মেইন ম্যেনু

রাবিতে চলছে নানা রঙে বৈশাখী প্রস্তুতি

ইয়াজিম ইসলাম পলাশ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়: উত্তপ্ত দুপুর। তুলি হাতে ব্যস্ত অনেকেই, কেউ সাজাচ্ছে পালকি, কেউ বানাচ্ছে ফেস্টুন, কেউবা আবার কাগজের নানা প্রতিকৃতি। চলছে এমনই রমরমা প্রস্তুতি। বৈশাখের রঙ যেন সবার প্রাণে। এমন তপ্ত পরিবেশও যেন দমাতে পারেনি তাদের উচ্ছ্বাস। লক্ষ্যটা তাদের পহেলা বৈশাখকে ঘিরে। বলছিলাম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের প্রস্তুতি সর্ম্পকে। সবার আকর্ষণ যেন এই বিভাগকে ঘিরে।

চারুকলা বিভাগকে কেন্দ্র করেই শুরু হয় দিনের প্রথম কর্মসূচি। চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থী নাসরিন শিলা বললেন তাদের প্রস্তুতির কথা। তারা বাঙ্গালি সংস্কৃতিকে তুলে ধরার জন্য, বাঙ্গালির ঐতিহ্যকে ফুটিয়ে তুলতে রঙ তুলিকেই বেঁছে নিয়েছেন। এরই মধ্যে বিভিন্ন ধরনের মুখোশ, ফেস্টুন, পেঁচা, বাঘ, হাতি, ফুল ও পরী প্রভৃতির কাজ শেষ করেছেন। চলছে আরোও নানা আয়োজন। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও বিভাগের মধ্যে শুভেচ্ছা কার্ড বিতরণে ধুম পড়েছে।

বৈশাখী প্রস্তুতি সর্ম্পকে কথা হয় চারুকলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম রানার সাথে। যেন এক চিলতে সময় নেই তাঁর। তিনি জানালেন পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে সবথেকে বড় মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন করবেন তারা। এবার তারা খোল ্ও ঢুগঢুগিকে সাজিয়েছেন আকর্ষণ হিসেবে। এছাড়াও এবার দুইদিনব্যাপী একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করবেন তারা। তাই এসব নিয়ে খুব ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন তিনি।

এছাড়াও এই দিনটিকে ঘিরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি বিভাগ তাদের নিজ নিজ আয়োজনে ব্যস্ত। সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এই প্রাণের উৎসবকে ঘিরে নাটক, কবিতা, নৃত্য, আবৃত্তি ও সংগীতের জোর মহড়া চলছে গত কয়েকদিন থেকে। রাবির সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বিভিন্ন সংগঠন তাদের স্বকীয়তা বজায় রাখতে নানা বৈচিত্রের সমন্বিত উদ্যোগ নিয়েছে। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য সংগঠন সুন্দরন, স্বনন, স্মান, রেটোরিক প্রভৃতি বৈশাখকে বরণ করতে নানা প্রস্তুতি গ্রহণ করছে।

পোশাক ও খাবার নিয়েও যেন আলাদা আয়োজন। শিক্ষার্থীদের অনেকেই ব্যস্ত পোশাক ক্রয় করতে। গরমের কথা বিবেচনায় সুতি কাপড়ই ফ্যাশন হাউজগুলো বেঁছে নিয়েছে তাদের পছন্দে। তাই শিক্ষার্থীরা রাজশাহীর বিভিন্ন শপিং সেন্টারে গিয়ে সেড়ে নিচ্ছে কেনাকাটা। অনলাইনেও কিনছেন তাদের পছন্দের পোশাক। তবে সবার পছন্দে লাল আর সাদা রঙের বাহারটাই যেন বেশি। প্রসাধনীর ক্ষেত্রে মেয়েরা মাটির তৈরি বিভিন্ন দুল, চুড়ি, মাথার ব্যা-, ঢাক ঢোল নকশাকৃত ব্যাগ প্রভৃতিকে বেঁছে নিচ্ছে। বিনোদপুর, সাহেব বাজার, নিউ সুপার মার্কেট, জিরো পয়েন্টসহ রাজশাহীর বিভিন্ন মার্কেটে পাওয়া যাচ্ছে পছন্দের এসব জিনিসপত্র।

রাবির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী জহুরুল বলেন, বৈশাখে বাঙালিয়ানা শতভাগ ফুটিয়ে তুলতে আমরা অনেক কিছুই করে থাকি। যার মধ্যে অন্যতম হলো চিরায়ত বাংলার রীতি অনুসরণ করে পহেলা বৈশাখের প্রভাত বেলায় বাংলার ঐতিহ্য পান্তা ইলিশ খাওয়া। বিগত বছরের ন্যায় এ খাবার পরিবেশনে ফুঠে উঠবে বৈশাখী আমেজ। এমন চাওয়া থেকে আমরা বৈশাখের প্রথম দিন মাটির তৈজসপত্র ব্যবহার করে থাকি, যা আমাদের পান্তা ইলিশ পরিবেশনে নতুন মাত্রা যোগ করে। প্রতিবারের ন্যায় এবছরও আমরা দিনটি যথাযথভাবে পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছি।

এতোকিছুর পরেও নিরাপত্তার কথাটা যেন থেকেই যায়। নিরাপত্তা প্রসঙ্গে কথা হয় রাবির প্রক্টর ড. মো. মজিবুল হক আজাদ খানের সাথে। তিনি বলেন, ‘ঢাবির টি.এস.সির মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে সেই বিষয়কে মাথায় রেখে রাবির নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে। বিভিন্ন মোড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

নববর্ষের অন্যতম উপাদান পান্তা ইলিশ। তাই ক্যাম্পাসের বিভিন্ন দোকানগুলোতে পান্তা ইলিশের আয়োজন করবে দোকানিরা। তবে বরাবরের মতোই ইলিশের দাম বেশি বলে দাবি করলেন তারা। সর্বোপরি বৈশাখীকে বরণ করতে পিছিয়ে নেই কোন আয়োজন, চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি।