মেইন ম্যেনু

রিজার্ভ চুরি: হোতার সন্ধান না-ও মিলতে পারে!

বাংলাদেশ ব্যাংকের চুরি হয়ে যাওয়া ৮১ মিলিয়ন ডলার সম্পর্কে নতুন করে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে রয়টার্স। নিউ ইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভের জেনারেল কাউন্সেল টমাস ব্যাক্সটার নিউ ইয়র্কের ডেমোক্রেট দলীয় কংগ্রেস উইমেন মিজ ক্যারোলিন মেলোনিকে লেখা চিঠিতে বলেছেন, গত ৪ঠা ফেব্রুয়ারিতে যখন সাইবার চোরদের কাছে অর্থ পরিশোধে বাংলাদেশ ব্যাংকের নামে তারা অনুরোধ পেয়েছিল, এরপর ৪ঠা ফেব্রুয়ারি ও ৫ই ফেব্রুয়ারি উভয় দিনে এর উদ্দেশ্য জানতে তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল।

মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য মেলোনি এবং টম কারপার, মার্কিন সিনেট হোমল্যান্ড সিকিউরিটি কমিটির শীর্ষ এই ডেমোক্রাটরা ইতিমধ্যে নিউ ইয়র্ক ফেডের কাছে নানা বিষয় জানতে চেয়েছেন। এ সপ্তাহে দি হাউস সায়েন্স কমিটি ফেডকে এক পত্রে জানিয়েছে যে তারা এই বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে।

সিঙ্গাপুর ডেটলাইনে প্রকাশিত খবর সম্পর্কে গতকাল নিউ ইয়র্ক টাইমস শিরোনাম করেছে, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক কেলেংকারির হোতাদের আর কখনই চিহ্নিত না-ও হতে পারে: সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা।’ এই প্রতিবেদনে রয়টার্স বলেছে, সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা সিন কানুক বলেছেন, কে বা কারা বাংলাদেশের সাইবার চুরির হোতা ছিল তা তদন্তকারীরা কখনও খুঁজে বের না-ও করতে পারেন। সদ্য অবসরে আসা ওই মার্কিন গোয়েন্দার ধারণা এই ঘটনাটি কোনো একটি প্রযুক্তি বিষয়ে অত্যন্ত দক্ষ অপরাধী গ্রুপ কিংবা কোনো দুর্বৃত্ত রাষ্ট্র এর নেতৃত্ব দিয়েছে।

তবে রয়টার্স সোমবার ঢাকা/নিউ ইয়র্ক ডেটলাইনে আরেকটি খবর প্রকাশ করে যাতে বলা হয়, ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্ক বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি হিসেবে থেকে সাইবার চোরদের কাছে টাকা প্রেরণের চারটি জাল অনুরোধ অনুমোদনের কয়েক ঘণ্টা আগে ফেড ব্রাঞ্চ ওই একই অনুরোধ আটকে দিয়েছিল। ফেব্রুয়ারির যে তারিখে টাকা চুরির ঘটনা ঘটে সেদিনটিতেই নিউ ইয়র্ক ফেড প্রাথমিকভাবে এ ধরনের ৩৫টি জাল অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছিল।

এই তথ্য নিউ ইয়র্ক ফেডের একজন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তার রয়টার্সের কাছে স্বীকার করেছেন। কিন্তু ফেড কেন পরে ওই ধরনের অনুরোধে সাড়া দিয়েছিল সে কারণে তারা রেড ফ্লাগ বা লাল সতর্কবার্তা মিস করেছিল কিনা সেই প্রশ্ন উঠেছে।

একটি সূত্র বলেছে, আমরা ফেডকে এই প্রশ্ন করেছি যে যখন একই অনুরোধ দ্বিতীয়বার পেশ করা হলো তখন কেন তারা লাল সংকেত দেয়ার দরকার অনুভব করেনি। তারা বলেছে, তারা গোড়াতে ৩৫টি সন্দেহজনক অনুরোধ নাকচ করেছিল। আর যখন সেই একই অনুরোধ দ্বিতীয়বার করা হলো তখন তারা কোন বিবেচনায় ৩৫টি অনুরোধের মধ্য থেকে ৫টির বিষয়ে অনুমতি দিয়ে ৩০টি অনুরোধ আটকে রাখল। কেন? তারা এর কোনো উত্তর দিতে পারেনি। বাংলাদেশ ব্যাংক ও ফেড এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

ওই মার্কিন কর্মকর্তা, যিনি মধ্য মে পর্যন্ত সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক অফিস অব দ্য ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স এ ৫ বছর কর্মরত থেকে অবসরে এসেছেন, তিনি সিঙ্গাপুরে রয়টার্সকে বলেছেন, ওই অর্থ ছাড় করার বিষয়ে নির্দেশদাতা হিসেবে কোনো অফিসিয়াল ডিটারমিনেশন বা সরকারি প্রমাণাদি ছিল না এবং এরকম কোনো প্রমাণ তারা আর খুঁজে পেতে সক্ষম না-ও হতে পারে।

এই কর্মকর্তা এশিয়ার শীর্ষস্থানীয় নিরাপত্তা ফোরাম বার্ষিক সাংরিলা সংলাপে যোগ দিতে সিঙ্গাপুরে এসেছেন। তিনি অবশ্য এটাও বলেছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই চুরির ঘটনা সম্পর্কে তিনি কিছু বিষয় অবহিত ছিলেন যদিও তিনি তদন্ত প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না।(রয়েটার্স থেকে অনুবাদ করেছে মানবজমিন)