মেইন ম্যেনু

রাস্তায় নেমে বলতে হয়, হে সরকার আমি নির্যাতিত

‘দুর্বৃত্তরা শাসক দলের চারপাশে থেকে জনগণের সম্পদ লুট করে, গুম, খুন, ধর্ষণ করে। এসব দুর্বৃত্তদের বিচার হয় না, কারণ তাদের পেশিশক্তিকে পুঁজি করেই শাসক গোষ্ঠী ক্ষমতায় টিকে থাকে। রাষ্ট্র তথা সরকার দুর্বৃত্তদের লালন-পালন করে, প্রশ্রয় দেয় এবং মেইনটেইন করে চলে। তাই তনু হত্যার মততো ঘটনাগুলোর কোনো বিচার হয় না।’

সোমবার সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে তনু হত্যার বিচারের দাবিতে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) আয়োজিত এক মানববন্ধনে এসব কথা বলেন দলটির কেন্দ্রীয় কার্যপরিচালনা কমিটির সদস্য শুভ্রাংশু চক্রবর্তী।

তিনি বলেন, ‘দেশে একটি অদ্ভুত নিয়ম চলছে। জনগণের ওপর নির্যাতন হবে, গুম-খুন-ধর্ষণ হবে, অথচ স্বাভাবিক উপায়ে তার কোনো বিচার হবে না। রাস্তায় নেমে চিৎকার করে বলতে হবে, হে সরকার, আমি নির্যাতিত। আমি বিচার চাই। তারপরও সরকারের টনক নড়বে না। এটা কি কোনো আইনের শাসন হলো?’

দেশে নতুন এক ব্যারামের প্রাদুর্ভাব ঘটেছে উল্লেখ করে এই বাম নেতা বলেন, ‘শুধু নারীই নয়, শিশুদেরও নির্যাতন, গুম, খুন করা হচ্ছে। এসব দায় সরকার এড়িয়ে যেতে পারবে না।’

এমন পরিস্থিতিতে বিরোধী দলগুলোর ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কোনো জায়গায়ই কোনো ব্যক্তি, নারী বা শিশু নিরাপদ নয়। তাহলে এই নিরাপত্তার ইস্যুতে তথাকথিত বিরোধীদলগুলো কেন কোনো আন্দোলন করছে না?’

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মাননীয় অর্থমন্ত্রী অনেক কথা বলেন। তিনি নিজেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অভিভাবক বলেন। তিনি মনে করেন, গভর্নর তার অধীনেই চাকরি করে। তাহলে গভর্নরের সঙ্গে সঙ্গে তিনিও পদত্যাগ করলেন না কেন? তিনি কেন অর্থ চুরির বিষয়ে কোনো কথা বলছেন না?’

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ইউপি নির্বাচনেও বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। যারা নির্বাচিত হয়েছে তারা বলছে, প্রধানমন্ত্রী এবং এমপি-মন্ত্রীরা যদি বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে পারে তাহলে আমরা পারব না কেন? আমাদেরও লাঠির জোর আছে, প্রশাসনের সমর্থন আছে, ক্ষমতাসীনদের ব্যাকআপ আছে।’

মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় কার্যপরিচালনা কমিটির সদস্য সাইফুজ্জামান সাঁকন, মানস নন্দী, ফখরুদ্দিন কবির আতিক প্রমুখ।



« (পূর্বের সংবাদ)