মেইন ম্যেনু

রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী বিল পাস

সংবিধানের ১৫২ অনুচ্ছেদে বর্ণিত নিয়মিত শৃঙ্খলা বাহিনীর মর্যদায় রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীকে সন্দেহজনক যে কাউকে গ্রেপ্তারের অধিকার দিয়ে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী বিল ২০১৬ পাস করেছে জাতীয় সংসদ।

সোমবার রাতে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে দশম জাতীয় সংসদের নবম অধিবেশনে এ বিলটি পাস করা হয়। এর আগে কণ্ঠভোটে বিলটির ওপর আনীত জনমত যাচাই, বাছাই কমিটিতে প্রেরণ ও সংশোধনী প্রস্তাব নাকচ হয়ে যায়। পরে সংসদীয় কমিটির স্থিরকৃত আকারে বিলটি পাসের জন্য প্রস্তাব করেন রেলপথ মন্ত্রী মুজিবুল হক।

বিলে বলা হয়েছে, সংবিধানের ১৫২ অনুচ্ছেদে বর্ণিত নিয়মিত শৃঙ্খলা বাহিনীর মর্যদায় রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী গঠিত হবে। বাহিনীর তত্ত্বাবধান সরকারের ওপর ন্যাস্ত থাকবে। বাহিনীর প্রধান হবেন চীফ ইন্সপেক্টর। রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা অস্ত্র ও গোলাবারুদ বহন ও অস্ত্রসহ দায়িত্ব পালন করতে পারবে। ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ বা পরোয়ানা ব্যতীত সন্দেহবশত বা রেলওয়ের সম্পদ চুরি বা ক্ষতি সাধনের অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে রেলওয়ের সীমানার মধ্যে আত্মগোপন করার প্রস্তুতি নেয়ার সন্দেহে যে কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করতে পারবেন তারা।

বাহিনীর সদস্যরা ট্রেড ইউনিয়ন, শ্রমিক ইউনিয়ন ও রাজনৈতিক সংগঠনের সদস্য বা সম্পর্ক রাখাতে পারবেন না বা কোনো মিছিল বা সমাবেশে অংশ নিতে পারবেন না। বাহিনীর কোনো সদস্য- কোনো গণমাধ্যমে প্রকাশের জন্য কোন সংবাদ, চিঠি বা দলিল প্রকাশে সহযোগিতা করবেন না।

এছাড়া বাহিনীর কোনো সদস্য অস্ত্র গোলাবারুদ, পোষাক পরিচ্ছদ ইচ্ছাকৃতভাবে বিনষ্ট করলে বা হস্তান্তর করলে ৫ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। বাহিনীর কোনো সদস্য অবাধ্য ও শৃঙ্খলা বিরোধী আচরণ বা দুর্নীতির সঙ্গে জড়ানোর দায়ে দোষী সাবস্ত হলে আত্মপক্ষ সমর্থন ছাড়া কর্তৃপক্ষ তাকে বরখাস্ত, অপসারণ বা বাধ্যতামূলক অপসারণ করতে পারবেন।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘সংবিধান (পঞ্চদশ সংশোধনী) আইন ২০১১ দ্বারা ১৯৭৬ সালে ‘দ্যা রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী অর্ডিন্যান্স ১৯৭৬’ কার্যকারিতা হারায়। প্রজাতন্ত্রের কর্মের ধারাবাহিকতা, আইনের শাসন ও জনগণের আইনানুগ অধিকার বহাল ও অক্ষুণ্ন রাখার স্বার্থে অধ্যাদেশের আবশ্যকতা ও প্রাসঙ্গিকতা পর্যালোচনা করে নতুন আইন প্রণীত হল।’

প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিসভায় এটিকে আইনে পরিণত করার সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। রেলওয়ের সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ, নিরপত্তা ও সুরক্ষার জন্য রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী গঠন ও তার নিয়ন্ত্রণ, শৃঙ্খলা ও পরিচালনার জন্য নতুনভাবে এটিকে আইনে পরিণত করার প্রয়োজন হয়ে পড়ে।