মেইন ম্যেনু

রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিরোধিতায় দিল্লিতেও বিক্ষোভ

বাংলাদেশের রামপালে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিরোধিতায় বিক্ষোভ করেছে ভারতীয়রা। এ বিষয়ে গত মঙ্গলবার নয়াদিল্লির সামাজিক ও বেসামরিক কর্মীরা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে একটি খোলা চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে তারা বাংলাদেশের রামপালে প্রস্তাবিত তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ভারতের সমর্থন প্রত্যাহার করার আহ্বান জানান।

মঙ্গলবারই ঢাকায় একই দাবিতে সুন্দরবন বাঁচাও আন্দোলনকারীরা যখন মোদির কাছে একটি খোলা চিঠি দিতে ভারতের হাইকমিশনারের কাছে মিছিল নিয়ে রওনা হয় তখন তা মালিবাগ রেলগেটে পুলিশের বাধার মুখে পড়ে এবং একপর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হলে পুলিশ বেশ কয়েকজনকে আটক করে। সংঘর্ষের সময় পুলিশ গরম পানি ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। তবে নয়াদিল্লিতে একই দাবিতে মোদির কাছে চিঠি দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হলে তা কোনো রকম বাধার মুখে পড়েনি।

নয়াদিল্লির প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা ঢাকায় আন্দোলনকারীদের প্রতি সমর্থন জানান। বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের ১৪ কিলোমিটারের মধ্যে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ এই বনের পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর।

ভারতের পিপলস মুভমেন্ট জোটের নর্মদা বাঁচাও আন্দোলনের মধুরেশ কুমার বলেন, বাংলাদেশের পরিবেশ আন্দোলনকারীরা প্রস্তাবিত রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্পের বিরোধিতা করছেন। তারা এ প্রকল্পকে জীবনের উপর হুমকি বলে মনে করেন।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের সামাজিক কর্মীরা ভারতে আসতে চেয়েছিলেন। আমরাও ওই প্রকল্পের বিরুদ্ধে বড় একটি বিক্ষোভের আয়োজন করতে চেয়েছিলাম। তবে ভিসার পাওয়ার ব্যাপারে সমস্যা হওয়ায় তা আর সম্ভব হয়নি। গত মার্চে বাংলাদেশে রামপাল বিরোধিদের ভারত বিরোধী আখ্যা দেওয়া হয়।

এদিকে ভারতের ফরেষ্ট ওয়ার্কিং পিপল অল ইন্ডিয়া ইউনিয়নের সদস্য অশোক চৌধুরী বলেন, আমরা উন্নয়নের বিরুদ্ধে নয়। তবে প্রস্তাবিত জায়গায় ওই প্রকল্পের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান। আমাদের দাবি, প্রস্তাবিত স্থান থেকে এই প্রকল্পটিকে সরিয়ে নিতে হবে। সুন্দরবনের পরিবেশের সুরক্ষার দিকেও নজর দিতে হবে।

মোদির কাছে দেয়া ওই চিঠিতে বলা হয়, আমরা মোদির কাছে বাংলাদেশের ওই প্রকল্পে বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারত ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে রাপপাল প্রকল্পে ভারতের সমর্থন প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে। কেন না সুন্দরবন ভারতেরও ৪০ শতাংশ অংশে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে বলা হয়েছে, দুই দেশের পরিবেশের স্বার্থে এই প্রকল্প থেকে ভারত সরে আসুক।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এই প্রকল্পের বিরোধিতার দরুন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। তার জীবন রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী যেন বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কথা বলেন। অধ্যাপক আনু মুহাম্মদকে হত্যার হুমকির জন্য নিন্দা জানানো হয়। মোদিকে অনুরোধ জানান, সেখানে রাজনৈতিকভাবে যেন তাদের হেনস্থা না করা হয়।

চিঠিতে স্বাক্ষর করেন, অল ইন্ডিয়া ইউনিয়ন অব ফরেস্ট ওয়ার্কিং পিপল’সর সদস্য অশোক চৌধুুরী, ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স অব পিপলস মুভমেন্টস’র নরমাদা বাঁচাও আন্দোলনের মধুরেশ কুমার ও রমা মালিক। গ্রীন পিস ইন্ডিয়ার প্রিয়া পিল্লি, ভারত জান বিগিয়ান যাত্রার সৌম্য দত্ত, ফোকাস অন গ্লোবাল সাউথের আফসার জাফরি, সেন্টার ফর ফিনান্সিয়াল একান্টটেবিলিটির আয়েশা ডিসোজা, মাচিমার অধিকার সংঘর্ষ সংগঠনের ভারত প্যাটেল, ব্যাঙ্গালুরুর এনভাইরনমেন্টাল সাপোর্ট গ্রুপ ট্রাস্টের গৌতম বন্দোপাধ্যায় সহ কয়েক ডজন সংগঠনের নেতারা। সূত্র: ডেইলি স্টার