মেইন ম্যেনু

রায়ের কপি হাতে এলে রিভিউ

রায়ের কপি হাতে আসার পর পুঙ্খানুপুঙ্খ দেখে রায়ের বিরুদ্ধে পুনর্বিবেচনার আবেদন (রিভিউ) করবেন একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ।

শনিবার সকালে কার অভ্যন্তরে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে বেরিয়ে এসে তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট মশিউল আলম এ কথা জানান।

বেলা সাড়ে ১১টা থেকে ১১টা ৫৫ মিনিট পর্যন্ত মুজাহিদের সঙ্গে কথা বলেন আইনজীবীরা।

মুজাহিদের বরাত দিয়ে আইনজীবী মশিউল আলম বলেন, ‘৬ নম্বর অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। কিন্তু ওই অভিযোগে সুনির্দিষ্ট করে বলা হয়নি কোন হত্যার অভিযোগ তাকে ফাঁসির দণ্ড দেয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘মুজাহিদ আইনজীবীদের বলেছেন, ভিক্টিমের আত্মীয়-স্বজন বা পরিবারের কোনো সদস্য আদালতে এসে বলেনি যে আমিই অমুকের হত্যাকারী।’

অ্যাডভোকেট মোহাম্মাদ শিশির মনিরের নেতৃত্বে পাঁচজন আইনজীবী বেলা ১১ টায় মুজাহিদের সঙ্গে দেখা করতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রবেশ করেন। শিশির মনির ছাড়া অন্য চার আইনজীবী হলেন, অ্যাড. মশিউল আলম, কামাল উদ্দিন, নজিবুর রহমান এবং মতিউর রহমান আকন্দ।

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আপিল বিভাগও এই জামায়াত নেতার ফাঁসি বহাল রেখেছেন। চারদলীয় জোট সরকারের মন্ত্রী মুজাহিদ বর্তমানে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন। আপিলে দণ্ড বহাল থাকায় এই প্রথম একজন মন্ত্রীর ফাঁসিতে ঝোলার পথ তৈরি হলো।

২০১৩ সালের ১৭ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মুজাহিদকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আদেশ দেন। ওই রায় চ্যালেঞ্জ করে সর্বোচ্চ আদালতে আসেন মুজাহিদের আইনজীবীরা। গেল মঙ্গলবার সর্বোচ্চ আদালত ট্রাইব্যুনালের রায় বহাল রাখেন।

তবে প্রসিকিউশনের আনা সাতটি অভিযোগের মধ্যে ট্রাইব্যুনাল তাকে তিনটিতে মৃত্যুদণ্ড দিলেও আপিল বিভাগ শুধু ষষ্ঠ অভিযোগে অর্থাৎ বুদ্ধিজীবী হত্যার দায়ে ট্রাইব্যুনালের রায় বহাল রেখেছেন।

আপিল বিভাগের এই রায় আসার পর তা পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন করা হবে বলেও ওইদিনই (মঙ্গলবার) জানান তার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন।

মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার আসামিদের মধ্যে মুজাহিদ হলেন চতুর্থজন, আপিল বিভাগে যার মামলার নিষ্পত্তি হলো।

এর আগে এই পর্যায়ে মামলা নিষ্পত্তি হওয়ার পর ইতোমধ্যে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রায় কার্যকর করা হয়েছে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামান ও কাদের মোল্লার।

এছাড়া ট্রাইব্যুনালের দেয়া মৃত্যুদণ্ডাদেশের আদেশ কমিয়ে জামায়াতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন আপিল বিভাগ।

রিভিউয়েও যদি মুজাহিদের ফাঁসির আদেশ বহাল থাকে তবে ওই শাস্তি থেকে বাঁচতে তার সামনে খোলা থাকবে কেবল একটি রাস্তা- রাষ্ট্রপতির প্রাণভিক্ষা।