মেইন ম্যেনু

রিজার্ভের টাকা চুরি: সন্দেহের তালিকায় ১০/১২ জন

ফেডারেল রির্জাভ ব্যাংকের টাকা চুরি যাওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের বেশ কয়েকজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে সন্দেহ করা হচ্ছে। তারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে তদন্ত সংশ্লিষ্ট্ররা সন্দেহ করছেন।

সন্দেহভাজন এসব কর্মকর্তাদের ইতোমধ্যেই নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। ব্যাংক থেকে আরও তথ্য-প্রমাণাদি নেয়ার পর তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এর মধ্যে একজন প্রভাবশালী ডেপুটি গর্ভনর রয়েছেন বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবারও সিআইডির গোয়েন্দারা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে তথ্য-প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট্র নানা তথ্য সংগ্রহ করেন। ব্যাংকের ৮ ও ৯ তলার ডিলিং রুম শাখা ও আইটি শাখা থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। আরও তথ্য সংগ্রহ করা হবে বলে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (অর্গানাইজড ক্রাইম) মির্জা আব্দুল্লাহেল বাকী জানান।

তিনি জানান, চুরির ঘটনায় কোথায় দুর্বলতা রয়েছে সেটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে। শুধুমাত্র তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। যে কর্মকর্তাকে মনে হচ্ছে যে উনি কিছু জানেন, তার সঙ্গে কথা বলে তথ্য নেয়ার চেষ্টা করছি। সার্ভারের কম্পিউটারগুলো থেকেও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে যে কাউকেই জিজ্ঞাসাবাদ করা যেতে পারে। প্রয়োজনে বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তাদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। সেখানে পদ-পদবি বিবেচনায় আসবে না। অনেককেই সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের দ্রুত বের করে আইনের আওতায় আনা হবে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট্র সূত্র জানায়, সিআইডির আট সদস্যের তদন্ত দল বৃহস্পতিবার সকালে ব্যাংকে যান। প্রায় চার ঘন্টা তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডিলিং রুম শাখা এবং আইটি বা সিস্টেম বিভাগে প্রবেশ করে কম্পিউটার থেকে নানা তথ্য সংগ্রহ করেন। প্রযুক্তিগত এবং ইলেকট্রনিক প্রমাণাদি খতিয়ে দেখে মনে করা হচ্ছে এর সঙ্গে অনেকেই জড়িত। দুটি বিভাগের ১০ থেকে ১২ জন এর সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে ওই দু’বিভাগের প্রধানসহ আরও কয়েকজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তার জড়িত থাকার সম্ভাবনা আছে।

এদের মধ্যে আইটি বিভাগের লোকজনের সংখ্যাই বেশি। কেননা হ্যাকাররা তাদের সরাসরি সহযোগিতা নিয়ে ওয়েব সাইটে প্রবেশ করে এবং সুবিধাজনক সময় টাকাগুলো তুলে নেয়। আবার এদেশ থেকেও একটি বার্তা যায় ঘটনার আগে। যা তদন্তের প্রধান দিক বলে জানা গেছে। ওই বার্তাটি কার কাছ থেকে গেছে তারই তদন্ত হচ্ছে।

ইতোমধ্যে সন্দেহভাজন ওই কর্মকর্তাদের তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তারা সবাই টাকা লুটের পর ঘটনা জানে বলে জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য দেয়। সন্দেহভাজন ওই ব্যক্তি কারা তাদের ব্যাপারে ইতোমধ্যেই ছক করা হয়েছে। তারা কি করছেন, অফিসের বাইরে অন্য কোন যোগাযোগ করছেন কি না, ঘটনার ১০ দিন আগে তাদের কম্পিউটারে কোন ধরনের তথ্য আদান-প্রদান করা হয়েছে তার সব কিছুই খতিয়ে দেখা হবে।

এসব কর্মকর্তাদের সহসাই জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা হতে পারে। তবে তারা যেহেতু সরকারি কর্মকর্তা এ কারণে তাদের কোন পন্থায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে তার হিসাব কষছেন গোয়েন্দারা।

অপর একটি সূত্র জানায়, সন্দেহভাজন ওইসব কর্মকর্তাদের গতিবিধি ঘটনার পর থেকেই নজরদারিতে আনা হয়েছে। একই সঙ্গে তারা যেন দেশের বাইরে যেতে না পারেন সেজন্যও সংশ্লিষ্ট্রদের জানানো হয়েছে। তদন্তের স্বার্থেই সদ্য পদত্যাগ করা গভর্নর ড. আতিউর রহমান এবং অপসারণ করা দুই ডেপুটি গর্ভনর আবুল কাশেম ও নাজনীন সুলতানাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকে অত্যন্ত প্রভাব বিস্তার করে আছে একজন ডেপুটি গভর্নর। তার সুপারিশে বাংলাদেশ ব্যাংকের আইটি কনসালটেন্ট হিসাবে রাকেশ আস্তানাকে নিয়োগ দেওয়া হয়। আর রাকেশ আস্তানার পরামর্শেই বাংলাদেশ ব্যাংকের সব বিভাগ, সেল, ইউনিট, উইং এবং শাখা অফিসের কম্পিউটার, ল্যাপটপ ও সার্ভারের সরবরাহকৃত সিকিউরিটি প্যাচ নামক সার্ভার ইনস্টল করা হয়। সেক্ষেত্রে রিজার্ভের অর্থ চুরির ঘটনার মূল নায়ক ওই ডেপুটি গভর্নরও হতে পারেন।

২৯ ফেব্রুয়ারি ফিলিপিন্সের পত্রিকা ইনকোয়ারারের প্রতিবেদনে জানানো হয়, নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভে গচ্ছিত বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে প্রায় ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হাতিয়ে নিতে চেয়েছিল হ্যাকাররা। এ প্রচেষ্টায় দুই ধাপে প্রায় ১০১ মিলিয়ন ডলার লোপাট করলেও ৮৭০ মিলিয়ন ডলার পাচারে ব্যর্থ হয় তারা।

এতে আরও জানানো হয়, সুইফট মেসেজিং সিস্টেমে জালিয়াতির মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে চুরি করা অর্থ ফিলিপিন্স ও শ্রীলংকার ব্যাংকে স্থানান্তরিত হয়। এর মধ্যে ফিলিপিন্সের অ্যাকাউন্টে নেয়া ৮ কোটি ডলার ক্যাসিনোর মাধ্যমে হংকংয়ে পাচার করা হয়েছে। তবে শ্রীলংকার ব্যাংকের স্থানান্তরের চেষ্টা করা ২ কোটি ডলার আটকানো সম্ভব হয়েছে।