মেইন ম্যেনু

রোজা রেখে এনার্জেটিক থাকার কয়েকটি টিপস

বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে লক্ষ লক্ষ মুসলিম রোজা পালন করছেন। আমাদের দেশে এবার রোজায় দিনের দৈর্ঘ্যটা একটু বেশি। তাই এই প্রচন্ড গরমে রোজা রাখাটা বেশ চ্যালেঞ্জিং। পবিত্র মাস রমজানের রোজা রেখেও সুস্থ ও এনার্জেটিক থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য পরিপূর্ণ পুষ্টি উপাদান ও ভিটামিন সমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণ করা জরুরী। দিনে খাদ্য ও পানীয় গ্রহণ না করার ফলে এনার্জি লেভেল কমে যেতে পারে। এনার্জি কমে গেলে তা পেশাগত ও ব্যাক্তিগত জীবনে প্রভাব ফেলবে। তাই চলুন জেনে নিই সারাদিন রোজা রেখেও এনার্জেটিক থাকার কিছু কৌশল।

১। সেহরি খান

রমজানে এনার্জেটিক থাকা মূলত নির্ভর করে আপনি সেহরিতে কী খাচ্ছেন তার উপর। সেহরিতে আপনি যে চিনি ও গ্লুকোজ গ্রহণ করছেন তাই আপনাকে কয়েক ঘন্টা এনার্জি প্রদান করবে। তারপর আপনার শরীরের জমাকৃত গ্লাইকোজেন ও ফ্যাট থেকে এনার্জি সংগ্রহ করবে দেহ। রোজা রাখার জন্য সেহেরি খাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্যকর ও পেট ভরা রাখতে পারে এমন খাবারই খাওয়া উচিৎ সেহরিতে। যা সারাদিনে আপনার এনার্জি লেভেল ধরে রাখতে সাহায্য করবে। তাই সেহরিতে রুটি, ভাত, পাস্তা, আলু, ওটমিল, ডিম, ডাল, ফল, দুধ, দই, ইত্যাদি খাবার রাখুন। অনেকেই সেহরিতে কিছু খান না। এটা মোটেই ঠিক নয়। এনার্জি লেভেল ঠিক রাখার জন্য ভালভাবে সেহরি খাওয়া উচিৎ।

২। ইফতার

সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতারিতে আপনি যে খাবার গ্রহণ করবেন তা থেকেই দেহের কোষ ক্যালরি ও পুষ্টি উপাদান সংগ্রহ করবে যা আপনাকে এনার্জি ও জীবনীশক্তি প্রদান করবে। কয়েকটি খেজুর ও পানি খেয়ে ইফতার শুরু করুন। ফলের জুস বা ফল খেতে পারেন এবং ১ বাটি স্যুপ গ্রহণ করুন। খেজুর, জুস ও স্যুপ শর্করার ভালো উৎস এবং রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। শরীরের ইলেক্ট্রোলাইট ও তরলের ভারসাম্য রক্ষা করে লিকুইড খাবার। জীবনীশক্তি ও অধিক এনার্জির জন্য ইফতারিতে শর্করা, প্রোটিন, সবজি ও ফল খান। ইফতারিতে অল্প খাবার খেয়ে কিছুক্ষণ পরে ভালো করে রাতের খাবার খেয়ে নিন।

২। পুষ্টিকর খাবার খান

বেশিরভাগ মানুষই রোজায় হজমের সমস্যা যেমন- পেটফাঁপা থাকা ও কোষ্ঠকাঠিন্যের অভিযোগ করে থাকে। তাই সেহরি বা ইফতারে পরিমিত পরিমাণে খেতে হবে, ভাজাপোড়া খাবার অনেক বেশি খেয়ে ফেললে এই ধরণের সমস্যাগুলো দেখা দিতে পারে। শাকসবজি, ফলমূল, শস্য ও খেজুর খাওয়া উচিৎ বেশি পরিমাণে। শরীর তার প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান পাচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত করতে হবে। অধিক চিনি যুক্ত ও অধিক লবণ যুক্ত খাবার পরিহার করুন।

৩। প্রচুর পানি পান করুন

চা ও কফির উপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে ইফতার ও সেহরির মাঝামাঝি সময়ে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন।

৪। হাঁটুন

ইফতারের পরে ও ডিনারের পরে ক্লান্ত অনুভব করার পূর্বেই আপনার বাসার চারপাশে কিছুক্ষণ হাঁটুন। এতে মুক্ত বাতাসে সতেজ অনুভব করবেন আপনি।

৫। পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন

সুস্থ থাকার জন্য দৈনিক ৮ ঘন্টা ঘুমানো প্রয়োজন। যদি তা একবারে সম্ভব না হয় তাহলে দুইবারে অর্থাৎ রাতে ও দুপুরে সম্পন্ন করুন। দিনের বেলার নামাজের পরেই কিছুক্ষণ ১০-১৫ মিনিট ঘুমিয়ে নিতে পারেন। এতে আপনি এনার্জি অনুভব করবেন।

৬। হালকা ব্যায়াম করুন

ব্যায়ামের মাধ্যমেই আপনার শরীর গভীরভাবে দম নিতে পারে। সঠিকভাবে দম নিতে পারলে এনার্জি লেভেল ঠিক থাকে। রোজায় হালকা ব্যায়াম আপনার এনার্জি লেভেল বৃদ্ধি করবে। সেহরির ও ইফতারের পরে কিছুক্ষণ হাঁটলে সারাদিনে আপনার এনার্জি লেভেল ভালো থাকবে। তবে রোজা রেখে ভারী ব্যায়াম করা ঠিক নয়।

এছাড়াও দিনের বেলা সূর্যের তাপ এড়িয়ে চলুন। সকাল ১০ টা থেকে দুপুর ২ টা পর্যন্ত বাহিরে না যাওয়াই ভালো। কারণ এই সময়ে সূর্যের তাপ অনেক বেশি থাকে। সূর্যের তাপে ডিহাইড্রেশনের সমস্যা সৃষ্টি করে।