৎ আকারের একটি কেন্দ্রিয় শহীদ মিনার সহ অবকাঠামোগত সার্বিক সুবিধা-যা সবুজ ছায়ায় ঘেরা ও সুরক্ষিত সীমানা প্রাচীর দ্বারা পরিবেষ্ঠিত। ৫টি দ্বি-তল ভবন যার প্রতিটি ১২০ী২৮´ ফুট এবং একটি ৪তলা ভবন নির্মাণাধীন। আমার নির্বাচনী এলাকা বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ আসন-৪, ঠাকুরগাঁও-২, রাণীশংকৈল উপজেলার ২টি ইউনিয়নসহ হরিপুর ও বালিয়াডাঙ্গি নিয়ে গঠিত। রাণীশংকৈল উপজেলা সহ অত্র এলাকার শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি, শিক্ষার বিস্তৃতি ও নারী শিক্ষা সম্প্রসারণের জন্য অত্র এলাকার ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক ও আপামর জনসাধারণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা জেলার সমৃদ্ধশালী বেসরকারী “রাণীশংকৈল ডিগ্রি কলেজ” কে জাতীয়করণ করা হলে নির্বাচনী অঙ্গিকার পূরণ হবে, জনগণ অত্যন্ত সন্তুুষ্ট হবে এবং মাননীয় প্রধান মন্ত্রি জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকারের মহৎ উদ্দেশ্য সফল হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

তিনি আরও বলেন, সরকারের গৃহীত নীতিমালা অনুযায়ী প্রত্যেক উপজেলায় একটি করে কলেজ জাতীয়করণের ক্ষেত্রে আর্দশ উপজেলা হিসাবে ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল উপজেলাধীন সমৃদ্ধশালী বেসরকারী কলেজ “রাণীশংকৈল ডিগ্রি কলেজ” কে জাতীয়করণ করা একান্ত আবশ্যক। এ সময় উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শফিকুল আলম বলেন- মহিলা কলেজকে বাদ দিয়ে রাণীশংকৈলের প্রাণ কেন্দ্র ও আওয়ামী লীগের ঘাটি রাণীশংকৈল ডিগ্রি কলেজ কে জাতীয়করণ করা হোক।