মেইন ম্যেনু

“রাস্তা নাই, আমরা স্কুলে যেতে পারি না”

‘রাস্তা নাই, আমরা স্কুলে যেতে পারি না’ এ দাবিতে হাঁটু সমান পানিতে দাড়িয়ে মানববন্ধন করেছে পটুয়াখালীর কলাপাড়ার নিজামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা। রোয়ানু তান্ডবে বিধ্বস্ত নিজামপুর ভাঙ্গা বাঁধের পানির কূপে দাড়িয়ে সোমবার এ মানববন্ধন কর্মসূচিতে এলাকার সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেয়।

কলাপাড়ার নিজামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রী ২৭৮ জন। মহীপুর থানার সুধিরপুর, নিজামপুর, পুরান মহীপুর ও ইউসুফ গ্রামের স্কুল-কলেজগামী ছাত্র-ছাত্রীসহ প্রতিদিন অন্তত ১০ হাজার মানুষ এ বাঁধের উপর দিয়ে চলাচল করে। কিন্তু এ বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়া এক গ্রামের সাথে অন্য গ্রামের সড়ক যোগাযোগসহ পায়ে হেঁটে চলাচলও বন্ধ হয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে স্কুলগামী শিশুরা।

মানববন্ধনে অংশ নেয়া বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র রাকিব ও হাসান জানায়,“নদীতে জোয়ার হইলে মোগো হাতরাইয়া (সাঁতরে) স্কুলে যাইতে হয়। আর ভাটা হলে জামা-কাপুড় খুইল্লা পানির মধ্য দিয়া যাইতে-আইতে (স্কুলে আসতে) হয়। রোজই আমাগো স্কুলের পোলা মাইয়ারা পানিতে ডুইব্বা যায়। য্যারা(যারা) হাতার জানে হ্যারাই এ্যাহন শুধু স্কুলে আয়। এই রাস্তা না ঠিক করলে আমরা তো আর স্কুলেই যাইতে পারমু না।’

মহীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নাসির উদ্দিন জানান, নিজামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন সেল্টারে যাওয়ার প্রধান সড়কটির প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা এখন জলাবদ্ধতায় নিমজ্জিত। এই রাস্তা জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার প্রয়োজন।

নিজামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামসুল হক জানান, গত কয়েক সপ্তাহে স্কুলে ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতি অনেক কমে গেছে। সামনে আরও বেশি বৃষ্টি হবে। এখনই স্কুল গামী রাস্তা ঠিক করা না হলে শিক্ষার্থীরা স্কুলেই আসতে পারবে না। কারণ ঝুঁকি নিয়ে কোন অভিভাবকই সন্তানদের এই মৃত্যুকূপে পাঠাবেন না।