মেইন ম্যেনু

‘রমজান ঐতিহ্য’

রুশদের কাছে রমজান ধর্মীয় অনুপ্রেরণার উৎস

রুশ মুসলিমরা এক ভিন্ন সমাজব্যবস্থায় বসবাস করে। তাই তাদের অভ্যাস ও জীবনাচারে ওই সমাজ ব্যবস্থার প্রভাব মারাত্মকভাবে লক্ষ্য করা যায়। রুশ মুসলিমরা বেড়ে ওঠেন এক মিশ্র সংস্কৃতিতে। তার মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ খ্রিস্টান ধর্মের প্রভাবই সবচেয়ে বেশি। তারপরও মুসলিমরা স্বকীয় মূল্যবোধ ও বিশ্বাস আগলে রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তাদের এই চেষ্টা নতুন মাত্রা লাভ করে পবিত্র রমজান মাসে। রমজানে তারা পরস্পরকে ধর্মীয় অনুপ্রেরণা, ইসলামি সাহিত্য-সংস্কৃতির চর্চা, ধর্মীয় বিষয়ে পাঠদানের অবকাশ লাভ করে।

রাশিয়ায় ইসলাম প্রচারের সূচনাটা হয়- ব্যবসা ও মুসলমানের সঙ্গে রাশিয়ানদের মেলামেশার পথ ধরে। সামরিক বিজয়ের পথে সেখানে ইসলাম যায়নি। বর্তমান রাশিয়ার সীমান্তবর্তী অনেক এলাকা মুসলিম বাহিনীর অভিযানে ইসলামে বিজয় হলেও তার প্রভাব রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডে পড়েনি। কারণ, আবহমানকাল থেকেই মধ্য এশিয়ার জাতিগুলো স্বাধীনভাবে বসবাস করে আসছে। তবে হ্যাঁ, রুশ ফেডারেশনের অন্তর্ভুক্ত অল্প সংখ্যক মুসলিম দেশ যেমন চেচনিয়া এবং সোভিয়েত রাশিয়ার কাছে আত্মসমর্পণকারী মুসলিম দেশ যেমন তাজিকিস্তান রুশদের মাঝে ইসলাম প্রচারে অল্প-বিস্তর ভূমিকা পালন করেছে।

বর্তমানে রাশিয়ার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মুসলিম জনগণ চেচনিয়া ও দাগেস্তানে বসবাস করে। রমজানের আগমনে সেখানে অপরুপ ঈমানি আবহের সৃষ্টি হয়। অন্যান্য ধর্ম ও সংস্কৃতির প্রভাবে এখন যারা নামেমাত্র মুসলিম তাদের মাঝেও ঈমানি চেতনা ও ইসলামি মূল্যবোধ পুনর্জীবিত করার সুযোগ সৃষ্টি হয়। রমজানের এই ধর্মীয় আবহ অমুসলিম রুশদেরও ইসলামের প্রতি অনুপ্রাণিত করে।

ইফতারের সময় রুশ মুসলিমরা নির্ধারিত স্থানে একত্র হয় এবং দলবে‍ধেঁ নামাজের জামাতে অংশগ্রহণ করে। প্রায় প্রতিটি মসজিদেই কোরআন খতম হয় এবং উৎসবমুখর পরিবেশে তারাবির নামাজ আদায় করে তারা। রুশ মুসলিমদের একটি উত্তম অভ্যাস হলো, তারা ইফতারের সময় একত্র হয় এবং তাদের ধর্মীয় গুরু বা আলেম সে সময় ধর্ম বিষয়ে তাদেরকে বিভিন্ন পরামর্শ দেন। আলোচনা হয় ইসলামের বিধি-বিধানের নানা দিক নিয়ে। ওই সব আলোচনায় ঈমান, ইসলাম ও ধর্মীয় জীবনযাপন সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়। আলোচনা শেষে তিনি সবার কল্যাণে দোয়া করেন এবং উপস্থিত সবার হাতে তিনি ইফতার তুলে দেন।

মূলত রুশ মুসলিমরা রমজানকে তাদের ধর্মীয় চেতনার উজ্জীবনী শক্তি হিসেবেই গ্রহণ করে। তাদের মধ্যে যারা তুলনামূলক অধিক ধার্মিক তারা অন্যদের ধর্মীয় জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ করে। রমজানকে কেন্দ্র করে তারা হারানো মুসলিম ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করে।