মেইন ম্যেনু

রোববার থেকে লঞ্চের অগ্রিম টিকিট

সড়কপথে বাস ও ট্রেনের অগ্রিম টিকিট ইতিমধ্যে বিক্রি শুরু হলেও দক্ষিণাঞ্চলের নদীপথে আগাম টিকিট বিক্রির ধুম এখনো পড়েনি। লঞ্চে কেবলমাত্র কেবিনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি হয়। আগামী সপ্তাহের শুরুতেই নদীপথে ভ্রমণকারীরা লঞ্চের আগাম টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন।

সদরঘাট নদীবন্দর সূত্রে জানা গেছে, পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরকে কেন্দ্র করে লঞ্চগুলোর কেবিনের আগাম টিকিট বিক্রি রোববার থেকে শুরু হবে। তবে কেবিনের বাইরে সাধারণ আসনগুলোর টিকিট অগ্রিম বিক্রি করা হবে না।

এদিকে ঢাকা-বরিশাল রুটে চলাচলকারী লঞ্চগুলোতে প্রায় ১৫০ থেকে ১৮০টি কেবিন রয়েছে। এছাড়া ঢাকা-চাঁদপুরসহ অন্য সকল রুটের লঞ্চে ৮০ থেকে ১২০টি কেবিন থাকে।

জানা গেছে, এসি কেবিন (ডাবল) ১ হাজার ৮শ’ টাকা, ননএসি কেবিন (ডাবল) ১ হাজার ৬শ’ টাকা, এসি কেবিন (সিঙ্গেল) ১ হাজার টাকা এবং ননএসি সিঙ্গেল কেবিনের ভাড়া ৮শ’ ৫০ টাকা। আর বর্তমানে ঢাকা-বরিশাল রুটের লঞ্চে ডেকের ভাড়া ১৫০ টাকা।

এছাড়া ঢাকা-হুলারহাট রুটে ডেকের ভাড়া ২শ’ ৫০ টাকা। কেবিন (ডাবল) ১ হাজার ৮শ’ টাকা এবং সিঙ্গেল কেবিনের ভাড়া ১ হাজার টাকা।

ঢাকা-চাঁদপুর রুটে লঞ্চের উপর নির্ভর করে কেবিনের ভাড়া নির্ধারিত হয়। এক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ৮শ টাকা থেকে শুরু করে ভিআইপি কেবিনের ভাড়া দুই হাজার পাঁচশত টাকা পর্যন্ত রয়েছে। ঢাকা থেকে চাঁদপুরগামী লঞ্চগুলোর ডেকের ভাড়া ১২০ থেকে ১৫০ টাকা নেয়া হয়ে থাকে। তবে ঈদ উপলক্ষে বর্তমান ভাড়াতেই টিকিট বিক্রি করা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) পরিবহন পরিদর্শক মো. মাহফুজ।

এদিকে নতুন চারটি লঞ্চ ঈদে নদীপথে যুক্ত হলেও পুরাতন কয়েকটি লঞ্চ ফিটনেস, টাইম ও রুট পারমিট পেলেই ঈদযাত্রায় যুক্ত হতে পারে বলে জানা গেছে। পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের অন্যতম রুট নদীপথে ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবে যাত্রীদের চাপ খুব লক্ষণীয় থাকে। তাই বিশেষ উৎসবগুলোতেও অতিরিক্ত লঞ্চ যুক্ত করা হয়।

বিআইডব্লিউটিএ পরিবহন পরিদর্শক মো. মাহফুজ জানান, সদরঘাট থেকে দেশের ৪১টি নৌ-পথে লঞ্চ ছেড়ে যায়। বর্তমানে এসব রুটে প্রায় ১৮০টি লঞ্চ চলাচল করলেও ঈদ উপলক্ষে আরো নয়টি নতুন লঞ্চ আসবে। নতুন লঞ্চগুলো ফিটনেস, টাইম ও রুট পারমিট পেলেই ঈদযাত্রায় যুক্ত হবে বলেও জানান তিনি।

এরমধ্যে নতুন লঞ্চগুলো ঢাকা-বরিশাল, ঢাকা-পটুয়াখালী এবং ঢাকা-চাঁদপুর রুটে চলাচল করবে। ঢাকা-বরিশাল রুটে চলবে বাংলার টাইটানিক খ্যাত সুন্দরবন-১০ ও পারাবত-১২, ঢাকা-চাঁদপুর রুটে চলবে এমভি রিপল ও বোগদাদিয়া-৭। এছাড়া ঢাকা থেকে পটুয়াখালী রুটে চলবে এ আর খান।

বাকি পাঁচটি লঞ্চ ঈদ উপলক্ষে এসএম গ্রুপ দেশের বিভিন্ন নৌ-রুটে চলাচলের জন্য আনবে বলে জানিয়েছেন নৌ-নিরাপত্তা ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের (বিআইডব্লিউটিএ) যুগ্ম পরিচালক মো. জয়নাল আবেদিন।

তবে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল যাত্রী পরিবহন সংস্থার হিসাবরক্ষক মো. হান্নান খান জানান, ঈদ উপলক্ষে ১০ থেকে ১২টি নতুন লঞ্চ সদরঘাট থেকে ছেড়ে যাবে।

অন্যদিকে দ্রুতগতির লঞ্চ গ্রিনলাইন ঈদের সময় পূর্ব নির্ধারিত রুটিন অনুযায়ী চলাচল করবে। আর এ লঞ্চের যাত্রীদের জন্যও আগের ভাড়াই বহাল থাকবে বলে সদরঘাট নদীবন্দর সূত্রে জানা গেছে।