মেইন ম্যেনু

‘রাবি শিক্ষক হত্যায় ৪ জেএমবি জড়িত’

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক এএফএম রেজাউল করিম সিদ্দিকী হত্যাকাণ্ডে চারজন জেএমবি সদস্য অংশ নেয়। এরমধ্য গ্রেফতার জেএমবি সদস্য মাসকাওয়াত হাসান সাকিব ওরফে মাসুদ ওরফে আবদুল্লাহসহ আরও দু’জন সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। আরেকজন রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কে মোটরসাইকেল নিয়ে অবস্থান করছিলেন। হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে দু’জন মোটরসাইকেলে ও দু’জন অটোরিকশায় পালিয়ে যায়।

হত্যাকাণ্ডের ২৪ দিনের মাথায় পুলিশ হত্যা রহস্যসহ ঘাতকদের আটক করেছে।

রাজশাহী মহানগর পুলিশ সদর দফতরে মঙ্গলবার (১৭ মে) দুপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার মো. শামসুদ্দিন এ সব তথ্য জানান।

পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডে গ্রেফতার জেএমবি সদস্য মাসকাওয়াত হাসান সাকিব ওরফে মাসুদ ওরফে আবদুল্লাহ ছাড়াও আরও তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারাও জেএমবি সদস্য। এ হত্যাকাণ্ডে তারা সহায়তা ও আশ্রয়দানকারী। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে আবদুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা জানালেও কেন শিক্ষক রেজাউল করিমকে হত্যা করা হয়েছে তা জানায়নি। তবে ১৬ এপ্রিল শিক্ষক রেজাউল করিমকে হত্যা করার চেষ্টা করা হলে তাতে ব্যর্থ হয়েছিল বলেও জানান আবদুল্লাহ।’

পুলিশ কমিশনার মো. শামসুদ্দিন বলেন, ‘আমরা মূল জায়গায় হাত দিয়েছি। এ হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশগ্রহণকারী মাসকাওয়াত হাসান সাকিব ওরফে আবদুল্লাহকে ১৫ মে দিবাগত রাতে গাইবান্ধা থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন ১৬ মে সোমবার আদালতের মাধ্যমে হাজির করা হলে আসামি আবদুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার দিবাগত রাতে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বোয়ালিয়া মডেল থানার খড়খড়ি এলাকা থেকে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিও উদ্ধার করা হয়েছে।

এ ছাড়া গ্রেফতারদের বাড়ি থেকে একটি চাপাতি ও একটি ছোরা উদ্ধার করা হয়। তবে আসামি আবদুল্লাহর দাবি, উদ্ধার হওয়া চাপাতি ও ছোরা হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়নি। হত্যাকাণ্ডে অন্য চাপাতি ব্যবহার করা হয়েছে।’ তবে তদন্তের স্বার্থে গ্রেফতার তিনজনের নাম-পরিচয় প্রকাশ করেননি রাজশাহীর পুলিশ কমিশনার।

তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গতরাতে গ্রেফতারদের দুপুরে আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন জানানো হবে।

প্রসঙ্গত, ২৩ এপ্রিল শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নগরীর শালবাগান এলাকায় নিজ বাসা থেকে মাত্র ১০০ গজ দূরে দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে হত্যা করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. এএফএম রেজাউল করিম সিদ্দিকীকে। তার গ্রামের বাড়ি রাজশাহীর বাগামারার দরগামারিড়ায়। সেখানে তার একটি গানের স্কুল আছে। তিনি কোনো রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন না। সংস্কৃতিমনা ব্যক্তিত্ব ছিলেন। এ ঘটনায় নিহত শিক্ষকের ছেলে রিয়াসাত ইমতিয়াজ সৌরভ বাদী হয়ে মামলা করেন।