মেইন ম্যেনু

রামপাল ও ওরিয়নের বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ স্থগিত করার দাবি

রামপাল ও ওরিয়নের বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ স্থগিত করার দাবি জানিয়েছে সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটি। এছাড়া কমিটির পক্ষ থেকে সুন্দরবনের পাশে বিভিন্ন শিল্পগোষ্ঠীর বিদ্যুৎ প্রকল্প ও কারখানা বন্ধে সরকারের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে শনিবার দুপুরে ‘সুন্দরবন সুরক্ষায় সরকার ও জাতিসংঘের প্রতি নাগরিক সমাজের আহবান’শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা সুলতানা কামাল এসব দাবি জানান।

সুলতানা কামাল বলেন, ‘সুন্দরবনের পরিবেশগত প্রভাব সমীক্ষা (ইআইএ) অবিলম্বে বাতিল করে, জাতিসংঘের নেতৃত্বে একটি আন্তর্জাতিক ও নিরপেক্ষ সমীক্ষা পরিচালনার করে প্রতিবেদন চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত রামপাল ও ওরিয়ন বিদ্যুত প্রকল্পের কাজ স্থগিত করার দাবি জানাচ্ছি।’

তিনি বলেন, সুন্দরবন প্রশ্নে সরকারের নির্লিপ্ততা ও যেনতেন প্রকারে রামপাল প্রকল্প বাস্তবায়নের দৃঢ়তায় দেশবাসী উদ্বিগ্ন। বাংলাদেশের পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় এবং নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় রামপাল বিষয়ে তাদের আপত্তির কথা অনেক আগেই জানিয়েছেন। কিন্তু সরকার কিছুই আমলে নেন নি।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বের অন্যতম ক্ষতিগ্রস্ত দেশ। আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্ব দরবারে জলবায়ু ক্ষতির বিষয়টি বেশ ভালোভাবে তুলে ধরছেন। কিন্তু সরকার দেশের মধ্যেই সুন্দরবনের পাশে এমন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলছে, যা বাংলাদেশকে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকারক দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছে।’ এই অবস্থান থেকে বেরিয়ে আসতে সরকারে প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় কমিটির সদস্যসচিব ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক আবদুল মতিন বলেন, ‘সরকার সুন্দরবন রক্ষার বিষয়টি গুরুত্বই দিচ্ছে না। উন্নয়নের নামে যা করার তাই করছেঅ। এ কারণে সুন্দরবনের চারপাশে পরিবেশ ধ্বংসকারী বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান করার উদ্যোগ অনুমোদন দিচ্ছে।’

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ শামসুল আলম বলেন, ‘সুন্দরবন আমাদের সুরক্ষা দিচ্ছে তাই সুন্দরবনকে সুরক্ষা দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। আমরা অক্ষত সুন্দরবন চাই।’