মেইন ম্যেনু

‘রাষ্ট্রের প্রশ্রয়ে উত্তরায় অস্ত্র মজুদ’

উত্তরায় পুকুরে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র মজুদের ঘটনায় রাষ্ট্রের মদদ ছিল বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন রাষ্ট্রের উচ্চ পর্যায়ের মদদ না থাকলে ওই এলাকায় এতগুলো অস্ত্র বহন করে নিয়ে যাওয়া কঠিন ছিল। যে ধরনের অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে সেগুলো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবহার করে বলেও দাবি করেন তিনি।

বুধবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এসব কথা বলেন।

গত শনিবার বিকালে উত্তরার দিয়াবাড়ির একটি খাল থেকে ৯৭টি, ৪৬২টি ম্যাগাজিন, ১,০৬০টি গুলি, ১০টি বেয়নেট ও ১০৪টি গুলি তৈরির ছাঁচ উদ্ধার করে পুলিশ। এসব অস্ত্র কারা এবং কী উদ্দেশ্যে সেখানে মজুদ করেছিল তা এখনো জানাতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম বিভাগকে।

ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া এই অস্ত্র মজুদের ঘটনায় বিএনপি-জামায়াত জোটের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। তবে বিএনপি নেতা রিজভী বলছেন, পুলিশের বক্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, ডিএমপি কমিশনারের বক্তব্য শুধু অনভিপ্রেত নয়, মনে হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর স্বভাবসূলভ বক্তব্যের সমতুল্য। তার বক্তব্যে আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্যেরই প্রতিধ্বনি হয়েছে। মনে হয়েছে ঢাকার পুলিশ কমিশনার আওয়ামী লীগ নামীয় দলটির পোর্টফলিও হোল্ডার। পৃথিবীর কোনো দেশে যেখানে নূন্যতম আইনের শাসন আছে সেখানে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা দায়িত্বশীল বক্তব্য রাখেন। ক্ষমতাশীন রাজনৈতিক প্রভুদের অন্যায় আচরণের নির্লজ্জ অনুসরণ করে না।

রিজভীর দাবি, যে অস্ত্রগুলো উদ্ধার করা হয়েছে সেগুলো পুলিশসহ বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবহার করে। তারাই এগুলো আমদানি করে। নম্বরবিহীন একটি পাজেরো গাড়িতে আনা এসব অস্ত্র সেখানে ফেলা হয়েছিল বলে দাবি করেন রিজভী। বলেন, অশুভ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এসব অস্ত্র খালে ফেলা হয়েছিল বলে জনগণ বিশ্বাস করে।

ব্রিফিংয়ে সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহতের ঘটনা সম্পর্কে কথা বলেন রিজভী। তিনি বলেন, বন্দুকযুদ্ধের নামে পুলিশ যাকে খুশি তাকে হত্যা করছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই জঙ্গি তৈরি করে বন্দুকযুদ্ধের খেলা খেলছেন। এর অংশ হিসেবেই এসব হত্যাকাণ্ড চলছে বলে অভিযোগ করেন রিজভী।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতা খায়রুল কবির খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও আব্দুস সালাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।



« (পূর্বের সংবাদ)