মেইন ম্যেনু

রিভেঞ্জ পর্নের শিকার বহু তরুণী, তাদের কী শেখাতে চায় পুরুষেরা?

ক্যাট নামে ১৮ বছর বয়সী এক তরুণী রিভেঞ্জ পর্নের শিকার হন। তার প্রাক্তন প্রেমিক সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর কিছু একান্তই ব্যক্তিগত দৃশ্য প্রকাশ করে দেয় অনলাইনে। যদিও এতে ভেঙে পড়েননি অস্ট্রেলিয়ান সে তরুণী। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে সিডনি মর্নিং হেরাল্ড।–কালেরকণ্ঠ।

নগ্ন ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি যে এত খারাপ হবে, তা ভাবতে পারেননি ক্যাট। এটি তার প্রচণ্ড মানসিক যাতনারও কারণ হয়ে ওঠে। তার এসব ছবির কিছু স্ন্যাপচ্যাট থেকে নেওয়া হয়। কিছু ছবি চুরি করা হয়। কিছু ভিডিও ছিল সেলফি স্টাইলের ভিডিও। এগুলোর সবই ফাঁস হয়ে যায়। এসব বিষয় প্রকাশ করা হয় একটি ফেসবুকের পেজে। মেলবোর্নের রিভেঞ্জ পর্ন ফেসবুক পেজে এগুলো প্রকাশিত হয়। তবে পেজটি গোপন এবং সহজে সেখানে প্রবেশাধিকার পাওয়া যায় না। প্রধানত মেলবোর্নের তরুণী ও নারীদের নগ্ন ছবি ও ভিডিও এখানে প্রকাশিত হয়। তাদের কারো কারো বয়স খুবই কম। এগুলো প্রকাশিত হয় তাদের অনুমতি ছাড়াই।

অন্য একজন তরুণীর নাম জেস ট্রেলোর-ওয়াকার। ১৮ বছর বয়সী এ তরুণীর অভিজ্ঞতা আরও খারাপ। তার নগ্ন ছবি পেজে প্রকাশিত হয়।

তিনি রিভেঞ্জ পর্ন বিষয়ে তার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন এভাবে, ‘আমি খুবই বিভ্রান্ত হয়েছি। কারণ আমি তার সঙ্গে ভুল কিছু করিনি। এটা ছিল খুবই বিরক্তিকর। আমি খুবই রেগে গিয়েছিলাম।’

আরেকটি দৃশ্য ছিল অন্য একজন পুরুষেরদ সঙ্গে কথাবার্তা বলার। এটিও সে গ্রুপটিতে পোস্ট করেছে। সে আমাকে একটি খেলনা দেখাচ্ছিল। যদিও বিষয়টি ভিডিওতে সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে উঠে এসেছে।

ক্যাট বলেন, ‘তারা এর মাধ্যমে মেয়েদের শিক্ষা দিতে চায়। কিন্তু আমি জানিনা, এখানে ছবি পাঠিয়ে শিক্ষা দেওয়ার কী আছে।’

ফেসবুকে ‘মেলবোর্ন ম্যানস সোসাইটি’ নামে রিভেঞ্জ পর্ন সাইটটির সদস্য ছিল সাত হাজার। এছাড়া সাড়ে চার হাজার ব্যক্তি এতে সদস্য হওয়ার অপেক্ষায় ছিল।

অভিযোগের মুখে ফেসবুকের রিভেঞ্জ পর্নের সে সাইট ‘মেলবোর্ন ম্যানস সোসাইটি’ বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এটি একমাত্র স্থান নয়। আরও বহু সাইট এ কাজ করে। এছাড়া একটি সাইট বন্ধ করা হলে দ্রুত নতুন সাইট সে স্থান নিয়ে নেয়। এসব বিষয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ করে প্রায়ই কোনো ফলাফল পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

রিভেঞ্জ পর্নের এ সমস্যা সমাধানের জন্য শুধু আইনগত ব্যবস্থা নয় বরং ভিন্ন ধরনের দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এ বিষয়ে মিডিয়া ও জেন্ডার বিশেষজ্ঞ ড. লরেন রোজওয়ার্ন বলেন, এ সমস্যার মূলে যেতে হবে। তিনি জানান, পুরুষের যৌন আচরণ নারীদের তুলনায় অনেকাংশে ভিন্ন।

তিনি বলেন, ‘পুরুষ ও নারী উভয়কেই রিভেঞ্জ পর্ন ভিডিওতে দেখা যায়। কিন্তু এটি শুধু নারীদের বিরুদ্ধেই ব্যবহৃত হয়। কারণ আমাদের সংস্কৃতি নারীদের সেভাবেই দেখতে অভ্যস্ত, যেভাবে আমরা পুরুষদের দেখি না।’