মেইন ম্যেনু

রামপাল বিদ্যুত কেন্দ্র কেন হবে?

সায়েদুল আরেফিন : বাংলাদেশে একটা বিপ্লব হতে চলেছে এমন ধারণা অনেকের। না এটা কোন চাপাতি বা আইএস বিপ্লব নয়। জ্ঞান বিপ্লব। রাতারাতি দেশে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার আর সংবিধান বিশেষজ্ঞের সংখ্যা বেড়ে গেছে। সবাই কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার আর সংবিধান বিশেষজ্ঞের মত করে কথা বলছেন বা বিশেষজ্ঞদের কথার প্রতিধ্বনি করছেন জেনে বা না জেনে। না জেনে কী জেনে সে বিচার করার দায়িত্ব আমার না, আমি সরকার নিয়োজিত জাতীয় অধ্যাপক নই এই বিষয়ে। একটু গভীরে যাবার জন্য নেট ঘাটতে লাগলাম গত রাতে সুযোগ পেয়ে। বাসায় মেহমান ছিল তাই শুতে যাবার তাড়া ছিল না।

বাগেরহাটে ৬৬০ মেগাওয়াটের দু’টি সুপার থার্মাল পাওয়ার প্লান্ট হচ্ছে, যার ক্ষমতা মোট ১৩২০ মেগাওয়াট। কাজ শুরু হবে ২/৩ মাসেই, চুক্তি সই হয়ে গেছে। প্লান্ট দু’টোর অবস্থান সুন্দরবনের কিনারা থেকে ১৪ কিলোমিটার আর ইউনেস্কো ঘোষিত ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ পয়েন্ট থেকে ৬৯ কিলমিটার দূরে যা ইউনেস্কো প্রতিনিধি এসে সরেজমিন দেখেও গেছেন। কয়লা দিয়ে বিদ্যুৎ করলে সুন্দরবনের কতটুকু ক্ষতি হবে!

আসুন এই সুযোগে দেখে নিই কোন কোন দেশ কয়লা দিয়ে বিদ্যুৎ তৈরী করছেন। তাঁরা কতটুকু পরিমাণ করছেন তাঁদের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের। আমেরিকা ৪০%, অস্ট্রেলিয়া ৭৮%, চীন ৭৯%, জার্মানি ৪১%, জাপান ২৭%, ভারত ৬৮%, দক্ষিণ আফ্রিকা ৯৩%, মালয়েশিয়া ৩৩%, বাংলাদেশ ২.০৫%।

এবার দেখি বাংলাদেশের সম্পদ কী কী আছে যা দিয়ে আমরা বিদ্যুৎ তৈরী করতে পারি। অপশন গুলো হচ্ছেঃ জল বা পানি বিদ্যুৎ – সম্ভাবনা প্রায় শূন্য, আমাদের দেশে এতো জমিও নাই যেখানে সোলার পাওয়ার প্লান্ট বসাবো, নাই উইন্ড মিলের মাধ্যমে বাতাস থেকে বিদ্যুৎ তৈরী করার সুযোগ। তেল আর কয়লা ছাড়া উপায় নেই। তেলের দাম ইদানিং কম, কিন্তু কতদিন কম থাকবে তার কোন নিশ্চয়তা নেই। সবচেয়ে কম খরচে বিদ্যুৎ হতে পারে কয়লাকে জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করে। নিরুপায়, অসহায় বাংলাদেশের বর্তমান সরকার সেই উদ্যোগই নিয়েছেন।

এবার আসি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ক্ষতি নিয়ে। বাংলাদেশের দামী শিক্কা প্রতিষ্ঠান, বুয়েটের গবেষণায় বলছে- রামপালের চারপাশের বাতাসে সালফার অক্সাইড পরিমাণ আছে ৯.১ মাইক্রোগ্রাম/ ঘন মিটার। রামপালের প্রস্তাবিত সুপার থার্মাল পাওয়ার প্লান্টের এফজিডি (ফুয়েল গ্যাস ডি-সালফারাইজেশন) সিস্টেম বাতাসে অতিরিক্ত সালফারের নির্গমনের পরিমাণ প্রায় শূন্য (১.৫ ভাগ) হয়ে যাবে।

আইন অনুযায়ী রামপালের বাতাসে সালফারের পরিমাণ থাকতে পারে ৮০ মাইক্রোগ্রাম/ ঘন মিটার। এবার আসি রামপালের চারপাশের বাতাসে। এখানে নাইট্রোজেন অক্সাইডের পরিমাণ আছে ১৮ মাইক্রোগ্রাম/ ঘন মিটার। রামপালের প্রস্তাবিত সুপার থার্মাল পাওয়ার প্লান্টের সিস্টেম বাতাসে নাইট্রোজেন অক্সাইডের নির্গমনের পরিমানও প্রায় শূন্য করে দেবে। ১৯৯৭ সালের পরিবেশ আইনে বলেছে, রামপালের বাতাসেও নাইট্রোজেন অক্সাইডের পরিমাণ থাকতে পারে ১০০ মাইক্রোগ্রাম/ ঘন মিটার।

