মেইন ম্যেনু

রিজার্ভ লুট : আতঙ্কে বিনিয়োগকারীরা

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে হ্যাকড করা প্রায় ৮০০ কোটি টাকা লুটের ঘটনায় আতঙ্কে দেশের সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। তবে শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের আতঙ্কের কারণ নেই বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ব্রোকারেজ হাউজগুলোতে বিনিয়োগকারী ও কর্মকর্তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে টাকা লুটের ঘটনা নিয়ে নানা আলোচনা ও সমালোচনা করছেন। কেউ বলছেন ‘হ্যাক’ হয়েছে। আবার কেউ বলছেন হ্যাকড করিয়েছে। আবার কেউ উদ্বেগ উৎকণ্ঠা আর আতঙ্কে বলছেন শেয়ারবাজারে হ্যাকড হওয়ার সম্ভাবনা আছে কি। এমন নানা প্রশ্ন বিনিয়োগকারীদের মনে।

এ বিষয়ে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সাবেক সভাপতি ও বর্তমান পরিচালক শাকিল রিজভী বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে হ্যাকড করে যেভাবে টাকা লুট হয়েছে এমন ঘটনা শেয়ারবাজারে ঘটার কোনো সম্ভাবনা নেই। আর কেউ করতে চাইলে ধরা পড়ে যাবে।

তিনি আরো বলেন, শেয়ার হলো কোম্পানির অংশীদার। এটি অন্য কোনো দেশের বাজারে বিক্রি করতে পারবে না। বিক্রি করতে হলে দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জেই আসতে হবে। আবার বিক্রির সঙ্গে সঙ্গেই বিনিয়োগকারী টাকা পায় না। তাকে অন্তত দুইদিন অপেক্ষা করতে হয়। আর এসব কারণে শেয়ারবাজরের হ্যাকড করে অর্থ লুট করা সম্ভব নয়। তাই শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ নিরাপদ বলে দাবি করেন ডিএসইর ওই পরিচালক।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সাইফুর রহমান বলেন, বিএসইসি ও সেন্ট্রাল ডিপোজেটরি অব বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) সব সময় বিনিয়োগকারীদের শেয়ার লেনদেনের বিষয়ে সচেতন রয়েছে। সম্প্রতি বিএসইসির সংশ্লিষ্ট কমিটি সার্ভার বিষয়ে ইনকোয়ারি করেছে। ইনকোয়ারি রির্পোটে সার্ভার সিকিউরিটি সন্তোষজনক বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের ২০ থেকে ২৫ শতাংশ নগদ আকারে বিশ্বের বিভিন্ন ব্যাংকে রাখা হয়। বাকি অংশ বন্ড, স্বর্ণ ও অন্যান্য মুদ্রায় বিশ্বের বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করা হয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে রাখা বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের ১০১ মিলিয়ন বা ১০ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার চুরি হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের দাবি, ‘হ্যাক’ করে এ অর্থ সরিয়ে নেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক বিষয়টি ধামা চাপা দিয়ে রাখার চেষ্টা করলেও আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে তা প্রথমে প্রকাশ পায়।