মেইন ম্যেনু

রেড এ্যালার্ট জারির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর

রাজধানীর গুলশানে কূটনীতিকপাড়ায় গুলি করে ইতালীয় নাগরিক তাভেলা সিজার হত্যাকাণ্ড ইস্যুতে দূতাবাস এলাকায় রেড এ্যালার্ট জারির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

নিউইয়র্কে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ প্রশ্ন রাখেন তিনি। এ সময় এ হত্যাকাণ্ডকে দুঃখজনক বলেও উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশ মিশন আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ না করেই সাংবাদিকদের প্রশ্ন করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

ঢাকায় ইতালীয় নাগরিক হত্যার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের উত্থান হোক এটা আমরা চাই না। বিদেশী নাগরিক হত্যা আমাদের কাম্য নয়। এটা দুঃখজনক।’

এই হত্যাকাণ্ড ইস্যুতে গুলশানের কূটনীতিকপাড়ায় রেড এ্যালার্ট জারির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী উল্টো সাংবাদিকদের কাছে প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘বিষয়টি আমরা জানি না। একজন বিদেশী নিহত হলে যদি নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়, তাহলে বিদেশী মিশনগুলো রেড এ্যালার্ট জারির কথা বলে। কিন্তু নিউইয়র্কে কয়েক দিন আগে আওয়ামী লীগ নেতা নাজমুলসহ এ পর্যন্ত অনেক বাংলাদেশী নিহত হয়েছেন। তাতে কি নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা বলে আমাদের দূতাবাসগুলো রেড এ্যালার্ট জারি করেছে?’

এদিকে এই হত্যাকাণ্ডে আইএস বা অন্য কোনো জঙ্গি সংগঠনের সংশ্লিষ্টতা নেই দাবি করে তিনি বলেন, ‘ঢাকায় ইতালীয় নাগরিক হত্যায় বাংলাদেশে আইএস বা অন্য কোনো জঙ্গি সংগঠন সম্পৃক্ত আছে- এমনটা আমি মনে করি না। এই খুনের সঙ্গে আইএস বা অন্য কোনো জঙ্গি সম্পৃক্ত থাকার নির্ভরযোগ্য প্রমাণ আমাদের ইন্টিলিজেন্স রিপোর্টে পাওয়া যায়নি। বরং যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো থেকে কেউ একজন দাবি করেছে, হত্যাকাণ্ডটি আইএস ঘটিয়েছে। কিন্তু আমরা এ বিষয়ে কোনো তথ্য পাইনি।’

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিদেশী নাগরিক হত্যাকাণ্ডে বিএনপির এক নেতার অতি উৎসাহী মনোভাবই প্রমাণ করে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতেই তারা উঠেপড়ে লেগেছে। বিষয়টি নিয়ে বিএনপির এক নেতা খুব বড় করে কথা বলছেন। এখন তো সন্দেহ হয় উনাকে ধরে ইন্টারোগেশন করা উচিত। আমি গিয়ে সেই ব্যবস্থা করব।’এর আগে মঙ্গলবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ বৌদ্ধ ফ্রন্ট আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেছিলেন, ‘নিজের ক্ষমতা ধরে রাখার স্বার্থে এ দেশে নানা জঙ্গিগোষ্ঠী ক্রিয়াশীল রয়েছে বলে সরকার পশ্চিমা বিশ্বকে জুজুর ভয় দেখিয়ে আসছে। এখন তারাই সেই জুজুর শিকার হয়েছে।’

তবে নিউইয়র্কের সংবাদ সম্মেলনে কারও নাম উল্লেখ না করলেও ধারণা করা হচ্ছে, বিএনপির ওই শীর্ষ নেতাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে ইঙ্গিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি-জামায়াতকে সন্ত্রাসী দল হিসেবে আখ্যা দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াত জোট নির্বাচনে না গিয়ে মানুষ হত্যার পথ বেছে নিয়েছে। ২০১৩ সালে নির্বাচনে না গিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে। জঙ্গিবাদ দমন, সন্ত্রাস দমন ও মানুষের নিরাপত্তায় আমরা কাজ করে যাচ্ছি। সরকারের এই উন্নয়ন তারা চায় না। যারা এ সব হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে, তাদের বিচার আমরা করবই।’

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত দ্বিতীয় বৃহত্তম দলই বিরোধী দল। এটাই সংসদীয় পদ্ধতির নিয়ম।’৫ জানুয়ারির নির্বাচন সাংবিধানিকভাবে হয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘আমরা তখনো সাংবিধানিকভাবে নির্বাচন করেছি। আগামীতেও সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষা করেই নির্বাচন হবে। এতে আপনাদের চিন্তার কোনো কারণ নেই।’

বিএনপির পক্ষ থেকে মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবির বিষয়টি কীভাবে দেখছেন— এমন প্রশ্নের জবাবে মধ্যবর্তী কিংবা আগাম নির্বাচনের কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই বলেও জানিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘২০১৯ সালের আগে আগাম নির্বাচন কেন? আমরা যে উন্নয়ন করছি এটা পছন্দ হচ্ছে না। হ্যাঁ, যারা বাংলাদেশের উন্নয়ন পছন্দ করবে না তারা আগাম নির্বাচনের কথা বলে চিৎকার করবে।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- সফররত পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক পরিবেশ ও বনমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদসহ বেশ কয়েকজন মন্ত্রী ও সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা।

এ ছাড়া নিউইয়র্কে জাতিসংঘের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত ড. এ কে আবদুল মোমেন, নিউইয়র্কের বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কনসাল জেনারেল শামীম আহসানসহ বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতারাও সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে সরকারের নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।