মেইন ম্যেনু

রাস্তায় প্রস্রাব করলে গলায় মালা পরাচ্ছে পুলিশ!

এক অদ্ভুত সমস্যায় পড়েছিল ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের রাজধানী হায়দরাবাদের পুলিশ। সমস্যা তেলেঙ্গানার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা নাগরিকদের নিয়ে। রাস্তায় বা প্রকাশ্যে মূত্র ত্যাগ করতে অভ্যস্ত তারা! কিছুতেই সঠিক স্থানে প্রস্রাবের অভ্যাস করাতে পারছিল না নগর কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ।

সর্বশেষ চলতি বছরেরই জানুয়ারিতে এক অস্ট্রেলীয় নাগরিক ভারতের তৃতীয় বাণিজ্য কেন্দ্র স্থাপনের কাজে তেলেঙ্গানা ভ্রমণে এসে রাজ্যটিকে ভারতের সর্বাধিক ‘মুত্রপ্রবণ’ রাজ্যের খেতাব দেন। আর দেশটির সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পুলিশকে যত্রতত্র মুত্রত্যাগকারীদের থামাতে নির্দেশ দেন।

রাজ্যের তড়িৎকর্মা পুলিশ সাথে সাথেই বিভিন্ন সমাজ সচেতনতামূলক লিফলেট-পোস্টার বিলি ও প্রচার করতে শুরু করে। এ ছাড়া হায়দরাবাদের নগর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সকল গণশৌচাগার বিনামূল্যে ব্যবহারের ব্যবস্থা করা হয়।

কিন্তু চোর না শোনে ধর্মের কাহিনি। পুলিশ ও নগর কর্তৃপক্ষের কল্যাণে প্রথম কদিনে অবস্থার উন্নতি ঘটলেও আবার আগের অভ্যাসেই ফিরতে শুরু করে জনতা। শেষ পর্যন্ত যত্রতত্র মুত্রত্যাগকারীদের সঠিক পথে আনতে এক অভিনব পন্থা নিয়েছে পুলিশ। যারাই রাস্তায় প্রকাশ্যে প্রস্রাব করছে, তাদেরই ধরে ধরে গলায় ফুলের মালা পরিয়ে দিচ্ছে তারা। ভাবখানা এমন যে, কত ‘মহান’ কাজটাই না করলেন আপনি!

ইতিমধ্যেই হায়দরাবাদের সেকেন্দরাবাদ রেলস্টেশন এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় মোট ২৬ জন ‘কীর্তিমান’কে ধরে এমন ‘সংবর্ধনা’ দেওয়া হয়েছে। গলায় ফুলের মালা পরিয়ে তাঁদের বিনীত অনুরোধ করা হয়েছে, যাতে একটু কষ্ট করে বিনামূল্যের শৌচাগার তারা ব্যবহার করেন। আর ওই ২৬জন কীর্তিমানও এই পদক্ষেপে লজ্জা পেয়ে প্রকাশ্যে মূত্রত্যাগ না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।