মেইন ম্যেনু

রিজার্ভ চুরি: বন্ধুর মাধ্যমে অর্থ পেয়েছিলেন শালিকা

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ অ্যাকাউন্ট থেকে চুরি যাওয়া অর্থের সঙ্গে শালিকা ফাউন্ডেশনের কোনো যোগসূত্র নেই বলে দাবি করেছেন শ্রীলংকাভিত্তিক সেচ্ছাসেবি ওই এনজিও’র প্রধান হাগোদা গোমেজ শালিকা পেরেরা। তবে তার কথার মধ্যে অসঙ্গতি পাওয়া যাচ্ছে। যে বন্ধুর মাধ্যমে টাকাটি এসেছিল তিনি এখন তাকেই দোষারোপ করার চেষ্টা করছেন।

তিনি বলছেন, ফাউন্ডেশনের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ২০ মিলিয়ন ডলার আসার কথা ছিল। এ নিয়ে তার এক বন্ধুর জাপানের সরকারি উন্নয়ন সংস্থা জাইকার সঙ্গে আলাপ চলছিল। কিন্তু সে অর্থ যে বাংলাদেশের রিজার্ভ চুরির অংশ ছিল সে ব্যাপারে তিনি ঘুনাক্ষরেও কিছু জানতেন না।

কিন্তু বার্তাসংস্থা রয়টার্সের পক্ষ থেকে জাইকার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেছে, শালিকার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। এমনকি শালিকাকে টাকা দেয়ার ব্যাপারে অন্য কোনো মাধ্যমে আলোচনা হওয়ার কথাও তারা অস্বীকার করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্ক থেকে গত ফেব্রুয়ারি ১০১ মিলিয়ন ডলার চুরি যায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের সুইফট কোড জালিয়াতি করে এ অর্থ হাতিয়ে নেয়া হয়। ওই অর্থের ৮১ মিলিয়ন ডলার পাঠানো হয় ফিলিপাইনের রিজাল ব্যাংকের মাকাতি সিটির জুপিটার শাখায়। পরে তা ক্যাসিনো হয়ে চীনা ব্যবসায়ী কিম অংয়ের অ্যাকাউন্টে। বাকি ২০ মিলিয়ন যায় শ্রীলংকার শালিকা ফাউন্ডেশনের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে। তবে সংস্থাটির নামের বানানে ভুল থাকায় রাউটিং ব্যাংক তা আটকে দেয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের যোগাযোগ করে। পরে সেই টাকা ফেরত পাঠানো হয়।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে পেরেরা বলেন, শ্রীলংকায় একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণসহ বেশ কিছু উন্নয়ন প্রকল্পে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) ২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তার আশ্বাস ছিল। ফাউন্ডেশনকে সহায়তা এনে দেয়ার এ আশ্বাস তাকে দিয়েছিলেন এক বন্ধু।

তিনি বলেন, জাইকার কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে সম্ভাব্য এ সহায়তার বিষয়ে শালিকা ফাউন্ডেশনের কোনো কর্মকর্তার কিংবা তার সরাসরি কোনো কথা হয়নি। ওই বন্ধুর সঙ্গে শ্রীলংকায় এ নিয়ে কথা হয়েছে জানিয়ে শালিকা পেরেরা বলেন, তার সঙ্গে জাপানের সাহায্য সংস্থা জাইকার নীতিনির্ধারকদের যোগাযোগ রয়েছে।

বেসরকারি সেচ্ছাসেবি সংস্থা হিসেবে ২০১৪ সালের অক্টোবরে নিবন্ধিত হয় শালিকা ফাউন্ডেশন। নিবন্ধন কাগজপত্রে বলা হয়েছে, নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠীর জন্য কম দামে বাড়ি-ঘর নির্মাণের পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবে সংস্থাটি।

রিজার্ভ চুরি অভিযোগ উঠার পর জাইকা বলেছে, শ্রীলংকাভিত্তিক সেচ্ছাসেবি সংগঠন শালিকা ফাউন্ডেশনের সঙ্গে তাদের কোনো ধরনের সম্পর্ক নেই। অন্য কোনো মাধ্যমেও তা নেই। জাইকার মুখপাত্র নাউকি নেমতো বলেছেন, ‘আমাদের সঙ্গে আলোচ্য সংগঠনের কোনো ধরনের যোগাযোগ নেই, ঋণ কিংবা অনুদান নিয়েও কোনো ধরনের কথা হয়নি।’

শ্রীলংকার অপরাধ তদন্ত বিভাগের কর্মকর্তারা এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে অপারগতা জানিয়েছে। বলেছে, বিষয়টির তদন্ত চলছে।

শালিকা পেরেরা বার্তা সংস্থাকে বলেছেন, এ ঘটনা দেখে এখন মনে হচ্ছে তার বন্ধু হয় জালিয়াত চক্রের শিকার অথবা ওই জালিয়াত চক্রের সঙ্গে তিনিই জড়িত। যুক্তরাষ্ট্র থেকে ব্যাংকে পাঠানো ২০ মিলিয়ন ডলারের অ্যাডভাইস কপি দেখিয়ে পেরেরা বলেন, শালিকা ফাউন্ডেশনের অ্যাকাউন্টে এ অর্থ জমা করার কথা বলা হয়েছে। ওই অ্যাডভাইসে বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণে ২০১০ সালে বাংলাদেশ জাইকা থেকে এ অর্থ পেয়েছিল।

শালিকা পেরেরার জাপানি ওই বন্ধুর সঙ্গে রয়টার্সের পক্ষ থেকে টেলিফোনে যোগাযোগ হয়। তবে তার অবস্থান কোথায় সে সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারেনি। টেলিফোনে তিনি বার্তা সংস্থাকে জানিয়েছেন, এখন ভ্রমণে আছেন, এ মুহূর্তে এ নিয়ে কিছু বলতে পারছেন না।

ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনিকে দেয়া প্রতিবেদনে বলেছে, শালিকা ফাইন্ডেশনের অ্যাকাউন্টে জমা হওয়া অর্থের ৭ দশমিক ৭২ মিলিয়ন ডলার শালিকা পেরেরার ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে, ১১ দশমিক ১২ মিলিয়ন ডলার পেরেরার ওই জাপানি বন্ধুর ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়ে রেখেছিলেন ফাউন্ডেশনের প্রধান হাগোদা গোমেজ শালিকা পেরেরা। শালিকা ফাইন্ডেশন প্রধান এ নির্দেশনা দেয়ার কথা স্বীকার করে বলেছেন, দুই প্রকল্পের ব্যয় নির্বাহে এ অর্থ স্থানান্তরের নির্দেশ ছিল। বাকি অর্থ কর দেয়ার জন্য রাখা হয়।

অ্যাকাউন্টে অর্থ জমা হলেও প্রাপক সংস্থার নামের বানানে ভুল থাকায় পেমেন্ট আটকে দেয় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

উল্লেখ্য, ফিলিপাইনে যাওয়া ৮১ মিলিয়ন ডলার যার অ্যাকাউন্টে গিয়েছিল তিনি তা স্বীকার করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সাড়ে ৪ মিলিয়ন ডলার ফেরতও দিয়েছেন তিনি।