বুয়েটের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডক্টর কাজী বায়েজীদ কবির এনার্জি এন্ড পাওয়ার পত্রিকায় দেওয়া এক সাক্ষাতকারে অনেক তথ্য দিয়ে বলেছেন যে, রামপালে ৪০০০ মেগাওয়াটের কয়লা বিদ্যুৎ প্লান্ট করলেও সুন্দরবনের কোনই ক্ষতি হবে না। যারা ক্ষতির কথা বলছেন তাদের অন্য উদ্দেশ্য থাকতে পারে। এটা নিয়ে তাদের বৈজ্ঞানিক যুক্তি বা প্রমাণ ধোপে টিকবে না কোথাও।

এবার আসি কারা এই প্রকল্পের বিরোধীতা করছে? এদের একটা বিরাট অংশ তারা যারা ১৯৭১ সালে চীনের সাথে একাত্ম হয়ে আমাদের স্বাধীনতার বিরোধীতা করেছিল। তারা এই দেশের কল্যাণ বা উন্নতি চায় না। তারা সংখ্যার কম হলেও লেখা লেখিতে আর চাপাবাজিতে অনেক পটু। তাদের সাথে যোগ দিয়েছে সরকার বিরোধীরা যারা রাজনৈতিক ফায়দা লুটার জন্য বিরোধীতা করে সব সময়। আরেকজন সব সময় থাকেন স্রোতের অনুকূলে, যারা সেই সব তরুণ, যুবা বা হাল্কা টাইপের মানুষ, যারা কোন কিছুর গভীরে যান না। সুরে সুর মিলিয়ে হৈ হৈ করে থাকেন। তাই তো সোশ্যাল মিডিয়ায়সহ নানা মাধ্যমে চলছে খুব হাউ কাউ রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে।

রামপাল নিয়ে জাপানে অবস্থানরত বাঙ্গালি এক সাবধানী কিন্তু বুদ্ধিমান সহযোগী অধ্যাপক একটা পোষ্ট দিলেন। এতা সেই গুড় ছিটানোর গল্পের মত। দেখি কী হয়।

আমি বললাম, আপনি আমি দুজনেই উন্নয়ন কর্মী। তথ্য দিয়ে কথা বলা বা পোষ্ট দেওয়া ভালো। আপনি জ্ঞানী লোক একটু ভেবে দেখবেন। আর যায় কোথায় তাঁর সহযোগী জাপানে অবস্থানরত একাধিক সারমেয় ওমনি ঘেউ ঘেউ শুরু করে দিলো। ভাবলো না নাজানি পাছে তাদের ময়লা খাবারের ভাগ আমি নিয়ে ফেলি। সারমেয়রা নিজের উদর পূর্তির জন্য ময়লা আবর্জনা খায়, স্বজাতি বা অন্যজাতির কেউ ওইদিকে তাকালেই ঘেউ ঘেউ শুরু করে দেয়। ভাগ কমে যেতে পারে এই আশংকা বা ভয়েই।

বিদেশে বসে তারা চরম দেশপ্রীতি দেখাতে জানবাজি রাখার ভান করে থাকে। এদের একটা বিরাট অংশ সেই পরিবারের সদস্য যারা ১৯৭১ সালে চীনের সাথে একাত্ম হয়ে আমাদের স্বাধীনতার বিরোধীতা করেছিল। তারা এই দেশের কল্যাণ বা উন্নতি চায় না। টাকা থাকলেও দেশে মুখ পায় না, তাই বিদেশে থাকে অনেকে (সবাই না)।

অ্যামেরিকা আর কোরিয়ার স্বাধীনতার তাদের পরবর্তী অবস্থায় নেওয়া পদক্ষেপকে আমাদের দেশের কল্যাণে আমলে নেওয়ার সময় এসেছে এখন। যে কোরিয়রা কোরিয়ায় কলোনী বানাতে জাপানীদের সাহায্য করেছিল তাদের কোরিয়ায় বলা হয় ছিনিল্পা মানে জাপানপন্থী। আর আমেরিকায় যারা ব্রিটিশদের সহায়তা করেছিল আমেরিকাকে উপনিবেশ করে রাখতে, আমেরিকায় তাদের যা বলাহয় তার বাংলা হলো রাজাকার। আমেরিকার তদানীন্তন প্রেসিডেন্ট এইসব রাজাকারদের মারতে গুলি খরচ না করে গরম আলকাতরার মধ্যে চুবিয়ে মারার কথা বলেছিলেন। কোরিয়া আর অ্যামেরিকা এইসব রাজাকার আর তাদের আওলাদদের তিন জেনারেশন সরকারের উচ্চ পর্যায়ের পলিসি লেভেলে আর আইনশৃখলা বাহিনী বা কোন উন্নয়ন প্রকল্পের বড় পদে চাকরী দেয় নি, আইন করে।

কারণ সুযোগ পেলেই ওরা ছোবল মারবে, কেননা রক্তে তাদের দেশ বিরোধিতা। মোনেম খানের নাতিরা আজো আমাদের প্রিয় বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সক্রিয় তাই তারা জীবনের ঝুকি নিয়ে জঙ্গি হয়। কূখ্যাত রাজাকার পরিবারের সদস্য মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (বিএনপি’র মহাসচিব) ছাত্রজীবনে ছাত্র ইউনিয়নের সদস্য হয়েও তার রক্তের টান ভুলতে পারে নি, ফিরে এসেছে রক্তের টানে, আসল যায়গায়। এমন অনেক প্রমান আছে সারা দেশে, সব মহল্লায়। তাই সাধু সাবধান।