মেইন ম্যেনু

রানা প্লাজা ধস: রানাসহ ৪১ জনের বিচার শুরু

রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় ৪১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। এ অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হলো।

সোমবার আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ এস এম কুদ্দুস জামান এ অভিযোগ গঠন। একই সঙ্গে বিচারক আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর মামলাটিতে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য করেছেন।

আসামিপক্ষে শুনানি করেন সানাউল্লাহ মিয়া এবং ফারুক আহম্মেদ। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের প্রধান সরকারি কৌঁসুলি খন্দকার আবদুল মান্নান।

মামলার আসামিরা হলেন ভবন মালিক মো. সোহেল রানা, প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম, মো. আব্দুল সামাদ, উপপ্রধান পরিদর্শক মো. জামশেদুর রহমান, ইমারত পরিদর্শক মো. আওলাদ হোসেন, মো. আব্দুল হামিদ, সোহেল রানার বাবা মো. আব্দুল খালেক ওরফে খালেক কুলু, সাভার পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ড কমিশনার মোহাম্মদ আলী খান, উপসহকারী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান রাসেল, নিউওয়েব বাটন লিমিটেডের চেয়ারম্যান বজলুস সামাদ আদনান, নিউওয়েব স্টাইলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহমুদুর রহমান তাপস, ইথার টেক্সটাইলের চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান ওরফে আনিসুজ্জামান, মো. আমিনুল ইসলাম, সাইট ইঞ্জিনিয়ার মো. সরওয়ার কামাল, আবু বকর সিদ্দিক, মো. মধু, অনিল দাস, মো. শাহ আলম ওরফে মিঠু, মো. আবুল হাসান, সোহেল রানার মা মর্জিনা বেগম, প্রাক্তন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উত্তম কুমার রায়, মো. ইউসুফ আলী, মো. সহিদুল ইসলাম, মো. আতাউর রহমান, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের প্রাক্তন উপপ্রধান পরিদর্শক মো. আব্দুস সালাম, বিদ্যুৎ মিয়া, তাসলিম, সাভার পৌরসভার বরখাস্তকৃত মেয়র আলহাজ্ব মো. রেফাত উল্লাহ, মো. আমিনুল ইসলাম, প্রাক্তন সহকারী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান, নগর পরিকল্পনাবিদ ফারজানা ইসলাম, উপপ্রধান পরিদর্শক মো. বেলায়েত হোসেন, ইথার টেক্সটাইলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জান্নাতুল ফেরদৌস, মো. শরিফুল ইসলাম ভূইয়া, মনোয়ার হোসেন বিপ্লব, সৈয়দ শফিকুল ইসলাম ওরফে জনি, রেজাউল ইসলাম, নান্টু কনট্রাক্টর, আব্দুল মজিদ, নয়ন মিয়া ও পরিদর্শক প্রকৌশল মো. ইউসুফ আলী।

আসামিদের মধ্যে প্রথম ছয়জন কারাগারে, পরের ২৩ জন জামিনে এবং শেষের ১২ জন পলাতক রয়েছেন।

গত ১৬ জুন একই ঘটনায় দায়ের করা ইমারত নির্মাণ আইনের মামলায় সোহেল রানাসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত।

গত বছরের ১ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার বিজয় কৃষ্ণ কর। ওই বছরের ২১ ডিসেম্বর এ মামলার ৪১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করে ২৩ আসামি পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। বিভিন্ন সময়ে কয়েকজন আদালতে আত্মসমর্পণ করলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এরপর বিভিন্ন সময় তারা আদালত থেকে জামিন নিয়ে কারামুক্ত হন।

প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল রানা প্লাজা ধসে ১ হাজার ১১৭ জনকে মৃত উদ্ধার করা হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ১৯ জন মারা যায়। ধ্বংসস্তূপ থেকে ২ হাজার ৪৩৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। মৃত উদ্ধারকৃতদের মধ্যে ৮৪৪ জনের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ডিএনএ পরীক্ষার নমুনা রেখে ২৯১ জনের অশনাক্তকৃত লাশ জুরাইন কবরস্থানে দাফন করা হয়। জীবিত উদ্ধারকৃতদের মধ্যে ১ হাজার ৫২৪ জন আহত হন। তদের মধ্যে গুরুতর আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেন ৭৮ জন।